ফিরে দেখা

পর্ব - ৭

🟢

স্কুল ছুটি হলে সাইফুল শেখ মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। রাগে তার সারা শরীর যেন জ্বলছে আগুনে। দরজা পেরিয়েই তিনি হম্বিতম্বি শুরু করে দেন। তার চিৎকারে ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে যায়। শব্দ শুনে নিলুফার বেগম ও সোহা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করেন—

-"কি হয়েছে? এত চেঁচামেচির কারণ কী?"

সাইফুল শেখ চোখে মুখে ক্রোধ মেখে চেঁচিয়ে উঠলেন—

-"আজকালকার ছেলেমেয়েদের কোনো সম্মান বোধ নেই! রাস্তাঘাটে মেয়েমানুষ নিয়ে ফুর্তি করে বেড়ায়, আর বয়স্ক মানুষদের একটুও মান্য করে না।"

বলেই তিনি আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালেন না, সোজা নিজের ঘরের দিকে চলে গেলেন ধাপ করে দরজা লাগিয়ে। নিলুফার বেগম ও সোহা বিস্ময়ে একে অপরের দিকে তাকালেন। তারপর দুজনেই সাবার দিকে ঘুরলেন। চোখে প্রশ্ন ঝলসে ওঠে—

ফিরে দেখা গল্পের ইমেজ - বাবা ক্ষেপেছেন মেয়ে ও মায়ের উপর

-"কি হয়েছে সাবা? ঠিক করে বল তো!"

সাবা একটু ভয়ে ভয়ে সবকিছু খুলে বলে দেয়। তার কণ্ঠে ছিলো একধরনের দ্বিধা, আবার মৃদু উত্তেজনাও। সবটা শোনার পর সে বলল—

-"আমি তো কিছুই বুঝে উঠতে পারি নি, বাবা এক ঝটকায় আমাকে নিয়ে স্কুলে ঢুকে পড়লেন। ছেলেটা কিছু বলার আগেই উনি চলে গেলেন।"

-"দেখো আম্মু, বাবা শুধু শুধু রাগ করছেন। ছেলেটা ঠিকই বাবাকে দেখেনি, কিন্তু সেটা বলে তো তাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে একের পর এক থাপ্পড় মেরে দিলেন, আবার অপমানও করলেন।" সাবা মুখ ভার করে বলল।

-"কি বলছিস? থাপ্পড় মেরেছে?" নিলুফার বেগম একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন।

-"হ্যাঁ, আম্মু। ছেলেটা ভালোই ছিল। না হলে এই থাপ্পড় মারার জন্য তো বাবাকে জনসম্মুখে হেনস্থা করতে পারত। কিন্তু ছেলেটি এমন কিছুই করেনি।

-"হুম, ঠিক বলেছিস। তোর বাবার এই রাস্তা-ঘাটে সবাইকে খারাপ ভেবে শিক্ষা দেওয়ার স্বভাব আর গেলো না। ওনাকে নিয়ে আমার হয়েছে যত জ্বালা।"

এই কথাগুলো বলতে বলতে নিলুফার বেগম রান্নাঘরে ঢুকে পড়লেন সরবত বানানোর জন্য। নিলুফার বেগম চলে যাওয়ার সঙ্গে সাথেই সাবা সোহাকে টেনে ধরে বলল—

-"জানিস আপু, ছেলেটা দেখতে মারাত্মক!" সাবা চোখ বড় বড় করে বলল।

সোহা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল তার দিকে। সাবা এবার ওকে হালকা করে ঝাঁকিয়ে দিয়ে বলল—

-"হ্যাঁ, সত্যি বলছি আপু। গায়ের রং একেবারে ফর্সা, ছয় ফুটের মতো লম্বা। চোখের দিকে তাকালেই যেনো ভিতরটা কেমন করে ওঠে... নেশার মতো! চিকন পাতলা ঠোঁট... আর কালো, ঝকঝকে চুল ব্যাক ব্রাশ করে পরিপাটি করে রাখা। উফ, পুরোটাই একেবারে ক্রাশ!"

সোহা হেসে বলল—

-" তোর বাবা যখন ছেলেটাকে মারল, তখন তুই বাধা দেওয়ার বদলে ওর রূপে ক্রাশ খেয়ে বসে আছিস? বাহ্ সাবা! এখন বাবাকে বলব?"

-"আরে না না! প্লিজ বলিস না আপু। তবে একটা কথা বলি, ওই ছেলেটা কিন্তু তোর সঙ্গে ভীষণ মানাবে!"

সোহা এবার হেসে উঠল,উঁচু স্বরে, প্রাণখোলা এক হাসি। তারপর বলল—

-"আমার সঙ্গে মানাবে? আমাকে দেখেছিস তুই? আমি তো কালো, তার ওপর কোনো গুণও নেই। আর তুই কিনা এমন এক রাজপুত্তুর টাইপ ছেলের সঙ্গে আমায় জুড়ে দিচ্ছিস!"

বলেই সোহা ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। পেছন থেকে সাবা চিৎকার করে বলল—

-"মোটেও না! তুই কালো নোস, তুই শ্যামলা মায়াবতী। খবরদার, আর কখনো আমার বোনকে হেও করে কিছু বলবি না। না হলে আমি তোকে ছেড়ে কথা বলব না, হুম!"

সোহা বোনের কথা শুনে মৃদু হেসে উঠলো। হাসিতে লুকানো ছিল অবিশ্বাস আর একটুখানি আনন্দ।

এই মুহূর্তে সোহার পরীক্ষা শেষ হয়েছে। সে আবার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে উঠেছে। পাশাপাশি, নীরবে ফ্রান্সে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফ্যাশন ডিজাইন নিয়েই সেখানে পড়তে চায় সে। পুরো বিষয়টি পরিবারের কারও জানা নেই, শুধু সাবা ছাড়া। এ নিয়ে দিনরাতই ব্যস্ত সময় কাটছে সোহার।

এই ব্যস্ততার মধ্যেই একদিন হঠাৎ তানভীর নামের এক যুবকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে তার, যে কিনা ওরহানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই ছোট্ট ঘটনাটিই সোহার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ওই দিনের পর থেকেই সোহা চলে আসে ওরহানের নজরে।

এর কিছুদিন পর, একদিন সোহাকে তার বাবার সঙ্গে রাস্তায় দেখে ফেলে ওরহান। সেই দৃশ্য যেন তাকে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ করে তোলে। সেই শুরু, এক অদ্ভুত প্রতিশোধপরায়ণ প্রেমে মত্ত হয়ে ওঠে ওরহান। নানা কৌশলে, নানা ভঙ্গিতে সে সোহাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে থাকে। কিন্তু সোহা প্রতিবারই দৃঢ়তার সঙ্গে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপর ঠিক কী হয়েছিল, আমি জানি না।

শুধু মনে আছে, একদিন আমাদের এক প্রতিবেশী লোক হঠাৎ বাবার কাছে এসে হাজির হয়। সঙ্গে একটি ছবি, যেখানে দেখা যায়, ওরহান হাঁটু গেড়ে বসে সোহার একটি হাত ধরে রেখেছে, যেন কোনো নাটকীয় প্রেম নিবেদন চলছে। সেই ছবি দেখিয়ে প্রতিবেশী লোকটি বাবাকে একরকম অপমানই করে বসেন।

-"মেয়ে দিয়ে ব্যবসা করছেন সাইফুল সাহেব! বড়লোক ছেলের পিছে লেলিয়ে দিয়েছেন! কী চমৎকার শিক্ষা দিয়েছেন মেয়েকে!”

এই কথাগুলো ছুঁড়ে দিয়ে বাবাকে একের পর এক অপমান করেছিল প্রতিবেশী লোকটা। অথচ বাবা একটিবারও সত্যতা যাচাই করেননি। সেদিন রাতেই, কোনো কথা না শুনে, অন্ধ রাগে আপুকে মারতে শুরু করেন। আমি চিৎকার করেছিলাম, ছুটে গিয়েছিলাম... কিন্তু মা আমাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন। আমি আর রক্ষা করতে পারিনি আমার আপুকে।

সেই রাতে বাবা যেন সমস্ত ঘেন্না ঢেলে দিয়েছিলেন তিনি তার মেয়ের ওপর। একটিবারও ভাবেননি, তাঁর মেয়ে কতটা নির্দোষ। তাঁর নিজের রক্তকে, নিজের আদরের সন্তানকে অবিশ্বাস করেছিলেন তিনি। কোনো কথা শোনেননি। শুধু অপমান, আর কুৎসিত সব কথা ছুঁড়ে দিয়েছিলেন আপুর দিকে। আপু অনেক কেঁদেছিল সেদিন। বুক ফেটে কান্না এসেছিল তার। আমি তখন শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছি, নিঃশব্দে কেঁদেছি।

আপুর সেই কান্না আকাশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তাই তো সেদিন রাতেই আকাশ ভারী হয়ে এলো। নেমে এলো অঝোর বৃষ্টি। যেন উপরওয়ালাও কেঁদে ফেলেছিলেন, আপুর দুঃখে।

আর ঠিক সেই বৃষ্টিভেজা রাতেই, বাবা, নিজের রক্ত মাংসে গড়া মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। আমি ভেবেছিলাম আপু হয়তো তার কোনো বন্ধুবান্ধবের কাছে গেছে। কারণ আমি জানতাম, ওরহানের প্রেমের প্রস্তাব সে কখনোই গ্রহণ করেনি। বারবার সে প্রত্যাখ্যান করেছিল তাকে। সে বলেছিল—"উনি চাইলে বাসায় প্রস্তাব পাঠাক।"

অথচ, জানি না এরপর কী ঘটেছিল।

ফিরে দেখা গল্পের ইমেজ - বাবা ক্ষেপেছেন মেয়ের উপর

দুদিন পরে আমি আপুকে খুঁজতে বের হই, কিন্তু আপুকে আর কোথাও খুঁজে পাইনি কোথাও না। আমি গিয়েছিলাম ওরহানের কাছেও, কিন্তু সেও কোনো হদিস দিতে পারেনি। আপু যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিল।

আপু হারিয়ে যাওয়ার বছর খানেক পর সেই প্রতিবেশী নিজেই স্বীকার করল, সে নাকি বাবার গর্ব সহ্য করতে পারেনি, তাই হিংসায় নোংরা অভিযোগ তোলে। যে ছবিটা দেখিয়েছিল, সেটায় কোনো অশ্লীলতা ছিল না। আপু নাকি তখনও সেই প্রপোজাল স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছিল, এটাও সে নিজেই স্বীকার করল।

কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। আপু হারিয়ে গিয়েছিল, চিরতরে। তখন আমি বাবাকে বলেছিলাম—

-"দেখেছ! আমি সেদিনই বলেছিলাম, আমার বোন চরিত্রহীন নয়। কিন্তু তোমরা কেউ বিশ্বাস করোনি।

কোনো কথা না শুনেই নির্মমভাবে বের করে দিয়েছো তাকে। মেরেছো, লাঞ্চিত করেছো, ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছো, আজও আমি সেই মুহূর্তের কথা ভাবলে কেঁপে উঠি! ঘেন্না করি তোমাদের, তোমাদের মতো বাবা-মা আর কারো যেন না হয়!"

সাবার গলা বাষ্পে আটকে আসে। কথাগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে যেন বুক ফাটানো এক দীর্ঘ নিঃশ্বাসের মতো।

-"সেই দিনের পর থেকেই আমি তাদের সঙ্গে কোনো কথা বলিনি। শুধু দায়িত্ববোধ আর মানসন্মানের কথা ভেবেই ওই বাড়িতে রয়ে গেছি। আজও আমি তাদের চোখে চোখ তুলে তাকাই না। আমি ওরহানের সাথে দেখা করার পর সে একাধিকবার এসেছিল আপুর খোঁজে, কিন্তু বাবা তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল ঘৃণার দৃষ্টিতে। আমার বাবার একটি ভুল, হ্যাঁ, শুধুমাত্র একটি ভুলের জন্যই আমার আপু, আমার বুকের ধন, সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে।

এই দায় একা বাবার নয়, এই দায় ওরহানকেও নিতে হবে। সে কেন আর কিছু করল না? সে কি জানত না, একটি মেয়ের সম্মান, তার জীবন কতটা ভঙ্গুর?

আমি আজও আমার আপুকে খুঁজে বেড়াই, আজও, কিন্তু কোথাও, কোনো খোঁজ পাইনি।

ওরহানই যে সেই ছেলে, তা আপু কখনো জানত না। আমিও তাকে কিছু বলিনি। কিন্তু আমি স্বপ্নেও ভাবিনি, সেই ছেলেটি প্রতিশোধের নীল নকশায় আমার আপুর মতো সরল, বোকাসোকা একজনকে বেছে নেবে।

ওরহান আমার আপুর সঙ্গে কী করেছে, তা আজও আমার অজানা। শুধু এটাই জানি, সে ভালো কিছু করেনি। নইলে আমার আপু তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে যেত না। আর আমি যখন ছুটে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, সে যেন এক নির্বিকার, নির্লিপ্ত মুখে দায়সারা কিছু কথা বলেছিল।

যে ছেলেটি ‘ভালোবাসি’ বলে মুখে ফেনা তুলে আমার আপুর পেছনে দিনরাত ঘুরেছে, সেই ছেলেটি ছিল এতটাই নিস্পৃহ, যখন জানতে পারল আমার আপু নিখোঁজ! তখনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম, ভালোবাসা ছিল না, ছিল কেবল প্রতিশোধের আগুন। আর সেই আগুনেই সে জ্বালিয়ে দিয়েছে আমার আপুকে।

সাবা থেমে যায়। চোখ থেকে নেমে আসে অশ্রুর ধারা। কথাগুলো বলার সঙ্গে সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।

ওসমান স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে। তার চোখেও অশ্রু। এত কিছু ঘটে গেছে, অথচ সে... কিংবা ওরহান, কেউই জানতো না কিছুই। ভাইয়ের কারণে, একটি নিষ্পাপ মেয়ের পুরো জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে।

সাবা দ্রুত চোখের পানি মুছে নিয়ে ফের বলে—

-"আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে... আমি এখন উঠি। ভালো থাকবেন!"

বলে সাবা আস্তে করে উঠে দাঁড়াল। চোখের কোনে জমে থাকা শেষ কণাটুকুও মুছে নিলো হালকা আঙুলে। কণ্ঠে ছিল এক অপূর্ণ বিষাদের সুর, আর পদচারণায় এক অজানা যন্ত্রণা।

ওসমান কিছু বলতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই সাবা ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। সে চেয়েছিল সোহার ঠিকানাটা দিয়ে দিতে, কিন্তু সুযোগই পেল না। সাবা ততক্ষণে নির্ভুল দৃঢ়তায় প্রস্থান করেছে।

ওসমান থমকে রইল কিছুক্ষণ। মনে হলো, এই মূহূর্তেই সে একটি হারিয়ে যাওয়া কাহিনীর শেষ অধ্যায়ের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে, অথচ পাতাটি উল্টানোর আগেই কেউ তা ছিনিয়ে নিয়ে গেলো তার হাত থেকে।

.

.

কেটে গেছে প্রায় চার-পাঁচ দিন। এই কয়েক দিনের মধ্যে ওসমান বারবার ভার্সিটিতে গেছে, সাবার খোঁজে। শিফাকেও জিজ্ঞেস করেছে, কিন্তু কেউই তার কোনো খোঁজ দিতে পারেনি। সাবা আর ভার্সিটিমুখো হয়নি।

আর সেইদিনের পর থেকে ওরহানও একবারের জন্য সোহার সাথে দেখা করার চেষ্টাও করেনি। যদিও ওসমান তাকে সব খুলে বলেছিল, তবে তারপর থেকে ওরহানের মনে ঠিক কী চলেছে, তা কেউ আঁচ করতে পারেনি।

আজ ভেলভেট ব্লুমের সেই বিশেষ রাত, উৎসবের রাত।

তারা আজ স্থায়ীভাবে তাদের নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হচ্ছে। সেই আনন্দেই এক জমকালো পার্টির আয়োজন। দেশের নামীদামি কোম্পানি, কর্পোরেট ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ইনভেস্টর, সবাইকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ওরহান আজ ভিন্ন এক রকম প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তার পরিবারসহ আজ সে যাবে পার্টিতে। অন্যদিকে, তীব্র নীল চৌধুরীও তার পরিবারের সঙ্গে উপস্থিত হবে।

এক এক করে সবাই এসে পৌঁছাতে শুরু করেছে ভেলভেট ব্লুম বিল্ডিংয়ে। ভবনের প্রবেশদ্বারে লাল গালিচা বিছানো। চারিদিকে ক্যামেরার ঝলকানি, সাংবাদিকদের ভিড়, সরাসরি সম্প্রচার চলছে মিডিয়াগুলোতে। পুরো পার্টির থিম, আবহমান বাঙালি ঐতিহ্য। অতিথিরা পাঞ্জাবি, শাড়ি, থ্রি-পিসে সজ্জিত, যেন উৎসবের ঢেউ লেগেছে পুরো প্রাঙ্গণে।

অভ্যর্থনা কক্ষের এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে সোহা, শরীরে সাদা শাড়ি, লাল পাড়। হাতে-পায়ে আলতার রঙ, কাঁচের চুড়ির হালকা শব্দ, খোলা চুলে চোখের কাজলের গভীরতা যেন এক নিঃশব্দ কবিতা। একদম যেন কোনো বাঙালি রূপকথার পরি। কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের সঙ্গে সে হাসিমুখে কথা বলছে, সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে পারিষদের।

এই সময় প্রবেশ করে ওরহান ও তার পরিবার।

তার ঠিক পরেই আসে তীব্র নীল চৌধুরীর পরিবার।

তারা প্রবেশমুখেই দাঁড়িয়ে পড়ে এক মুহূর্তের জন্য।

সেই মুহূর্তে তাদের চোখ আটকে যায়, লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরা এক শ্যামবর্ণ রমণীর ওপর। তারা যেন মূর্তির মতো স্থির হয়ে যায়।

সোহা তখন অতিথিদের দিকে মনোযোগী, অজান্তেই হয়ে উঠেছে পুরো দৃশ্যপটের কেন্দ্রবিন্দু। ওরহান আর তীব্র একসঙ্গে তার দিকে তাকিয়ে থাকে, দৃষ্টি স্থির, প্রশান্ত, অথচ মুগ্ধতায় বিভোর।

ওরহানের চোখে ভেসে ওঠে এক বিষণ্ণ স্মৃতি, সে মেয়েটি, যে একদিন তার সব আবেগ ফিরিয়ে দিয়েছিল। আজ সেই মেয়েটিই যেন এক স্বপ্নময় মূর্তিতে রূপ নিয়েছে। তার চোখে ভাষাহীন আকর্ষণ, ঠোঁটের কোণে অনুচ্চারিত বিস্ময়।

তীব্রের দৃষ্টিও কম বিমুগ্ধ নয়। সে যেন ভুলে যায়, সে কার সঙ্গে এসেছে, কোথায় এসেছে। শুধু অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সোহার দিকে, যেন চোখের সামনে জীবন্ত শিল্পকর্ম।

একসময় তাদের পিএদের কণ্ঠে বাস্তব ফিরে আসে।

তারা চোখের পলকে জ্ঞান ফেরে। মৃদু কণ্ঠে কিছু না বলে দু’জনেই পরিবারের সঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে।

কিন্তু তাদের হৃদয়ে একটাই শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, সোহা...

লাল পাড় সাদা শাড়ি পড়া সোহা

প্রতিটি আমন্ত্রিত অতিথি ইতোমধ্যেই চলে এসেছেন। কেউ ব্যস্ত বাঙালি খাবারের স্বাদে, কেউ বা রুচিসম্মত পানীয়ে চুমুক দিতে দিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পরিচিত কিংবা অপরিচিত, সবাই নিজের মতো করে মেতে উঠেছেন কথোপকথনে। ব্যবসা, পারিবারিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব কিংবা পুরনো দিনের গল্প, সব মিলিয়ে আলোচনার আবহ যেন রঙিন উৎসবের মতো।

এই জমজমাট পরিবেশে, ইহাব হঠাৎই লক্ষ্য করলো, মিরহা এক কোণে নীরবে দাঁড়িয়ে আছেন। একা,নীরব, কিন্তু আত্মমগ্ন। কোলাহলের ভেতরেও যেন এক চুপচাপ নীড়। ইহাব দ্বিধাহীন পায়ে তাঁর দিকে এগিয়ে এলো। গলা সামান্য খাঁকারি দিয়ে ভদ্রতাপূর্ণ ভঙ্গিতে বলল—

-"কেমন আছেন, মিস মিরহা?"

আকস্মিক ডাক শুনে মিরহা খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন। তাঁর মুখের ভেতর কিছুটা বিস্ময় খেলে গেল। ইহাব সেটা ঠিকই টের পেয়ে নরম কণ্ঠে বলে উঠলো—

-"সরি, ভুল সময়ে এসে পড়লাম কি?"

-"না না, তেমন কিছু নয়। আসলে একটু চিন্তায় ডুবে ছিলাম... তাই হয়তো এমন লাগছে। আমি ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?"

-"এই যেমন রেখেছেন, তেমনই!"

মিরহার কপালে ভাঁজ পড়ল। কৌতূহলে ভরা চোখে তাকালেন ইহাবের দিকে।

-"মানে?"

ইহাব হেসে ফেলল, নরম অথচ ইঙ্গিতপূর্ণ হাসি।

-"মানে তেমন কিছু না। তবে আজ আপনাকে সত্যিই অসাধারণ লাগছে, মিস মিরহা। এই নীল রঙের সুতি শাড়িতে আপনাকে দেখে কি মনে হচ্ছে জানেন?"

মিরহার ঠোঁটে হালকা হাসি খেলে গেল। কিন্তু চোখে যেন এক চিলতে সংশয়।

-"কি মনে হচ্ছে?"

-"যখন রাতের নিকষ কালো আঁধার ধীরে ধীরে গুটিয়ে নিতে থাকে তার বিস্তার, যখন ধরণীর বুকে সকালের প্রথম স্পন্দন ঘুম ভাঙাতে চায় প্রকৃতিকে, তখনই আকাশে এক স্বপ্নিল নীল রঙা আবরণ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। সে রং কোনো একটি নির্দিষ্ট ব্যঞ্জনায় নয়, তা একাধারে শান্ত, স্নিগ্ধ, কোমল আবার রহস্যময়।

আপনাকে আজ ঠিক সেই মুহূর্তের মতো লাগছে, মিস মিরহা। এক নিঃশব্দ ভোরের আকাশ, যার দিকে তাকালে মানুষ নিজের অজান্তেই নিঃশ্বাস ফেলে,

কিছু হারানোর ব্যথা ভুলে যায়, আর কিছু না বলেও অনেক কিছু বুঝে ফেলে। তবে শুধু নীল আকাশ বললে আপনাকে কম বলা হয়।

আপনার চোখের গভীরতায় যে মায়া আছে, তা তো কোনো ঋতুও ধারণ করতে পারে না। আপনি যেন সেই ভোরের নীলাভ আকাশ, যেখানে রাতের সকল ক্লান্তি মিলিয়ে গিয়ে এক নতুন আশার জন্ম হয়।"

মিরহা এক মুহূর্তের জন্য নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ইহাবের কথাগুলো যেন বাতাসে থমকে রইল, চারপাশের কোলাহল হঠাৎই কানে আসা বন্ধ হয়ে গেল তার। এমন করে, এমন এক অভিব্যক্তিতে কেউ আগে কখনো তার সৌন্দর্যকে ব্যাখ্যা করেনি। মুখে হালকা হাসি, কিন্তু চোখে লজ্জা ও কৌতূহলের এক মিশ্র প্রকাশ।

-"ধন্যবাদ, মিস্টার ইহাব। সত্যিই আপনার প্রশংসা অতুলনীয়। আপনার দৃষ্টি যে কতটা গভীর, তা আমি ভাবতেই পারিনি। আমার মতো সামান্য একজন মেয়ের রূপও আপনার কাছে এতো কবিতার মতো লাগবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি। এত সুন্দর বর্ণনা, এত আন্তরিক প্রশংসা, জীবনে আজ প্রথম শুনলাম। সত্যি, আমার মনটা দোলে উঠলো। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।”

বলেই মিরহা লজ্জার চাদরে ঢেকে, ধীর পায়ে প্রস্থান করলো। ঠিক সেই মুহূর্তে, পেছন থেকে ইহাব হাসি আটকে চেঁচিয়ে উঠলো—

-"আমি কিন্তু এক বিন্দু মিথ্যে বলিনি, মিস নীলাম্বরী।"

মিরহা মুচকি মুচকি হেসে, হাত হেলিয়ে চলে গেল। ইহাব পেছন থেকে আপন মনে বিড়বিড় করলো—

আপনি সেই ‘অলিখিত কবিতা’, যার প্রতিটি চরণ চোখে পড়ে না, তবুও হৃদয়ের গভীরে সেগুলো অমলিন হয়ে গেঁথে থাকে, অদ্ভুত এক মাধুর্যের মতো, যা সময়ের সাথে শুধু বেড়ে ওঠে।

আপনার উপস্থিতি ঠিক তেমনই, এক নজরেই মনকে শান্ত করে, আর স্মৃতিতে রাখলেই জন্ম নেয় কিছু অব্যক্ত ভালোবাসার সুর, যা কথায় প্রকাশ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকে।

আপনি শুধু সুন্দর নন, আপনি এক অনুভূতি,

এক ধরণের অনুভূতি যা বর্ণনার বাইরে, যা হৃদয় স্পর্শ করে, আমার নীলাম্বরী।

.

.

.

সোহা তীব্রর সঙ্গে ডেকোরেশন নিয়ে কথাবার্তায় ব্যস্ত। তীব্র, যার পরিচিত সেই চেনা হাসি মুখে, ধীরে ধীরে বললেন—

-"তো, মিস সোহা, আমাদের কাজটা কেমন লেগেছে?"

সোহার চোখে এক আলোকছটা, মুখে সন্তুষ্টির ঝিলিক—

-"অসম্ভব সুন্দর, মিস্টার চৌধুরী। আমি যেমন কল্পনা করেছিলাম তার চেয়েও অনেক বেশি মনোমুগ্ধকর হয়েছে। আপনার টিমের প্রতিটি স্পর্শ যেন এক নিখুঁত শিল্পকর্ম। আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়ে গেছি। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।"

-"কি বলছেন, মিস সোহা! এটি আমাদের কাজ, আমাদের দায়িত্ব। ক্লায়েন্টের প্রত্যেক চাহিদা পূরণ করাই আমাদের অঙ্গীকার।"

-"সত্যিই, আপনাদের কাজেই তো আপনারা পরিচিত। শুধু তাই নয়, দেশের নম্বর ওয়ান ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি হওয়ার মর্যাদা তো আর এমনি এমনি পান নি।"

দুজনেই একসঙ্গে খিলখিলিয়ে উঠলো। তীব্র, সোহার কোমল হাসির কাছে মুগ্ধ হয়ে, এক নজরে তার দিকে অবিরাম তাকিয়ে রইল। শ্যামলা রঙের এই মেয়েটি যেন তার হৃদয়কে ভস্মীভূত করেছে, স্নিগ্ধ মুখশ্রী আর কোমল স্বভাব যেন তার হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে।

এই মুহূর্তে সে যেই নির্মল, নিষ্পাপ হাসিতে মেতে আছে, তা তীব্রের ঘোর লাগানো দৃষ্টির মাঝে যেন বোনা একটি অদৃশ্য বন্ধন তৈরি করছে। সোহা সেই দৃষ্টি টের পেয়ে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল, হাসি থামিয়ে বলল—

-""আমি একটু ওইদিকে যাচ্ছি। অনেক অতিথি এসেছে, তাই একটু কথা বলা জরুরি।"

বলেই ধীরে ধীরে শাড়ির আঁচল ধরে পা বাড়িয়ে চলে গেল। তীব্র অপলক দৃষ্টিতে তার প্রস্থানটা দেখল, হৃদয়ে একাকীত্বের মৃদু স্পন্দন নিয়ে নিজেই মনে মনে কণ্ঠ ছেড়ল—

"আপনার এই চাহনি, আপনার এই হাসি, আপনার কোমলতা, আমাকে করে গেছে ঘায়েল, নীলস্নিগ্ধা।

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে, যখন আকাশে ছড়িয়ে পড়ে নীলিমা, আপনি সেই আকাশের মতন সুন্দর, স্নিগ্ধ, স্বপ্নিল এক রঙের ছোঁয়া।

যেন আঁকা হয়েছে এক মায়াবী ছবি, যা হৃদয়ে জাগায় এক অজানা অনুভূতি, আপনার ছোঁয়া, আপনার ছন্দ,

মিশে যায় আমার মনে, এক প্রেমের ছন্দে।

দূরে দাঁড়িয়ে থাকা এক অজানা ছায়া, যেন বাজ পাখির তীক্ষ্ন দৃষ্টিতে অতিবাহিত মুহূর্তগুলো ধরে রেখেছিল তাদের ওপর। আর এখন, সেই ছায়া ধীরে ধীরে পিছিয়ে এসে, নিঃসঙ্গ প্রস্থান করল অন্ধকারের মিছিল থেকে।

.

.

.

অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে আজ সবাই একত্রিত হয়েছে। প্যারিস অফিস থেকে উপস্থিত হয়েছেন সকল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, শুধুমাত্র আজকের এই বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য। পাবলিকের সামনে প্রতিষ্ঠানের সমস্ত গুরত্বপূর্ণ কর্মচারী ও শেয়ারহোল্ডারদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে পর্যালোচনা করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্যারিস কোম্পানির চেয়ারম্যান, মিস্টার ক্রিস্টিয়ানো উইলসন নিজেই হাজির হয়েছেন। তার ছেলে, কেলবিন উইলসন যিনি সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্যারিসে, আজ অনুপস্থিত, তাই চেয়ারওম্যান নিজেই এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মিস্টার ক্রিসের স্ত্রী সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত নয়, তিনি বেঁচে আছেন নাকি নেই, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।

আজ মিস্টার ক্রিস উইলসন কালো পাঞ্জাবি পরে আসছেন, ফর্সা ত্বকের ওপর সেটি যেন এক রহস্যময়তা ও গম্ভীরতার ছোঁয়া নিয়ে এসেছে। তিনি স্টেজে উঠে প্রথমেই সকলের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন, তারপর প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার বিস্তারিত অবগত করেন, তাদের উৎপাদিত পণ্য, সাপ্লাই চেইন, অফিসের অবস্থান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। অবশেষে তিনি পদোন্নতির তালিকা ঘোষণা শুরু করেন, ম্যানেজার, এডভোকেট, ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট, ল্যাব হেডসহ প্রতিটি পদের নাম, পরিচয় ও যোগ্যতার বর্ণনা দিয়ে। ইতিমধ্যেই সকলের মনোযোগ অধিষ্ঠিত হয়েছে তাঁর কথায়। সবশেষে মঞ্চ থেকে তিনি গম্ভীর কণ্ঠে ঘোষণা করেন—

-"Our Chief Designer is Miss Neslihan Soha."

পুরো হলরুম যেন মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেল, এক ঝলক বজ্রপাত যেন নেমে এলো সবার চোখেমুখে। কারণ, যার নাম উচ্চারিত হলো "চিফ ডিজাইনার" হিসেবে, তিনি তো সিইও ছিলেন! এত বড় পদে হঠাৎ এই রদবদল? ফিসফাস ছড়িয়ে পড়লো অতিথিদের মাঝে।

সোহা নিজেও কিছুটা বিহ্বল। হঠাৎ এমন ঘোষণার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না তিনি। অস্বস্তি ছুঁয়ে গেল মুখের রেখায়। ঠিক তখনই মিরহা পাশে এসে ধীর কণ্ঠে বলল—

-"এইসব কী হচ্ছে মাম? আপনাকে তো বিদেশ থেকেই সিলেক্ট করে পাঠানো হয়েছিল সিইও হিসেবে। হঠাৎ এমন ডিমোশন কেনো?"

সোহা ধীরে মাথা নাড়িয়ে বলল—

-"আমি নিজেও জানি না, মিরহা। আমাকে তো আগে কিছুই জানানো হয়নি।"

মিরহা এবার একটু গম্ভীর সুরে বলল—

-"তাহলে তো এটা ইচ্ছাকৃত কিছু। হঠাৎ কোন বিশেষ কারণে আপনাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেটা আমাদের জানতে হবে।"

সোহা এক দৃষ্টিতে মঞ্চের দিকে তাকিয়ে বলল—

-"হ্যাঁ, নিশ্চয়ই জানবো। তবে এখন একটু চুপ থাকো... দেখি কি হয়।"

মিরহা ঠোঁট চেপে চুপ করে গেল। আর ঠিক তখনই মঞ্চে মিস্টার ক্রিস উইলসন কণ্ঠ দৃঢ়, অথচ স্নায়বিক ভারসাম্য বজায় রেখে তিনি ঘোষণা দিতে শুরু করলেন—

-"51% of the shares of our Velvet Bloom's Bangladeshi branch are held by my son, Kelvin Wilson, who also serves as the Chairman of this branch."

রুমে হালকা ফিসফাস। সকলে জানে কেলভিন আসেননি, কিন্তু তার আধিপত্য এখনো প্রতিষ্ঠানে সুপ্রতিষ্ঠিত।

-"The remaining 49% of shares have been sold to two individuals."

এই বাক্যেই যেন এক বিস্ময়ের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে পুরো হলরুমে। কেউ কারো দিকে তাকিয়ে আছে, কেউ অবাক, কেউ চিন্তিত, বাকিরা নিঃশব্দে অপেক্ষা করছে পরবর্তী নাম ঘোষণার।

-"17% of the shares are now held by Mr. Tibro Neel Choudhury, who will take on the role of Director for our Bangladeshi branch."

এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো ঘর নিস্তব্ধ। যেন সময় থেমে গেল এক মুহূর্তের জন্য। এক পলকের জন্য চারপাশ জমে গেল। বাতাসে এক অজানা শিহরণ।

তীব্র শুধু নীরব, স্থির। আর সেই স্থিরতার মাঝেই যেন বাজ পড়লো কারও বুকের গভীরে।

CEO Announcment

সোহা নিঃশব্দে তীব্রর দিকে তাকিয়ে থাকে, তার চোখে অবিশ্বাস, বিস্ময় আর প্রশ্নচিহ্ন। তীব্র স্থির, মুখে এক তীক্ষ্ণ বাকা হাসি।

অনেকেই একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ির মধ্যে ডুবে গেল, "তীব্র!" সে তো এতদিন একজন সফল ডেকোরেটর, একনিষ্ঠ কোম্পানির মালিক, সেই মানুষটাই হঠাৎ শেয়ার হোল্ডার এবং ডিরেক্টর? তাও অন্য একটি কোম্পানির।

-"32% of the shares have been acquired by Mr. Orhan Khan Shaheer, who will assume the position of CEO for our Bangladeshi branch."

Story Cover