সারা যখন প্রথমবার উমরানকে দেখে, তখন সে জানতো না যে উমরান বিবাহিত, কিংবা সে কোনো সন্তানের বাবা। এমনকি লোকটা কে তাও জানতো না। কর্নেল কিবরিয়া, অর্থাৎ তার বাবার সাথে দরকারি কোনো কাজে দেখা করতে এসেছিল তাদের বাড়িতে। উমরান সারাকে সেভাবে খেয়াল না করলেও, সে খুব খেয়াল করেছে। সুদর্শন পুরুষটাকে দেখেই তার চোখ স্থির হয়েছিল সেদিন। পরে যখন জানতে পারে লোকটা শ্রেয়সীর স্বামী, তখন বিচ্ছিরি এক অনুভূতি হয় তার।
মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে এক দেখার ওসব মোহ। কিন্তু শ্রেয়সীর খোঁজ সংক্রান্ত, কিংবা আরও নানান কাজে বার কয়েক তাদের বাড়িতে আনাগোনা হয় উমরানের। ঐ সময়টায় মনটাকে আর বেঁধে রাখতে পারেনি। ছোট্ট উষশীর নানান অসুস্থতায় বাবা তাকে দেখতে গেলে, সাথে নিজেও চলে যেতো।
প্রথম প্রথম তার এই আগ্রহকে অন্য নজরে দেখেনি কেউ। না তো কর্নেল কিবরিয়া নিজে দেখেছেন। সারা উমরানের সম্পর্কে আরও জানতে, আরও বুঝতে -ওদের ওখানে যেতে চাইতো বেশি। পরে উমরানের নিকটাত্মীয়রাসহ তার বাবা মা উমরানকে দ্বিতীয় বিয়ের পরামর্শ দিচ্ছে শুনে। সাথে এও শুনল যে উমরান সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। কিন্তু তার বাবা মা উষশীর কথা ভেবে হলেও আরেক বিয়ের জন্য বারবার বলছিল। সারা সেসব জেনে যায় কোনোভাবে। ব্যাস সেই থেকে দেখা হলেই উষশীর প্রতি আলাদা এক যত্ন শুরু করলো। এবং তার উদ্দেশ্য সফলও হয়েছে।
সকলের নজরে এসেছিল বিষয়টা। আস্তে আস্তে প্রকাশ করলো উমরানের বাবা মা তাদের চাওয়াটা। কিন্তু কিবরিয়া সাহেব সরাসরি মানা করে দেন। শ্রেয়সীর স্বামী, সন্তান তিনি অন্য কাউকে দিতে চান না। এমনকি উমরানকে দ্বিতীয় বিয়ের যে পরামর্শ দেওয়া হতো তাতেও ছিল উনার ঘোর আপত্তি। উষশীর দেখাশুনায় সমস্যার কারণ দেখিয়ে উমরানকে আরেকবার বিয়ের কথা বললে তিনি নিজে খোঁজ-খবর নিয়ে এক বৃদ্ধাশ্রম থেকে রাইমাকে নিয়ে আসেন। সেই থেকে রাইমাই উষশীর সব দেখাশুনা করেছে। যেহেতু উমরানের মা নিজেও বিছানায় পরে ছিলেন কোমর এবং পায়ের গভীর আঘাতে। তাই রাইমার দরকারটা একটু বেশিই ছিল।
সারাকে নিয়ে ঐ প্রস্তাবে তিনি আপত্তি জানান। প্রথমত শ্রেয়সীর স্বামীর দ্বিতীয় বিয়েই তিনি চান না, তার উপর নিজের অবিবাহিত-অল্পবয়সী মেয়েকে কেন আগের পক্ষের স্ত্রী-সন্তান ছিল এমন কারো সাথে দেবেন? কিন্তু সারার মা মেয়ের মতিগতি আগেই বুঝেছিল। সাবধানও করে, কিন্তু মেয়ের জেদের সামনে টিকতে পারেন নি। নিজেই স্বামীকে বুঝাতে চাইছিলেন বারবার। এরই মধ্যে এসব উমরানের কানে যায়, আর সরাসরি প্রত্যাখ্যান আসলো তার দিক থেকে। সাথে ঐ আলাপ ওখানে স্থগিত না করলে খারাপ কিছু করার আশঙ্কা জানালো। তাই সেখানেই থেমে গেলো সবটা। কিন্তু সারার অনুভূতি থামল না। তা দিনে দিনে আরও গভীর হলো। যার পরিণতি আজ শ্রেয়সীর ফিরে আসার পরও উমরানকে ব্যক্তিগতভাবে পাওয়ার ইচ্ছে জারি রাখা।
_”এবার বেশি বেশি করছিস সারা। সামনে পেলে থাপ্পর লাগাব আমি তোকে। ওসব ভুত মাথা থেকে নামিয়ে ছাড়বো। লাজ শরম খেয়ে বসে আছিস বেয়াদব। আমি কালই তোর বাবাকে ওখানে পাঠাচ্ছি, চলে আসবি সাথে।”
_”দাও, হাজারটা থাপ্পর দাও। কিছু যায় আসেনা আমার। মেজর সাহেবকে আমার চাই। বাবাকে উল্টা পাল্টা বোঝালে খারাপ হয়ে যাবে বলে দিলাম। আমি এখন কোথাও যাবো না। এখানেই থাকবো। অনেকদিন থাকবো, সারাজীবন থাকবো। একদিন না একদিন আমার প্রতি দুর্বল হতেই হবে মেজর সাহেবকে।”
_”বেহায়া মেয়ে বউ বাচ্চা আছে ঐ লোকের। মানুষ বুঝে মাথা খারাপ করিস সারা। তুই এখন আর ছোট নেই। কিভাবে বোঝালে বুঝবি তুই আমাকে বল না মা।” কঠোরতার আড়ালে অসহায়ত্ব সারার মায়ের কণ্ঠে। উন্মাদ সারা সেসবে কর্ণপাত করলো না।
_”থাকুক। আগে তো সাপোর্ট করেছিলে মা। এখন কেন এমন করছ? তুমিও সাথে না থাকলে আমি কিভাবে কি করবো বলো? বাবাকে তো বুঝাতে হবে।”
_”তখন শ্রেয়সী ছিল না। এখন ও আছে। বুঝতে পারছিস তুই? স্বামী সন্তান নিয়ে পূর্ণ সংসার ওর। তুই একটু বিবেক দিয়ে ভাব সবটা। এমনটা হয়না সারা।”
_”কেন হবেনা মা? স্বামী সন্তান নিয়ে পূর্ণ সংসার তাতে কি? আমি তো ওর সংসার ভাঙছিনা। শুধু ওর মতো নিজেও একটা সংসার চাইছি। দুজনকে নাহয় আলাদা আলাদা রাখলো।”
সাথে সাথে সারার মায়ের বর্ৎসনা এলো ওপাশ থেকে,
_”হ্যাঁ, আর সেই সংসার ওর স্বামীর সাথেই চাইছিস তুই। বেহায়া কোথাকার! একটু হুশে আয়। তোকে আমি কিভাবে বোঝাই! যার পেছনে পরে আছিস সে একটা মেয়ের স্বামী হয়। বাচ্চা আছে ওদের একটা। এসব হয়না। সতীন নিয়ে সংসার করার কথা ভাবছিস গাধি মেয়ে?”
_”কেন হবেনা? তুমিও তো করেছ সতীনের সংসার। আমিও পারবো।” একঘুয়ে স্বর সারার। মা একটু বোঝানোর চেষ্টা করে,
_”যুগ বদলেছে সারা। আমাদের যুগ আর এই যুগ এক নেই। তাছাড়া তোর বাবা আর আমার সম্পর্ক শেষ হওয়ার পথে ছিল। তখনই অন্য কাউকে বিয়ে করেছে আমার অনুমতি নিয়ে। সেপারেশন থেকে ডিভোর্স না নিয়ে আবার ফিরেছি আমি। তাও তোর ছোট মা আপত্তি করেনি বলেই তোর বাবা আর আমার সম্পর্ক টিকে আছে। একটা মেয়েকে ঠকিয়ে এসব ঠিক না সারা। সুখী হবিনা তুই। আর তোর কি মনে হয় সতীন নিয়ে সংসার করা এতোই সহজ? মনকে অনেক শক্ত করতে হয়। আমার আর তোর বাবার মধ্যে বোঝাপড়ায় অনেকরকম সমস্যা। এখনো তেমনটাই চলছে। এত অনীহার মধ্যেও লোকটার অন্য সংসার আছে ভাবলে আমার বুকটা পুড়ে যেতে চায়। কত কষ্টে সব হাসিমুখে মেনে নেওয়ার মতো থাকি তুই ভাবতেও পারবিনা। পরিস্থিতির শিকারে আজ এসব সহ্য করছি আমি। সহ্য করতে হচ্ছে নিজের ভুলের জন্য। না চাইতেও শক্ত থাকতে হয়। তুই কিভাবে পারবি মা? অনেক সুন্দর জীবন অপেক্ষা করছে তোর জন্য। এভাবে হেলায় আর ভুল পদক্ষেপে শেষ করিস না। এখন ক্ষণিকের মোহে সতীনের সংসারও ভাবতে মিষ্টি লাগছে, যখন মোহ কেটে যাবে আফসোস করে কুল পাবিনা আর। সাথে উমরানও কোনোভাবে তোর ফাঁদে পা দিলে নির্দোষ দুটো মানুষও সারাজীবন ভুগবে। ঐ মেয়েটার স্বামী সন্তান ছাড়া আর কেউ নেই। সেই শেষ আর একমাত্র সম্বলটাতেই নজর দিচ্ছিস তুই। একটু ভেবে দেখ সারা। বাস্তবতা, আর বিবেক ধরে রেখে ভাব সবটা। আর মায়ের কথা শোন। মা নিশ্চয় তোর খারাপ চাইনা? একটু বোঝ। কাল তোর বাবা গেলে সাথে চলে আসিস। কোনো ঝামেলা পাকাস না ওদের মধ্যে।”
_”তুমি আমাকে বুঝতেই চাইছ না। আমার অনুভূতি তোমার কাছে মোহ! এর পর তোমার কথা শোনার আর প্রশ্নই আসেনা। আমার অনুভূতির মূল্য নেই তোমার কাছে। আর কিইবা আশা করবো? রাখো ফোন। আর কল দেবেনা আমাকে এসব বলতে। আর শুনে রাখো। বাবার সাথে আমি ফিরছিনা। পারলে বলো কাল যেন না আসে। আমি এখান থেকে মেজর সাহেবের সাথে ভালো কিছু স্মৃতি নিয়ে তবেই ফিরতে চাই।”
কেটে দিলো সে নিজেই। ফুলবাড়িতে এসে উঠেছে শুনেই মায়ের একের পর এক কল আসছিল। শেষে রুমে এসে স্থির হয়ে মায়ের সব কথা শুনল, সাথে নিজের সিদ্ধান্তও শুনাল। আর এই সিদ্ধান্তই তার শেষ সিদ্ধান্ত। এত তাড়াতাড়ি সে এখান থেকে যাবেনা। শ্রেয়সীর ফেরার পর থেকে মেয়ে, আর বউ নিয়ে এখন উমরানের সবটা ভালো চলছে ভেবে তার দুশ্চিন্তায় দিনরাত এক হয়ে যাচ্ছিল। কিভাবে কি করবে, কিভাবে উমরানের কাছাকাছি থাকবে, নিজের প্রতি কিছু অনুভব করাবে ভেবেই পাচ্ছিল না। ভাগ্যিস আগেই নিজের অসুবিধায় পাবলিক থেকে এসে আবার এখানে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে। নাহয় এত সহজ হতো না অল্প সময়ে সবটা ম্যানেজ করা। উমরান আর শ্রেয়সীর উপর হামলার দিন ওদের বিষয়টা ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই সে উন্মাদ হয়ে গেছিল। অস্থিরতায় একদিন হুট করে মেসেজও পাঠিয়ে দেয় আবোল তাবোল যা মনে আসে লিখে। পরে দেখলো ব্লক করে দিয়েছে তাকে। ব্যাস, আর থাকতে পারেনি। নাটক সাজিয়ে কোনোভাবে চলে এসেছে এখানে।
________
দু-চারদিন কেটে গেছে। সারা এখনো ফুলবাড়িতে। তার বাবা এসেছিল, কিন্তু সে যাইনি। সুস্থ হলে এখান থেকেই হোস্টেল চলে যাবে জানিয়েছে। উমরানের কাছাকাছি থাকতে চাইলেও সম্ভব হয়নি তা। কারণটা অবশ্যই উমরানেরই ব্যস্ততা। বাবা-ছেলে খুব একটা ফ্রি ছিল না এ কদিন। আজ একটু সময় পেয়েছে। বাড়িতেই আছে দুজন।
সবাই বসার ঘরে। শ্রেয়সী রান্নাঘরে কিছু করছে। উমরান কফির জন্য এসেছে সেখানে। নিজেই বানিয়ে নিলো কফি মেকারে। শ্রেয়সী মন দিয়ে কিছু রাঁধছে। তার রান্না নাকি সেদিন খুব পছন্দ হয়েছিল সবার। তাই নিজেই সব রাঁধার দায়িত্ব নিয়ে নেয়। উমরান কফিতে এক চুমুক দিয়ে বলে,
_”কাল সেশনে যাবে শ্রেয়সী? নাকি পরশু যেতে চাও?”
শ্রেয়সী ফ্রাইপেনে বেগুন ভাঁজা করছে। চামচ দিয়ে উল্টাতে উল্টাতে জানতে চায়,
_”ডাক্তার ডেট ধরে দেয়নি?”
_”দেয়নি তো। বলেছে সপ্তাহে দুদিন হলেই হবে। সুবিধা অনুযায়ী আগেভাগে জানিয়ে যেতে বলেছে।”
_”ওহ, তাহলে আপনি যেদিন ফ্রি থাকবেন সেদিনই যাবো নাহয়।”
উমরান কথা শেষে সম্মতি জানিয়ে চলে যেতে গিয়ে থেমে যায়। সারা এদিকটাই আসছে। মেয়েটাকে কোনোভাবেই তার সুবিধার মনে হয়না। শ্রেয়সীর আশেপাশে আসতে দিতে মন চায়না। সে কফির মগ হাতে ধীরে এসে দাড়ায় শ্রেয়সীর নিকট। শ্রেয়সী চুলগুলো পেঁচিয়ে ক্লিপে আটকে নিয়েছে যাতে কাজ করতে সুবিধা হয়। পিঠের উপরের দিকে বাদামি রঙা তিলটা চেয়ে আছে উমরানকে। সে ওখানে আঙ্গুল দিয়ে আঁকতে শুরু করে,
_”শ্রেয়সী?”
_”হু?”
_”কি করছ?”
_”বেগুন ভাঁজা।” চুলার দিকে ইশারা করে বলে সে।
_”মায়ের প্রিয়!”
_”হ্যাঁ। সবার যা যা পছন্দ সব রাধঁছি।”
_”আমার প্রিয় খাবার খাওয়াবেনা?”
_”রেধেঁছি তো।”
_”উহু, এটা না, অন্য কিছু খাবো।”
কি খেতে চায় জানতে পেছন ফিরতে নিচ্ছিল শ্রেয়সী। তার আগে পিঠের তিলে একজোড়া অধরের স্পর্শ পেলো, সাথে কানে এলো মোহনীয় ধীর কণ্ঠের আওয়াজ,
_”আজ ছয়দিন তাইনা? সুস্থ হয়েছ?”
শ্রেয়সী প্রথমে বুঝতে পারেনি। পরে বুঝে সারা অঙ্গ লাজে চেয়ে যায়। পেছনে ফিরল না আর।
_”এই…”
ধীর কণ্ঠ উমরানের। শ্রেয়সী মিহি কণ্ঠে সাড়া দেয়,
_”হু?”
_”সুস্থ হয়েছ?”
_”হ হ্যাঁ।”
কম্পিত কণ্ঠে কথাটা বলতেই কানের লতিতে হালকা করে জিহ্বার স্পর্শ পেলো। চোখ ভিজে যায়, লাজের রঙে গালে আগুন ধরে গেল। উমরান জানে কীভাবে ছুঁলে গভীরে না গিয়েও কোমল স্পর্শে প্রেম আবেগ জাগানো যায় স্ত্রীর মনে। শ্রেয়সীর সবকিছু তার নখদর্পণে।
_”আজ রাতে তোমাকে লাগবে জান। আমি আসার আগে উষশীকে ঘুম পাড়িয়ে রাখবে ঠিক আছে?”
লাজে লাল মুখ, হৃদয় বুঁদ হয়ে, শ্রেয়সী তখন ধীরে ধীরে উমরানের বুকে শরীর রেখে দিল। তা দেখে উমরান হালকা করে হাসে। পেছন থেকে মুখের উপর আসা চুল কানের পেছনে গুঁজে দিয়ে বলে,
_”তুমি কি জানো প্রথমবার যখন আমরা কাছাকাছি আসি তখন তুমি নিজেই আমাকে চাইছিলে?”
শ্রেয়সী সাথে সাথে ঘাড় ফিরিয়ে তাকায়। দু-সেকেন্ডের মতো চোখাচোখি হয়। তারপর ঐ মদ্যপ নয়ন দুটো হতে চোখ ফিরিয়ে নেয় সে। তবে অস্বীকার করলো,
_”মিথ্যা কথা। আমি কি পাগল নাকি যে এমনটা চাইব নিজ থেকে? কত ছোট ছিলাম তখন!”
_”উহু, তুমি পাগল না। তুমি তো আমার বোকা শ্রেয়সী। চুমু কিভাবে খায়, কেন খায় - জানতে আমার উপর এক্সপেরিমেন্ট করেছিলে, আমাকে পাগল করে ছেড়ে দিয়ে অবুঝ সাঁজছিলে। আবার এখন অস্বীকার করা হচ্ছে। তুমি মেয়েটা আমায় কম জ্বালাওনি শ্রেয়সী। এখনো বিয়ের পর প্রথম প্রথম কতো কষ্টে কাছাকাছি থেকেও দূূরত্ব বজায় রাখতাম ভাবলে নিজের উপর মায়া হয়।”
_”আপনি প্লিজ এখান থেকে যান। আর কিছু পাচ্ছেন না স্মৃতিচারণ করার জন্য!” লাল হয়ে এসেছে তার কান দুটো লজ্জ্বায়।
_”পাবো না কেন কিছু। আমার সব মনে আছে। একটা সেকেন্ডও ভুলিনি। কিন্তু বিশেষ মুহূর্তগুলো মনে করতে আলাদা প্রশান্তি লাগে।”
এ পর্যায়ে শ্রেয়সীর একটু কৌতূহল জাগল তাদের এই ছোট ছোট বিষয়গুলো জানার। সে ফের ঘাড় ফিরিয়ে আগ্রহী নয়নে জানতে চায়,
_”আচ্ছা, বিয়ের পর প্রথম রাতে আমাকে কি উপহার দিয়েছিলেন আপনি? ওটা এখন কোথায়?”
উমরান গ্যাসের সুইচ বন্ধ করে জবাব দেয়,
_”প্রথম রাতে তোমাকে একটা বিশ্বস্ত বুক উপহার দিয়েছিলাম। আর কিছু দিইনি। তুমি আমার বুকে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছিলে। আর আমি রাত জেগে তোমাকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিলাম। এই যে এখন, যে বুকে নিজেকে ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে দাড়িয়ে আছ? ওটাই তোমাকে সপে দিয়েছিলাম সেদিন।”
_”অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ নাকি লাভ ম্যারেজ?”
_”কোনোটাই না। ওটা ম্যানিপুলেটিভ ম্যারেজ ছিল। আমি তোমাকে নিজের ভেবে নিয়েছিলাম বড়রা সময় হলে তোমাকে আমার কাছে দিয়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছিল জেনে। ভালোবাসা উপলব্দি করিনি তখনও। আর তুমিও ছোট ছিলে। কিন্তু আমার তো বউ দরকার ছিল। তাই কিবরিয়া স্যারের কাছে জেদ ধরে রাজী করিয়েছিলাম। আর আমার বোকা শ্রেয়সীকে উল্টা পাল্টা বুঝিয়ে হাত করে নিয়েছিলাম। ম্যানিপুলেশন যাকে বলে। সেও গলে গেলো, ব্যাস সেদিন বিকেলেই বিয়ে করে নিলাম।” রাওফানদের কোনো কথা জানাল না। তাদের অস্তিত্বহীন রেখেই সবটা বললো।
_”একে তো করেছেন বাল্য…”
ওষ্ঠ দুটো আটকা পড়লো তার কথা শেষ করার আগেই। ছাড়া পেতেই অধর মুছে শ্রেয়সী ফের বলে,
_”বিবাহ, তার উপর স্বীকারও ক…”
আবার আটকা পড়লো। সময় নিয়ে ছেড়ে উমরান নিজেই বলে,
_”চুপ। কয়বার বলবো এসব কথা বলবেনা আর। উফ, তোমাকে স্মৃতিচারন করিয়েও শান্তি নেই। এজন্য তুমি কিছু জানতে চাইলেও বলতে চাইনা আমি। আবার না বললেও ভ্যা ভ্যা করো।” বিরক্তি তার কণ্ঠে। শ্রেয়সী তাদের বিয়ে নিয়ে, অতীত নিয়ে হাজার রকম প্রশ্ন করে। কিন্তু সে মনখুলে অল্প কিছু বললেও পরে গিয়ে এই মেয়ে সেই এক বিষয়ের খোটা দেবে বারবার।
শ্রেয়সী ঢোক গিলে হাতের উল্টোদিকে অধর মুছতে মুছতে বলে,
_”বাহ, আপনি করতে পারবেন, আমি বললেই দোষ।”
উমরান তাকে নিজের দিকে ফিরিয়ে নেয় মাথার পেছনে চুলের গোঁড়া শক্ত করে ধরে, অধরজোড়ার নিকটে এসে বলে,
_”হ্যাঁ দোষ, আমি করেছি সেটাও দোষ, তুমি বলেছ ওটাও দোষ। দোষে দোষে কাটাকাটি। তাই ওসব কথা আর তুলবেনা।”
_”বাহ বাহ! মেজর সাহেবের লজিক শুনে আমি শিহরিত।”
_”এত অল্পতেই শিহরিত হয়ে যাচ্ছ? রাতে তো কাছে আসলে বিছানায় নাগিনের মতো গাঁ মুচড়াতে মুচড়াতে কুল পাবেনা। পাগল করে যখন ছেড়ে দেবো তখন বুঝবে কথায় কথায় খোঁচা দেওয়ার মজা।”
_”ইশ!! পাগলের মতো কে করে বেশ জানা আছে আমার। রাতেও দেখা যাবে কে কাকে পাগল করে সেটা। এখন এখান থেকে যান, অনেক রান্না বাকি আছে, আপনার কফিও ঠাণ্ডা হয়ে কিছু বাকি নেই আর। যান তো!”
শ্রেয়সী ছাড়িয়ে নিলো নিজেকে। উমরান আর কথা বাড়ায় না। বউয়ের কপালে অধর ছুঁইয়ে চলে আসে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘনিষ্ঠ কথা বার্তা শুরু করেছিল যদিও, কিন্তু কথার তালে ওসব মাথায় ছিল না তার। চলে আসতে গিয়ে সারাকে দেখতে পেলো। অশ্রুজলে ভর্তি চোখদুটোতে ঈর্ষা স্পষ্ট। তাকে দেখে উমরানের মুখ দিয়ে আপনা আপনি বিচ্ছিরি একটা গালি বের হলো। যদিও সে ছাড়া কেউ শুনতে পায়নি গালিটা। কিন্তু বিরক্তিভর্তি চেহারাখানা, আর ঠোঁটের নড়চড়ে সারা বুঝে নিয়েছে তার উদ্দেশ্যে উচ্চারণ করা শ্রুতিকটু শব্দ দুটো।
________
অর্ণবের বাড়ি থেকে মেডিকেল চলে আসার বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেছে। মাত্র হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছে সে। ওয়ার্ড রাউন্ডে কনসালটেন্ট লেড, আর হেভি ওপিডি থাকায় ভীষণ ব্যস্ত কেটেছে সারাটাদিন। তার উপর সব শেষে বাজারে যাওয়ার ঝামেলা তো ছিলই। আরও কিছু কাজ সেরে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত সাড়ে নয়টার ঘর ছুঁয়েছে তখন। যদিও এসব নতুন না। যত ব্যস্ত দিন কাটে ততই স্বপ্ন পেশা উপভোগের অনুভূতি পায় তারা।
কয়েক বন্ধু মিলে থাকে বাসায়। সবাই এই ব্যাচেলর বাসাটি নিয়েছিল। সবাই আগেপরে করে নিজেদের নানান কাজ সেরে ফিরেছে। বুয়ার হাতে রান্না খায়না তারা। কাজ ভাগাভাগি করে থাকে। একেকদিন একেকজনের রান্নার দায়িত্ব। অর্ণবের নেই আজ। সে ফ্রেশ হয়ে গাঁ এলিয়ে দিয়েছে বিছানায়। চোখ বন্ধ করে শুয়ে ছিল, মিনিট কয়েক পার হতেই কারো কল এলো। ফোন হাতে নিয়ে দেখে বাড়ি থেকে এসেছে। চাচীর ফোন থেকে কল দেখে ভেবে নিলো মায়ের ফোনে ডাটা শেষ হয়েছে। সে রিসিভ করে,
_”হ্যাঁ, চাচী। কেমন আছ?”
কিন্তু জবাব এলো না। উল্টো কান্নার স্বর শুনতে পেলো কারো। অর্ণবের ভ্রু টানটান হয়। কানে চেপে বোঝার চেষ্টা করে সে। বিছানা থেকে উঠে বসেছে ইতোমধ্যে। গলাটা তূর্ণার না? হ্যাঁ, তূর্ণার কণ্ঠ চিনতে ভুল হয়না তার,
_”হ্যাঁলো… তূর্ণা? কাদঁঁছিস কেন? কি হয়েছে?”
তূর্ণা নাক টেনে কিছু বললো। কিন্তু অর্ণবের তার কিছুই বোধগম্য হয়নি। কান্নার ধমকে কথা বলতে পারছেনা সে। অর্ণব ফোন সামনে এনে দেখে, আবার কানে ঠেকায়,
_”তূর্ণা? কি সমস্যা কাঁঁদছিস কেন? কোথায় তুই?” বিচলিত কণ্ঠ তার। রাতের এই সময়ে মেয়েটা তাকে ফোন দিয়ে কাঁঁদছে কেন? বাড়িতে নেই নাকি? যাবে কোথায় তাহলে? বাড়ির কেউ জানেনা? কোন বিপদ হলো না তো! অর্ণবের মাথা আওলিয়ে যাচ্ছে নানান চিন্তায়,
_”এই তূর্ণা? কি হয়েছে তোর? কোথায় আছিস আমাকে বল। বাড়িতে আছিস নাকি বাইরে?”
তূর্ণা নাক টেনে আবার কিছু বলে কিন্তু অর্ণব বিরক্ত হয়। হড়বড়িয়ে জানতে চায়,
_”থাপ্পর দেবো বেয়াদব। কান্না থামা। সুন্দর করে কথা বল। সবার আগে এটা জানা এই মুহূর্তে কোথায় তুই? বাড়িতে আছিস নাকি বাইরে?”
_”বাড়ি। বাড়িতে।” কাঁঁদতে কাঁঁদতে কোনোভাবে জবাব দিলো সে।
অর্ণব স্বস্তির শ্বাস ফেলে।
_”বাকিরা নেই?”
_”আছে।”
_”কিছু হয়েছে কারো?”
_”না, ঠি ঠিক আছে সবাই।” কান্নার ধমকে কেঁপে কেঁপে উঠছে তার কণ্ঠ। অর্ণব কুঞ্চিত ললাটে জানতে চায়,
_”তাহলে কাঁদছিস কেন? কেউ কিছু বলেছে?”
তূর্ণা প্রশ্নটা শুনেই একসাথে অনেক কথা বলে ফেললো। থামাথামি নেই। অভিযোগ করছে কোনো বিষয় নিয়ে। কিন্তু অর্ণব তার কাঁঁদতে কাঁদতে গালের ভেতর বলা কথাগুলোর একটা শব্দ বুঝল না। সে তূর্ণা থামতেই বলে,
_”ভিডিও কল দিচ্ছি, রিসিভ কর তুই।”
বলেই কেটে দিলো। তারপর আবার দিলে তূর্ণা রিসিভ করে ঘরের লাইট জ্বালিয়ে।
চোখ দুটো লাল হয়ে ফুঁলে গেছে তার। নাকটাও কান্নার ফলে টকটকে লাল করে বসে আছে। থেকে থেকে ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠছে। অর্ণব ধরে নিলো বাড়িতে কেউ বকা দিয়েছে, তাই অসময়ে কাঁঁদতে বসেছে চাচীর মেয়ে।
নতুন তো হচ্ছেনা এমনটা। প্রত্যেকবার এমন বিচার নিয়ে ফোন দেয়। আর সে প্রথমে কি না কি হলো ভেবে বিচলিত হয়। তূর্ণার মুখে কি হয়েছে শুনে তবেই শান্ত লাগে নিজেকে।
_”ফোন রেখে মুখ ধুঁয়ে আয়। পাগলের মতো চেহারা বানিয়েছিস কান্নাকাটি করে।” তূর্ণা অমান্য করলো না। সুন্দর করে সব বলতে আগে কান্না থামাতে হবে। মিনিট কয়েক সময় লাগিয়ে মুখ ধুঁয়ে আসে। তারপর ঠিকঠাক হয়ে বসে ক্যামেরার সামনে।
_”এবার বল, কে কি বলেছে?”
_”বাবা-মা আমাকে বিয়ে দিয়ে দিতে চাইছে অর্ণব ভাইয়া। আমি আজ শুনে নিয়েছি ওদের কথা। নিশান ভাইয়ার সাথে নাকি আমাকে বিয়ে দিয়ে দেবে। আমি এখনো স্কুল শেষ করতে পারিনি এখনই বিয়ে দিয়ে দিতে চাইছে ওরা। আমি কি খুব বোঝা হয়ে গেছি তোমাদের কাছে?” বলতে বলতে ঠোঁট ভেঙে এলো তার। নিজেকে সামলে সে বলে,
_”বাবা-মা আমাকে একটুও বিশ্বাস করেনা। ভেবেছে আমি কলেজে উঠলেই কারো সাথে প্রেম করবো। কলেজে উঠার আগেই নাকি আমার কোনো একটা ব্যবস্থা করবে। নাহয় কলেজেই দেবেনা। ওরা কিভাবে এসব চিন্তা মাথায় আনে? আমাকে একটু…”
_”কবে আর কে বলেছে এসব?” কথা শেষ করার আগে অর্ণবের প্রশ্ন কানে এলো। তূর্ণা অভিযোগের কণ্ঠে বলে,
_”বাবা-মা আরকি! সোফায় বসে বসে ফোন দেখছিল বাবা। নিউজ দেখেছে কোন মেয়ে বাড়িতে প্রেমিকের সাথে বিয়ে দিতে না চাওয়ায় আত্মহ ত্যা করেছে। তারপর থেকেই নীরব ছিল। মা এসে চেহারা এমন দেখাচ্ছে কেন জিজ্ঞেস করলে জানায় আমাকে কলেজে উঠার আগেই ভালো ছেলে দেখে কাবিন করিয়ে দেবে। বাবার সাথে সাথে মা-ও তাল মেলায়। সাথে সাথে নিশান ভাইয়ার কথা তুলে। মামা-মামী নাকি আমাকে নিশান ভাইয়ার সাথে বিয়ে দিতে চায়। আচ্ছা আমি তো এখনো অনেক ছোট। এসব কিভাবে চিন্তা করে ওরা?”
কথা শেষ করতে না করতেই টুট টুট শব্দে ফোন কেটে গেলো। তূর্ণা ভাবলো নেটওয়ার্ক সমস্যায় কেটেছে। সে আবার ফোন লাগাতেই অর্ণব কেটে দেয় ওদিক থেকে। ভুলে কেটে দিয়েছে ভেবে আবার দিতেই বিজি দেখাল। তূর্ণা আশ্চর্য হয়। কথার মাঝে অর্ণব ভাইয়া কোনোদিন ফোন কাটেনা। তার সব কথা শুনে প্রত্যেকবার। আবোল তাবোল যা যা বলে সব শুনে। হঠাৎ কেটে দিলো কেন? আবার তার সব কথা না শুনে অন্য কাউকে ফোন করছে।
অভিমানের ঘরা পূর্ণ হয় তার। কেউ তাকে বুঝতে চাইছেনা। বাবা-মা বিয়ে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে, আর অর্ণব ভাইয়া তূর্ণার হয়ে বাড়িতে কাউকে বোঝাবেনা এটা জানান দিতে কল কেটে দিলো।
সবাই তূর্ণার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এভাবে? মায়ের ফোন চুপিচুপি বসার ঘরে সোফায় রেখে এসে দরজায় খিল লাগিয়ে ফের কাঁদতে বসে সে।
_________
_”হ্যাঁ বল অর্ণব। ভালো আছিস? খাওয়া দাওয়া হয়েছে বাবা?”
_”ঠিক আছি মা, বাড়িতে কার বিয়ের কথা চলছে?”
তার মা একটু চমকাল অর্ণবের গম্ভীর কণ্ঠে। এর মধ্যে এই ছেলের কানেও চলে গেলো?
_”তোকে কে বলেছে?”
_”কে বলেছে সেটা পরের বিষয়। আমাকে এটা বলো কার বিয়ের কথা হচ্ছে, আর কেন হচ্ছে?”
অর্ণবের মা তূর্ণার এমন অল্পবয়সে বিয়ের কথা তোলায় ছেলে-মেয়ে সবাই আপত্তি করবে জানতো। বিশেষ করে অর্ণব তো শুনেই রেগে যাবে এসব কথা কানে গেলে। উনার ছেলেটা আবার সবদিক খেয়াল রাখা পুরুষ কিনা? আগে থেকেই ভাই-বোনেদের প্রতি একটু বেশি যত্নশীল। এমনকি বড় বোনকেও ছোটদের মতো আগলে রাখার স্বভাব তার। মৌরির চলে যাওয়ার পর তো সেসব আরও বেড়ে গেলো ভাই বোনেদের প্রতি। তূর্ণার এমন অল্পবয়সে বিয়ে কোনোদিনও ছেলে-মেয়েরা মানবেনা জানতো।
_”আর বলিস না বাবা। তোর চাচা তূর্ণাকে কলেজে দেওয়ার আগে ভালো ছেলে দেখে বিয়ে পড়িয়ে রাখবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মৌরির চলে যাওয়ার পর। তোর বাবা মেয়েটাকে একটু চাপে রাখলেও এমনটা চায়নি। বুঝিয়েছে আজ ওসব শুনার পর। কিন্তু তোর চাচা কোনো রিস্ক নিতে চায়না মেয়েকে নিয়ে। তার কথা পবিত্র সম্পর্কে থাকলে আলতো ফালতু চিন্তা মাথায় আসবেনা মেয়ের। না তো মেয়ে হারানোর ভয় থাকবে। তাই ভালো ছেলে দেখে বিয়ে পড়িয়েই রাখবে তার এক কথা। এসব কথা তো টুকটাক আগে থেকেই হতো। আজ কি যে হলো, হঠাৎ এসব আলোচনার জন্য তোর বাবার সাথে বসে। অনুমতি চায় তার কাছে। তোর চাচীও নিজের ভাই ভাবি থেকে আগেই প্রস্তাব পেয়েছে মেয়ে দেওয়ার। মৌরিকে চেয়েছিল, ওকে পায়নি। এখন তূর্ণাকে চায়। তাদের এ বাড়ির মেয়েই চায়। এখন কি আর করবো বল?”
অর্ণবের কোনো উত্তর এলো না বিপরীতে। শুধু গম্ভীর শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দ। তার মা কল কেটে গেছে ভেবে ফোন হাতে নিয়ে দেখে। না, লাইনে আছে,
_”হ্যাঁলো… শুনতে পাচ্ছিস অর্ণব?”
_”পাচ্ছি, বাবা কোথায় এখন?”
_”তোর বাবা? সে তো এখনো ফিরেনি। তোর বাবা, চাচা কেউ ফিরেনি। এসব নিয়ে কথা বলতে চাইছিস নাকি?”
তারপর আবার বলে,
_”দেখ পারিস কিনা কিছু বোঝাতে। এক মেয়ের ভুলে আরেকজনকে ভুগতে তো দিতে পারিনা এভাবে তাইনা? পুরো জীবন পরে আছে ওর। এখনও দুনিয়া বুঝল কই? তাছাড়া বোনের সব কিছু জানার পর ওসবের সাহস করবে আর? সেদিন তো অনেক বোঝালাম। আমাদের তূর্ণা খুব বুঝদ্বার। তার উপর যেভাবে সব কিছু চোখে চোখে রাখা হয় ওর। ওসবের সুযোগ পাবে কই বলতো? একজনের ভুলে আরেকজন কিছু না করেও শাস্তি পেলে এটা অবশ্যই ওর উপর অন্যায় হবে। বোঝাতে পারলে বোঝা তোর চাচাকে।”
_”পরে কথা বলছি। এখন রাখো।”
কেটে দিলো সে আর কিছু না বলে।