ফিরে দেখা

পর্ব - ৩৫

🟢

তীব্র শিফাকে নিয়ে ঝড়ের বেগে বেরিয়ে যাওয়ার পর খান বাড়ি জুড়ে নেমে এলো এক অদ্ভুত নীরবতা। চারপাশ যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। কেবল নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিলো। তীব্রর বাবার কঠোর নির্দেশে বডিগার্ডদেরও সরে যেতে হলো। বিশাল ড্রয়িংরুম এখন অস্বস্তির ভারে গম্ভীর, যেনো দেয়ালগুলোও শোকাচ্ছন্ন।

ওরহান হঠাৎ দাঁড়িয়ে উঠলো। রাগে তার বুক ফুলে উঠছে। চোখ লালচে হয়ে উঠেছে। সে ওমর খানের দিকে তাকিয়ে কণ্ঠ কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠল—

-"কেনো যেতে দিলে, বাবা? কেনো কিছু বললে না?"

ওমর খান কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে ছেলের দিকে তাকালেন। চোখ দুটি শান্ত, অথচ সেই শান্তির গভীরে যেনো লুকিয়ে আছে ক্লান্তি আর দীর্ঘ বছরের অভিজ্ঞতার ভার। তিনি আস্তে আস্তে বললেন—

-"শিফা তীব্রকে ভালোবাসে, সেটা তুমি জানো, তাই না?"

ওরহানের কণ্ঠ হঠাৎই ভেঙে গেল, মাথা নত করে বলল—

-"হ্যাঁ, জানি।"

-"কিন্তু শিফা কেনো তীব্রকে মেনে নিতে পারছে না, সেটাও তুমি জানো?"

ওরহান এবার গম্ভীরভাবে বলল—

-"হ্যাঁ, জানি।"

ওমর খান গভীর এক দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। যেনো বুকের ভেতর থেকে জমাট বাঁধা ক্লান্তি বেরিয়ে এলো। তারপর ধীরস্বরে, কিন্তু অদ্ভুত দৃঢ়তায় বললেন—

-"শোনো, তোমরা আমার সন্তান। আমার বুকের ধন। কিন্তু আজ তোমরা আর শিশু নও, প্রাপ্তবয়স্ক। তোমাদের বিয়ের বয়স হয়েছে। আমরা আজ আছি, কাল নেই। আমার দায়িত্ব হচ্ছে সিফাকে এমন এক সুপাত্রর হাতে তুলে দেওয়া, যে তাকে বুঝবে, তাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারবে।"

তিনি এক মুহূর্ত থামলেন, দৃষ্টি দূরের দিকে গিয়ে থেমে রইল। বাইরে থেকে হাওয়ার শব্দ ভেসে এলো, যেন প্রকৃতিও তার কথার সাক্ষী। তারপর ওমর খান আবার বললেন—

-"শিফা তীব্রকে ভালোবাসে, কিন্তু মনের সব বাধা কাটিয়ে তাকে এখনও গ্রহণ করতে পারছে না। অথচ আমি নিশ্চিত, শিফা অন্য কোনো ছেলেকেও বিয়ে করবে না। তাই আজকের এই 'পাত্র দেখার' আয়োজন আসলে নাটক ছাড়া কিছু নয়। ওরা আমার বন্ধুর পরিবার, কেউ আসলে শিফাকে দেখতে আসেনি। কেবল আমি চাইছিলাম শিফা তার মনের সাথে লড়াই করুক। বুঝুক, তার হৃদয় কোথায় দাঁড়িয়ে আছে।"

ড্রয়িংরুমের নীরবতা তখন আরও ভারী হয়ে এলো। যেন প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি আসবাব, প্রতিটি নিঃশ্বাস শিফার নাম উচ্চারণ করছে। বাতাসে জমাট বেঁধে আছে প্রেম, দ্বন্দ্ব আর অনিশ্চয়তার ঘনঘটা।

উপস্থিত সবাই বিস্ফোরিত নয়নে তাকিয়ে রইল ওমর খানের দিকে। বাতাস যেন স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওরহান বাকহারা, মুখে কোনো শব্দ আটকে রইল। এরই মাঝে ওসমান হঠাৎ বলে উঠল—

-'বাবা, তুমি তীব্রকে এত সহজে মেনে নিলে?"

ওমর খান গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকালেন ছেলের দিকে। ঠোঁটে বিষণ্ণ হাসি, অথচ কণ্ঠ দৃঢ়—

-"এত সহজে মেনে নেইনি। গত ছ’মাস ধরে তীব্র আর তার পরিবার বারবার ক্ষমা চেয়েছে। তাদের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে সর্বোতভাবে চেষ্টা করেছে। তাদের এই আন্তরিকতা, এই অনুতাপ আমাকে স্পর্শ করেছে। আর ভুলে যেও না, শিফা নিজেও তীব্রকে চায়।"

চারপাশে আবারও নেমে এলো এক অদ্ভুত নীরবতা। যেন শব্দগুলো হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে, কেবল নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। কারও আর বলার মতো কোনো কথা রইল না।

ঠিক ঘণ্টা দু’য়েক পর, নীরবতা ভেদ করে ফিরে এলো তীব্র। তার পাশে শিফা, আর পেছনে তূর্য সঙ্গে নিয়ে এসেছে কাজী সাহেবকে। উত্তেজনায় ভরপুর পরিবেশ মুহূর্তেই ভারী হয়ে উঠলো।

তীব্র কারও দিকে তাকালো না। সোজা এগিয়ে গিয়ে ওমর খান আর সুরাইয়া বেগমের সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ হাঁটু মুড়ে বসে পড়ল। কণ্ঠ কাঁপছিলো, কিন্তু দৃঢ়তায় ভরা—

-"আমি আজই শিফাকে বিয়ে করতে চাই!"

কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই শিফা যেন বজ্রাহত হলো। কণ্ঠ ছিঁড়ে চেঁচিয়ে উঠল—

-"আমি কখনও আপনাকে বিয়ে করবো না!"

তীব্র অসহায় চোখে তাকিয়ে রইল শিফার দিকে। তার চোখে ভিক্ষুকের মতো আর্তি, অনুতাপ, আর অশেষ ভালোবাসা ভেসে উঠলো।

তখনই সোহা, সাবা, কেয়া, পায়েল ছুটে এসে শিফাকে ঘিরে ধরল। তারা তাকে টেনে এনে সোফায় বসাল। শিফা সবার মাঝে বসে অঝোরে কাঁদছে। সোহা স্নেহভরে শিফার মাথায় হাত রাখল। কণ্ঠ কোমল, তবু বাস্তবতার ছোঁয়া—

-"তুমি কি অন্য কাউকে বিয়ে করতে চাও?"

শিফা কোনো উত্তর দিল না। কেবল নীরবে চোখের পানি গড়িয়ে পড়লো। সাবা এগিয়ে এসে বলল—

-"পাত্র তৈরি আছে, তুমি শুধু বলে দাও।"

শিফা মাথা নেড়ে বোঝালো, না। তার মানে, অন্য কাউকে বিয়ে করবে না। সোহা আবারও মৃদু হেসে বলল—

-"তাহলে ওনাকে বিয়ে করতে সমস্যা কোথায়?"

শিফা ছলছল চোখে তাকালো সোহার দিকে। ভেজা গলায়, নাক টেনে বলল—

-"তোমার সাথে যা করেছে... তারপর কিভাবে আমি ওকে মেনে নেই?"

সোহা হালকা হাসলো। চোখে অদ্ভুত এক মমতা আর দৃঢ়তা মিলেমিশে ছিল। সে বলল—

-"পাগল মেয়েটা! যা হয়েছে আমার সাথে, সেটা নিয়ে ভাবার পাওয়ার কিছু নেই। তাছাড়া ওরা কিছুই করতে পারে নি, কারণ তোমার দাদাভাই ছিল তো পাশে। তুমি তো ওনাকে ভালোবাসো, তাহলে কেনো এত বাধা দিচ্ছ? বিয়ের পর প্রয়োজন হলে শাস্তি দিও, তাতে ক্ষতি কী?"

বাতাসে তখন যেনো আবেগের ঝড় উঠলো। শিফার চোখে জল, তীব্রর চোখে অনুনয়, আর সবার মাঝে চাপা উত্তেজনার ঢেউ, যেন পুরো বাড়িটাই অপেক্ষায় আছে এক অনিবার্য সিদ্ধান্তের জন্য।

সকলের দীর্ঘ বোঝানো আর অশ্রুসিক্ত অনুরোধে অবশেষে শিফা সম্মতি জানায় বিয়েতে। দুই বাড়ির শত শত চোখের সামনে, দোয়া ও আশীর্বাদের আবহে সম্পূর্ণ হয় শিফা ও তীব্রর বিয়ে। শুভক্ষণে আকাশ যেনো আরও নীল হয়ে উঠেছিল, বাতাসে ভেসে এসেছিল শঙ্খধ্বনি আর কানায় কানায় ভরা আনন্দের গুঞ্জন।

কিন্তু সুখের সেই স্রোত অচিরেই অশান্তির ঢেউয়ে ভেসে যায়। বিয়ের রেশ মুছে না যেতেই সামনে আসে অপ্রত্যাশিত বাধা। তীব্র যখন নববধূকে সঙ্গে নিয়ে চৌধুরী বাড়ির পথে রওনা দিতে উদ্যত হয়, তখনই যেন বজ্রপাতের মতো ফেটে পড়ে বিরোধ।

ওরহান অগ্নিগর্ভ চোখে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করে, শিফা কোনো অবস্থাতেই ওই বাড়িতে যাবে না!

তার গলায় এমন দৃঢ়তা, যেন কথাগুলো পাথরে খোদাই করা। চারপাশে থমথমে নীরবতা নেমে আসে। আনন্দমুখর পরিবেশ মুহূর্তেই পরিণত হয় তপ্ত রণক্ষেত্রে। তীব্রর চোখে ক্ষোভের ঝিলিক, মুখের পেশি টনটন করে ওঠে। দু’জনের তর্কাতর্কি এক অদৃশ্য আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

উপস্থিত সবাই স্তব্ধ হয়ে যায়। কেউ কেউ হাঁ করে তাকিয়ে থাকে, কেউ আবার নিঃশ্বাস বন্ধ করে শোনে প্রতিটি উচ্চারিত শব্দ। যেন পুরো ঘর নিস্তব্ধ নাট্যমঞ্চে পরিণত হয়েছে, যেখানে তীব্র আর ওরহান মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, একে অপরের চোখে চোখ রেখে লড়ছে অদৃশ্য কিন্তু ভয়ঙ্কর এক যুদ্ধে।

তর্কাতর্কির উত্তাপ যেন থামার নামই নিচ্ছিল না। শব্দের ঝড়ে চারদিক কেঁপে উঠছিল। ঠিক তখনই হঠাৎ বজ্রপাতের মতো গর্জে উঠলেন ওমর খান। তাঁর কণ্ঠে বিরক্তি আর আদেশের তীব্রতা মিলেমিশে এক অদৃশ্য ঝড় তুলল—

-"থামো তোমরা!"

এক মুহূর্তে সবার মুখ স্তব্ধ হয়ে গেল। ঘরে যেন নিস্তব্ধতার পর্দা নেমে এলো। কেবল শ্বাসের শব্দটুকুই ভেসে আসছিল ভাঙা কাচের মতো। ওমর খান গভীর দৃষ্টিতে চারপাশে তাকিয়ে ধীর অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বললেন—

-"আমার মেয়েকে আমি বিয়ে দিয়ে দিয়েছি তোমার সাথে, তীব্র। এখন তার সম্মান, তার মর্যাদা রক্ষা করা তোমার দায়িত্ব। তবে মনে রেখো, ওর চার ভাইয়ের বিশ্বাস অর্জন না করা পর্যন্ত ওরা শিফাকে যেতে দিবে না।"

ওনার কথা যেন এক দণ্ডায়মান বজ্রশিলা। চারদিক নিস্তব্ধ হয়ে গেল। আবহাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ল এক অদ্ভুত শান্তি, যেন দীর্ঘ তাণ্ডব শেষে ঝড় থেমে গেছে, কিন্তু বাতাসে এখনো তার প্রতিধ্বনি ভাসছে।

তীব্রর চোখে তখনও জেদ ও অগ্নিশিখা জ্বলছিল, তবে অন্তরে সে স্পষ্ট বুঝে নিল, তার যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। বরং সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন লড়াই, নতুন উদ্যমে লড়তে হবে তাকে।

ওরহান শিফার দিকে এগিয়ে এলো। বোনের মাথায় স্নেহের হাত রেখে বলল—

-"তুই যদি যেতে চাস আমার কোনো আপত্তি নেই। তুই যেতে পারিশ। তোর চাওয়ার মূল্য সবার আগে।"

শিফা ছলছল চোখে ভাইয়ের দিকে তাকালো। তারপর ওরহানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল—

-"আমি চলে গেলে তুমি রাগ করবে দাদাভাই?"

ওরহান চোখের অশ্রু আড়াল করে বলল—

-"একটুও না।"

অবশেষে শিফার কথাই রাখা হলো। শিফাকে নিয়ে যাওয়া হলো চৌধুরী বাড়ি।

ধীরে ধীরে খান বাড়িতে শান্তির ছায়া নেমে এলো। রাত গভীর হয়ে এলে সবাই নিঃশব্দে নিজ নিজ ঘরে ফিরে গেল বিশ্রামের আশ্রয় নিতে। অথচ সেই রাতের অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে রইল অস্থিরতার ভারী ছায়া, যা আগামী দিনের সকালেই নতুন রূপ নিয়ে ফিরে আসবে।

.

.

.

রাতের আঁধার নামার আগেই সবার ব্যাগ গোছানো শেষ। আজ রাতেই উড়াল। ওরহান আর সোহা যাবে জাপান, বাকিরা যাবে সুইজারল্যান্ডের পথে। সকালে ড্রয়িং রুমে সবাই বসেছিল একসাথে। হঠাৎই নীরবতা ভেঙে ওরহান দৃঢ় অথচ অস্থির কণ্ঠে বলে উঠলো—

-"বাবা, শিফাকে আমার সাথে নিয়ে যেতে চাই!"

ওমর খান ভ্রূ কুঁচকে তাকালেন। কণ্ঠে কঠোরতা—

-"এটা কখনোই সম্ভব না। তোমরা বেড়াতে যাচ্ছো, সেখানে তোমাদের একান্ত সময় দরকার। শিফাকে নিয়ে গিয়ে কি করবে? আর তাছাড়া কালকেই মাত্র শ্বশুর বাড়ি গেলো। তারচেয়ে তোমরা ঘুরে এসো, তারপর সবাই একসাথে যেও।"

ওরহানের ভেতরের অস্থিরতা ততক্ষণে যেনো বাইরে বেরিয়ে আসছে। গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে বলল—

-"ওকে ওখানে একা রেখে যেতে আমার মন মানছে না। সোহাও কিছু মনে করবে না।"

চারপাশের সবাই তখন তাকে বোঝাতে লাগল। কণ্ঠগুলো নরম হলেও তাতে ছিল দৃঢ়তা—

-"অনেক ঝড়ঝাপটার পর তোমাদের মিলন হয়েছে। এই সময়টুকু শুধু সোহার জন্য রাখো। শিফাকে নিয়ে পরে যেও।"

সবাই যখন একসাথে কথা বলল, ওরহান আর কোনো প্রতিবাদ করতে পারলো না। কিন্তু মনের ভেতরে অদ্ভুত এক অশান্তি তাকে তাড়িয়ে ফিরলো।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। ব্যাগপত্র গুছিয়ে সবাই রওনা দিল এয়ারপোর্টের পথে। বিদায় নেবার মুহূর্তে ওরহান হঠাৎ ওসমানের কাঁধে হাত রেখে বলল—

-"শিফাকে দেখে রাখিস।"

ওসমান ভরসা দিল, কিন্তু তবুও ওরহানের চোখে উদ্বেগের ছায়া মিলিয়ে গেল না। তার সেই অস্থির মুখাবয়ব লক্ষ্য করে সোহা ধীরে বলল—

-"কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি?"

ওরহান শান্ত দৃষ্টি নিয়ে তাকাল সোহার দিকে। তার কণ্ঠে যেনো শীতল বাতাসের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ঝড়—

-"কেন জানি মনে হচ্ছে কোনো বড় কিছু হতে চলেছে। আমার শিফার কিছু হবে না তো, সোহা?"

সোহা তখন স্বামীর হাত দুটো শক্ত করে ধরে ফিসফিস করে বলল—

-"কিছু হবে না। আপনি শুধু শুধু দুশ্চিন্তা করছেন। আল্লাহকে ডাকুন, সব ঠিক হয়ে যাবে।"

ওরহান সোহার কথায় মাথা নাড়ালো। তারপর তীব্র ও শিফার কাছে এগিয়ে এসে বোনকে জড়িয়ে ধরলো। তীব্রর দিকে কঠিন দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল—

-"আমার বোনের চোখ থেকে যেনো পানি না পরে। এক ফোঁটা পানির মূল্য তোমাকে সারাজীবন দিতে হবে। মনে রেখো!"

তীব্র হালকা হাসলো। তারপর ওরহানের দিকে তাকিয়ে বলল—

-"চিন্তা করবেন না সলাবাবু। ভালোবাসার অশ্রু ছাড়া আর কিছুই পড়বে না আপনার বোনের চোখ দিয়েন।"

ওরহান কটমট করে তাকালো তীব্রর দিকে। শিফা তীব্রর পেতে একটা কিল বসিয়ে দিলো।

ওরহান সোহাকে নিয়ে এগিয়ে গেলো ভেতরে। যাওয়ার সময় বার বার পিছে ফিরে দেখছিল নিজের পরিবারকে। ওরহানের মনে অচেনা এক অন্ধকার ঘনিয়ে আসছিল। আর সেই অন্ধকারের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল অজানা এক শঙ্কার ছায়া।

.

.

.

সবাই বাড়ি ফিরে গেছে। তীব্র শিফাকে নিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরেছে। রশ্মিকে বিদেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পঙ্গু হয়ে সে তার প্রাপ্য শাস্তি, আজীবনের নিঃসঙ্গতা পেয়েছে।

রাত নেমে এসেছে নীরবতার আবরণে। খাবারের পর ঘরে ঢুকেছে শিফা। ঠিক তখনই হঠাৎ এক টানে তীব্র তাকে নিজের বুকের ওপর ফেলে দিল। শিফার বুকের ভেতর কেঁপে উঠল আতঙ্ক, মুখ দিয়ে চিৎকার বেরোতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই তীব্র শক্ত করে তার মুখ চেপে ধরে ফিসফিসিয়ে বলল—

-"আরে, আমি তোমার স্বামী।"

শিফার চোখে ভয় আর ক্রোধ মিশে উঠল। এক ঝটকায় সে দাঁত বসাল তীব্রর হাতের তালুতে। যন্ত্রণায় তীব্র সাথে সাথে তাকে ছেড়ে দিল। শিফা হাঁপাতে হাঁপাতে বিছানায় বসে বলল—

-"বিয়ে করেছি, আপনার বাড়িতে এসেছি, তাই বলে সব ভুলি নি। বুঝেছেন? আপনার এখনো অনেক শাস্তি বাকি।"

তীব্র নিঃশব্দে বিছানায় গা এলিয়ে দিল। এক দীর্ঘশ্বাসের মতো গলা বেয়ে ভেসে এল তার স্বর—

-"তোমার জন্য মরণও কবুল জান।"

শিফা ঠোঁট বাঁকিয়ে মুখ ভেংচি কাটল। কটাক্ষ ভরা কণ্ঠে বলল—

-"ঢং! এইসব নাটকের ভালোবাসা বেশিদিন টেকে না।"

তীব্র চোখ তুলে গভীর দৃষ্টিতে তাকাল শিফার দিকে। তার কণ্ঠে ভেসে এল যেন আত্মার শপথ—

-"যদি তুমি একশো বছরের বয়স পেয়ে থাকো, আমি চাই একশো বছর থেকে একদিন কম বাঁচতে। যেন কখনও তোমার ছাড়া এক মুহূর্তও অনুভব করতে না হয়। তাহলে বোঝো, কতটা ভালো আমি তোমায় বাসি।"

ঘর জুড়ে থমথমে নিস্তব্ধতা। জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া চাঁদের আলো তাদের দুজনকে ছুঁয়ে গেল। যেন প্রকৃতিও দাঁড়িয়ে আছে এই মুহূর্তের নীরব সাক্ষী হয়ে।

.

.

.

.অক্টোবরের এক শীতল বিকেলে টোকিওর হানেদা এয়ারপোর্টে নামল ওরহান আর সোহা। বিমানের জানালা থেকেই তাদের চোখে ধরা দিয়েছিল সোনালি রোদে ঝলমল করা লাল-কমলা পাতার সমুদ্র। শহর যেন শরতের রঙে জ্বলজ্বল করছে। চোখে স্বপ্ন, মনে অদ্ভুত উচ্ছ্বাস, দু’জনেই অনুভব করছিল, যেন এক অজানা রূপকথার ভেতর প্রবেশ করছে তারা।

ট্যাক্সি তাদের পৌঁছে দিলো Aman Tokyo হোটেলে। টোকিওর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এই আকাশচুম্বী হোটেল যেন কোলাহলের মাঝে শান্ত এক জাপানি উদ্যান। কক্ষে ঢুকেই বিশাল কাঁচের জানালার ওপার থেকে যেন পুরো শহর হাতছানি দিয়ে ডাকছিল। দূরে উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে টোকিও টাওয়ার, চারপাশে শরতের রঙিন জগৎ। ওরহান সোহার হাত চেপে ধরে হেসে বলল—

-"আজ রাতটাকে মনে রেখো, এই দৃশ্যের মতোই চিরকাল ঝলমল করবে।"

সোহা নীরবে তার দিকে তাকিয়ে স্মিত হাসলো। তারপর ওরহানের বুকে মাথা রাখলো। যেনো দুনিয়ার সব সুখ শান্তি এই বুকেই।

হোটেলে ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা সেরে তারা বের হলো সন্ধ্যায়। গন্তব্য, শিনজুকু গিওয়েন পার্ক। লণ্ঠনের নরম আলোয় আলোকিত পথ, আর পাতার সাঁইসাঁই শব্দে মনে হচ্ছিল সময় থমকে গেছে। শরতের বাতাসে মিশে ছিল অদ্ভুত মাদকতা। হাঁটার পথে হঠাৎ লাল ম্যাপল পাতার নিচে দাঁড়িয়ে সোহা ফিসফিস করে বলল—

-"এ দৃশ্যটা আমি কখনও ভুলব না।"

ওরহান তখন তার গালে আলতো চুমু এঁকে উত্তর দিলো—

-"তাহলে এটাকে আজ থেকেই আমাদের গল্পের প্রথম পাতা ভেবো।" সোহার অধর প্রসারিত হলো এই বাক্যে।

পরের দিন সকালেই তারা রওনা দিল কিয়োটোর পথে। সারাদিন শহরের অলিগলি, আর পুরোনো জাপানের ছোঁয়া মেখে থাকা অচেনা রাস্তায় ঘুরে বেড়াল তারা। খাবারও সারল রাস্তার দোকানে বসে, যেন শহরের প্রাণের ভেতর মিশে যেতে চায় দু’জনেই।

রাত নামতেই শহর ভিজলো ঝুম বৃষ্টিতে। ওরহান আর সোহার হাঁটতে বের হয়েছিল। ছাতা ছিল না, দুজনেই ভিজে গেলো একেবারে। কিন্তু সোহার চোখে এ যেন উৎসবের আনন্দ। বহু বছর পর, সে প্রাণ খুলে বৃষ্টিতে ভিজছে, দুই হাত ছড়িয়ে, মুখ তুলে আকাশের দিকে। ভিজে সোহা যেন বৃষ্টির সাথেই একাকার হয়ে গেছে।

ওরহান থেমে গেল। মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল শুধু। তার কাছে এই দৃশ্য কোনো শিল্পীর আঁকা ছবির থেকেও বেশি মোহময়। সোহার বৃষ্টিপ্রেম আর তার বৃষ্টিভেজা রূপ, দুটোই মিলে এক অচেনা জাদু ছড়িয়ে দিলো চারপাশে।

ধীরে ধীরে ওরহান এগিয়ে এলো সোহার কাছে। হঠাৎই এক ঝটকায় তার হাত টেনে নিয়ে ঘুরিয়ে নিলো নিজের দিকে। মুহূর্তেই দূরত্ব মুছে গেলো। বৃষ্টির ফোঁটায় তাদের মুখাবয়ব ঝলমল করছে। সোহা প্রশ্নভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, আর ওরহানের চোখে ফুটে উঠল এক অদ্ভুত মাদকতা, যেন এই মুহূর্তে সারা পৃথিবী থমকে গেছে, বাকি আছে কেবল তারা দু’জন।

ওরহানের চোখ নিবদ্ধ হলো সোহার কাপতে থাকা ঠোঁটে। সেই কাঁপুনি যেন তাকে এক অদৃশ্য টানে ডেকে নিচ্ছিল। আর নিজেকে সংবরণ করতে না পেরে ওরহান অধিকার নিল সেই নরম, ভেজা, কাঁপতে থাকা ওষ্ঠের। মুহূর্তেই মত্ত হলো দুজন, মাতোয়ারা হলো চুম্বনের আগুনে। স্বাদের অদ্ভুত নৃত্যে মিশে গেলো তাদের নিশ্বাস, উষ্ণতা, আকাঙ্ক্ষা।

ছোট্টখাট্টো দেহখানা ওরহান সযত্নে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে নিল। ভিজে চুল সরিয়ে সে আঙুল গলিয়ে দিলো সোহার ঘাড়ের নরম অংশে। শক্ত করে টেনে আনলো নিজের আওতায়, তারপর এক টানে তুললো উঁচু করে। সোহা তার বুকের শার্টের অংশ আঁকড়ে ধরল তীব্র শক্তিতে। যেন সেই মুঠোয় ধরা ওরহানের হৃদস্পন্দনও অনুভব করতে চাইছে।

চুম্বনের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মুষলধারে নেমে এলো বর্ষণের গতি। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেন সাক্ষী হয়ে পড়লো তাদের অনুরাগের। সোহার হাতের মুঠো আরও শক্ত হলো, বুকের কাছে চেপে ধরলো তাকে। কিন্তু এই অবাধ অনুরাগে ধীরে ধীরে সোহার শরীর শক্তি হারাতে লাগল। তার উঁচু করে রাখা পা দুটো নিথর হলো, বেসামাল ভঙ্গিতে পিছনে সরে এলো দু’পা।

তবু তাতে চুম্বনে কোনো বিরতি এলো না। যেন সেই পিছুটানকেও সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে এলো ওরহান। সেকেন্ডের ভেতর দুজনের দেহের তাল মিলে গেলো বৃষ্টির ছন্দে। ঠোঁটের বন্ধনে, আকাঙ্ক্ষার উন্মাদনায় ভিজে যাচ্ছিল দুজনেই।

অবশেষে দীর্ঘতম সেই চুম্বনের সমাপ্তি হলো। তবে সমাপ্তির সঙ্গেও বিচ্ছেদ এলো না। ওরহান শুধু ঠোঁট সরালো, কিন্তু সোহাকে ছাড়ল না। অতি যত্নে, নিজের বুকে আগলে রাখল। তার আঙুল আলতোভাবে বোলাতে লাগল সোহার ভেজা চোখের পাতার ওপর। আর তার কণ্ঠস্বর, সাগরের থেকেও গভীর, এক রহস্যময় আবেগে ভরা—

-"নীলশ্যামা, তোমার বৃষ্টি পছন্দ আর আমার বৃষ্টিভেজা নীলশ্যামা। আমার বিষরানী... যার বিষে আমায় ভালোবাসার এক মরণ বেঁধিতে আক্রান্ত করেছে।"

সোহা লজ্জায় চোখ মেলতে পারছিল না। তার বুকের ভেতর কাঁপছিলো এক অচেনা নেশা। তবু সেই নেশালো কন্ঠে বলা কথা বাধ্য করলো, কুণ্ঠা ভেঙে অবশেষে চোখ তুললো, সরাসরি তাকালো ওরহানের চোখে। ধীরে ধীরে কাপতে থাকা কন্ঠে বলল—

-"এতো ভালোবাসেন আমায়?"

ওরহান যেন গভীর নিশ্বাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, চারপাশের পৃথিবী মুহূর্তে নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। তার চোখে জমে থাকা অগণিত অনুভূতির ঢেউ হঠাৎই শব্দ হয়ে বেরিয়ে আসে—

-"তোমাকে ভালোবাসা আমার কাছে কোনো সিদ্ধান্ত নয়, এটি আমার অস্তিত্বের মতো। যেমন ভোরের সূর্য উঠবেই, যেমন নদী সমুদ্রে গিয়ে মিলবেই, তেমনই আমার হৃদয় প্রতিটি স্পন্দনে তোমার নাম উচ্চারণ করে। তুমি আমার নিঃশ্বাসে লুকিয়ে থাকা কবিতা, আমার চোখে ভাসমান স্বপ্ন, আমার আত্মায় বাজতে থাকা সুর।

যদি পৃথিবী আমাকে একদিন সমস্ত কিছু থেকে বঞ্চিতও করে, তবুও আমি শুধু তোমাকে চাইব। কারণ তোমার ভালোবাসা ছাড়া আমার জীবন অর্ধেক নয়, অস্তিত্বহীন।"

ওরহান থেমে আবারও বলে—

-"তুমি আমার সূর্য, আমার চাঁদ, আর আমার সব তারা। তুমি ছাড়া আমার সকাল হয়ে ওঠে অন্ধকার, আমার রাত হয়ে যায় নিঃশব্দ। আমি তোমার, নিজেকে উজাড় করে দেওয়া এই আমি আর কিছুই চাই না, আমায় আমার কাছেই ফিরিয়ে দিও না।

তুমি আমার প্রথম প্রিয় হ্যালো, আর তুমি-ই হবে আমার শেষ বিদায়ের সুর। তুমি আমার মোনাজাতের কবুল হওয়া দোয়া, তুমি আমার আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম উপহার। তুমি ছাড়া আমার পৃথিবী অসম্পূর্ণ, তোমাকে পেয়ে আমার জীবন পূর্ণ।

তুমি কেবল আমার ভালোবাসা নও, তুমি আমার অস্তিত্ব, আমার নিঃশ্বাস, আমার প্রাণ। তুমি আমার বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ।"

ওরহান থেমে আকাশের দিকে তাকায় লম্বা শ্বাস নেয় চোখ বন্ধ করে। ওরহান আবারও সোহার দিকে নেশালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল—

-"চারপাশ নিঃশব্দ হয়ে গেছে। বাতাস যেন থমকে দাঁড়িয়েছে আমাদের মাঝখানে। হঠাৎ পৃথিবীর সব আলো ফিকে হয়ে আসে, আর আমি টের পাই, আমার আলো, আমার নিশ্বাস, আমার বেঁচে থাকা সবটুকুই তুমি। এই মুহূর্তে, মনে হয় আকাশের প্রতিটি তারা তোমার চোখে লুকিয়ে আছে, চাঁদের স্নিগ্ধ আলোয় ভেসে বেড়ায় তোমার অবয়ব, আর সূর্যের আগুনও যেন হার মানে তোমার স্পর্শের উষ্ণতায়।

তুমি আমার ভালোবাসার কবিতা, আমার জীবনের উপন্যাস, আমার সমস্ত আবেগ, আমার সমস্ত নাটকীয়তার কেন্দ্রবিন্দু তুমি।"

সোহা মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে শুনছিলো, প্রিয় পুরুষের কণ্ঠে তার জন্যই জমে থাকা সব অনুভবের ঢেউ। আজ যেন ওরহান নিজের খোলস ছিঁড়ে বেরিয়ে এসেছে, নিজের ভেতরের নীরব কথাগুলো এক নিঃশ্বাসে উজাড় করে দিয়েছে সোহার কাছে। চারপাশে নিস্তব্ধতা, বাতাসে হালকা কাঁপন।

সোহা অবাক বিস্ময়ে তার দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে বলল—

-"এত ভালোবাসা আমি কোথায় রাখব? আমি কি সত্যিই এত ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য? মাঝে মাঝে মনে হয়, এ সুখ বোধহয় আমার জন্য নয়, এই বুঝি সবকিছু এক ঝটকায় হারিয়ে যাবে।"

ওরহান ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে সোহার মুখের ওপর থেকে চুল সরিয়ে দিলো। তার স্পর্শে সোহা শিহরিত হয়ে উঠলো। ওরহান নরম অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল—

-"ভালোবাসা রাখার জন্য কোনো স্থান খুঁজতে হয় না, সোহা। এ ভালোবাসা তোমার ভেতরেই জন্ম নেবে, তোমার নিশ্বাসে বাঁচবে, তোমার হাসিতে বেজে উঠবে। আমি তোমার জন্য এই অনুভব জমা করেছি, আর তুমি-ই এ ভালোবাসার একমাত্র ঠিকানা।"

সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিলো, সময় যেনো থমকে দাঁড়িয়েছে। নিস্তব্ধ ঘরের বাতাসে ভেসে আসছিলো কেবল দু’টি হৃদয়ের শব্দ, দু’জন মানুষের অশ্রুত ব্যাকুলতা। যেনো পৃথিবীর সমস্ত আলো এসে জমে আছে কেবল এ দু’জনের চোখের ভেতর।

-"আমি তোমাকে অল্প সময়ের জন্য পেলেও তাতেই তৃপ্ত থাকব। কারণ একেবারেই না পাওয়ার চেয়ে তা অনেক শ্রেয়। আমি তোমাকে নিখুঁতভাবে স্মরণে রাখব, তোমার ত্বকের কোমল ছোঁয়া, তোমার অধরের মিষ্টি স্বাদ আমার স্মৃতির মধ্যে চিরকাল জেগে থাকবে। সে স্মৃতি ব্যথা দেবে, তবু সেটি কেবলই আমার হবে।"

ওরহান কিছু ক্ষণ থেমে, যেন সময়টিকে থামিয়ে রাখতে চায়, তারপর গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে বলল—

-"তুমি দুনিয়ার সব সুখ পাওয়ার যোগ্য। আমার ভালোবাসা, আমার জীবন, এগুলো তোমার পায়ের কাছে তুচ্ছ। তবু আমার জীবন যতটুকু আছে, সেই সময়ের প্রতিটি মুহূর্তে আমি শুধু তোমাকে চাই। মৃত্যুর পরও, পরকালেও, আমি কেবল তোমাকেই চাই।"

ঠিক সেই মুহূর্তে ওরহানের ফোন বেজে উঠল। হঠাৎ সেই নরম, উষ্ণ মুহূর্তে যেনো ছিঁড়ে গেল সময়ের আড়াল। দুজনের নিখুঁত নীরবতা ভেঙে পড়ল। বাংলাদেশ থেকে ওসমানের ফোন।

ওরহান তাড়াহুড়ো করে রিসিভ করল। ওপাশ থেকে কি বলা হলো, তা স্পষ্ট শোনা গেলো না, শুধু তার চোখে ভয়, কণ্ঠে উদ্বেগ স্পষ্ট। তারপর হঠাৎ এক বীভৎস চিৎকার, যা ঘরের দেওয়ালগুলো কেঁপে উঠল—

-"কি বলছিস। শিফাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মানে কি?"

Story Cover