নিস্তব্ধ রাত। চারদিক জুড়ে রহস্যময় নীরবতা। ঘর ভরে আছে ফুলের মিষ্টি সুবাসে, মোমবাতির দপদপে আলোয় দেয়ালে আঁকছে অদ্ভুত ছায়াছবি। জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে আসছে শীতল বাতাস, হালকা পরশে কাঁপিয়ে দিচ্ছে পর্দার প্রান্ত। নিঃশব্দ সেই আবহের মাঝে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে দু’টি মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস, যেন ঘরের নীরবতা ভেদ করে ওরা শুধু একে অপরের অস্তিত্ব অনুভব করছে। সোহা তখনও বিস্ফারিত নয়নে তাকিয়ে আছে ওরহানের দিকে। তার দৃষ্টি যেন প্রশ্নবিদ্ধ, অথচ বিস্ময়ের রেখা খেলা করছে চোখেমুখে।
ওরহান মৃদু হাসছে, এক রহস্যময়, অস্পষ্ট হাসি, যা তার ঠোঁটে খেলে বেড়াচ্ছে নিঃশব্দ কৌতুকের মতো। সেই হাসি যেনো সোহাকে আরও ব্যতিব্যস্ত করে তুললো। ধৈর্যের সীমা ফুরিয়ে গেলো তার।
সোহা হঠাৎই নিজের দুই হাত ওরহানের বুকে ঠেসে তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু যেন পাথরের প্রাচীর, একচুলও নড়ল না সে। সোহা ব্যর্থতার পর হাল ছেড়ে দিলো, তার শ্বাস ভারী হয়ে উঠলো। আর সেই মুহূর্তেই ফেটে বেরোল তার কণ্ঠস্বর—
-"আবারও মিথ্যে বলেছেন আপনি? আপনার স্মৃতি কবে ফিরেছে?"
এই প্রশ্ন যেন রাতের নিস্তব্ধতাকে ছিন্ন করে দিলো। বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে উঠলো, মোমবাতির আলো কেঁপে উঠলো
ওরহান কোনো উত্তর করলো না। শুধু হাত বাড়িয়ে সোহার হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরলো নিজের বুকে। মুহূর্তটুকু যেনো নিস্তব্ধতার এক অদ্ভুত ফাঁদে আটকে গেল। চারপাশে আর কিছু নেই, শুধু দ্রুত কাঁপতে থাকা শ্বাসের শব্দ আর অস্থির হৃদস্পন্দনের গুঞ্জন।
ধীরে ধীরে ঝুঁকে এলো ওরহান। তার মুখ ডুবে গেলো সোহার গলার বাঁকে। সোহা শিউরে উঠলো। ওরহানের উষ্ণ নিশ্বাস তার গলার বাঁকে এসে গলে যেতে লাগলো, যেনো ঝড়ো হাওয়ার ভেতরেও এক দহনময় শিখা ছড়িয়ে পড়ছে। নাকের ছোঁয়ায় গলার বাঁকে ওরহান যেনো নিজের ভালোবাসার অমোঘ চিহ্ন এঁকে দিতে চাইছে।
সোহা মুক্তি পাবার জন্য ছটফট করতে লাগলো। কিন্তু তার দু’হাত তখনো ওরহানের বুকে বন্দী। মোচড়ামুচড়ির প্রতিটি ঢেউ যেনো উল্টো ওরহানের অন্তর্গত আগুনকে আরও উসকে দিলো। তার চোখে হঠাৎই ফুটে উঠলো বিরক্তির তীব্র রেখা, আর সেই অস্থির আবেগে সে সোহার গলায় হালকা কামড় বসালো।
ব্যথাতুর শব্দ ছিটকে বেরিয়ে এলো সোহার ঠোঁট থেকে, কিন্তু সেই শব্দে লুকানো ছিলো এক অচেনা মিশ্রণ, ব্যথার সাথে ভালোবাসার কাঁপন।
তবুও ওরহান মুখ সরাল না। গলার বাঁক জুড়ে মুখ ডুবিয়েই ফিসফিস করে উঠলো—
-"তুমি যতই দূরে সরে যেতে চাও, আমি ততই আরও গভীরভাবে তোমাকে চাই, সোহা... তুমি আমার শিরায় বইছো, আমার নিঃশ্বাসে মিশে আছো। তোমার থেকে দূরে থাকার কথা কল্পনাতেও অসম্ভব, কারণ তুমি আমার ভেতরের প্রতিটি আকাঙ্ক্ষার নাম।"
তার কণ্ঠস্বর যেনো রাতের অন্ধকারে প্রজ্জ্বলিত এক অগ্নিশিখা, ঝড়ে দুলছে, অথচ নিভছে না। চারপাশের নীরবতাও যেনো থমকে দাঁড়িয়েছে, নিঃশব্দে সাক্ষী দিচ্ছে এই বেদনাময় অথচ তীব্র ভালোবাসার মুহূর্তের।
-"তুমি কি ভেবেছো আমি তোমাকে চিনব না?
আমেরিকায় যেদিন প্রথম তুমি আমার সামনে এসে দাঁড়ালে, সেদিনই আমার সবকিছু মনে পড়ে যায়। যখন তুমি গল্প বলছিলে। আমার পাগলামির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলে, সেই মুহূর্তে যেনো হারানো অতীত ফিরে পেলাম আমি।
আমি ওরহান, মাইলের পর মাইল দূর থেকেও তোমার অস্তিত্বের টান অনুভব করি। সেখানে তুমি ছিলে আমার একদম নিকটে, আর আমি তোমায় চিনব না, এটা কি কখনো সম্ভব?
যতই তুমি মুখ আড়ালে রাখো, তোমার নিশ্বাস আমার চেনা। হৃদস্পন্দনের প্রতিটি ধ্বনি আমার কাছে পরিচিত। নিজের অস্তিত্বের অর্ধেককে যদি আমি চিনতে না পারি, তবে আমি কেমন প্রেমিক?"
সোহা কাপছে। ওরহানের প্রতিটি কথা তার হৃদয়ে শুপ্ত অনুভূতির আগুন জাগিয়ে তুলছে। বুকের ভেতর ঢেউ খেলে যাচ্ছে, শ্বাস প্রশ্বাস এলোমেলো হয়ে উঠছে। চারপাশ যেনো থমকে গেছে, কেবল ওরহানের কণ্ঠ আর সোহার হৃদস্পন্দন মিলেমিশে এক অদ্ভুত সুর তুলছে।
সোহা কাপা কণ্ঠে ধীরে বলল—
-"এতদিন বলেন নি কেনো?"
ওরহান মুখ তুলে তাকালো সোহার দিকে। চোখে জ্বলে উঠলো এক গভীর কোমলতা। লজ্জায় সোহার নাকের পাটা লাল হয়ে উঠেছে, তিরতির করে কাঁপছে তার নরম অধর। যেনো সে নিজেকে লুকোতে চাইছে, অথচ পারছে না।
ওরহান নিষ্পলক তাকিয়ে রইলো সেই অধরের দিকে। মুহূর্তটি ভারী হয়ে উঠলো অদৃশ্য টানে। বাতাসও যেনো নিঃশ্বাস আটকে রেখেছে। তারপর ওরহান হাস্কি কণ্ঠে ধীরে বলল—
-"নিজের ভালোবাসা প্রমাণ করতে। তোমরা তো চেয়েছিলে আমি পরীক্ষা দেই, দিলাম পরীক্ষা। এখন বলো, পাস করেছি?"
তার কণ্ঠে বাজলো দুঃসাহসী চ্যালেঞ্জ আর এক নিঃশর্ত ভালোবাসার ঘোষণা। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিলো, পুরো পৃথিবী নিস্তব্ধ হয়ে গেছে কেবল এই দু’জনের জন্য।
সোহা এক মুহূর্তের জন্য স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ওরহানের চোখে। সেই চোখে জ্বলছিলো এক অদ্ভুত নেশা, এক অব্যক্ত আকুলতা, যেনো দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে সে খুঁজে পেয়েছে তার জীবনের চূড়ান্ত তৃষ্ণার উৎস। সোহার বুকের ভেতর ধক ধক শব্দ প্রতিধ্বনিত হলো। অস্থির কণ্ঠে কিছু বলার চেষ্টা করলেও ঠোঁট কেঁপে উঠলো। আর ঠিক তখনই ঝড়ের মতো ওরহান ছিনিয়ে নিলো সেই নরম অধর।
চোখ জোরে বন্ধ করে নিলো সোহা। ওরহান তখন ডুবে আছে নিজের অধিকারের মদিরায়। সেই চুম্বনে জেগে উঠলো ছয় বছরের জমাটবাঁধা আকাঙ্ক্ষা, অগ্নিদগ্ধ না বলা স্বীকারোক্তি। যেনো দীর্ঘ মরুভূমি শেষে হঠাৎ সে খুঁজে পেয়েছে প্রাণের ঝর্ণাধারা। প্রতিটি টানে, প্রতিটি দহনময় স্পর্শে ওরহান মেটাচ্ছে তার অন্তহীন তৃষ্ণা।
ঘর যেনো স্তব্ধ হয়ে দাঁড়ালো। শুধু শোনা যায় দ্রুত কাঁপতে থাকা শ্বাস আর হৃদস্পন্দনের শব্দ। বাতাসও ভারী হয়ে উঠেছে, সময় থেমে আছে এক অচেনা আবেশে। দীর্ঘ দশ মিনিট পর ওরহান ধীরে ধীরে মুক্তি দিলো সোহার কাঁপা ঠোঁটকে। দুজনেই হাঁপাচ্ছে, হৃদস্পন্দন এতটাই জোরে ধকধক করছে, যেনো তা শোনা যায় নিস্তব্ধ ঘরজুড়ে।
ওরহান কপাল ঠেকিয়ে দিলো সোহার কপালে। উষ্ণ নিঃশ্বাস এসে মিশে গেলো একে অপরের মুখে, সৃষ্টি করলো অজানা উন্মাদনা। সোহার গাল রাঙা হয়ে উঠলো লজ্জায়, কিন্তু চোখ তুলে তাকাতে পারলো না সে। সেই নীরবতার ভেতর দিয়ে ওরহান ফিসফিস করে বললো—
-"ছয় বছরের দহনজ্বালায় পুড়িয়েছ আমায়... আজ তোমার পালা।"
বলেই আবারও আঁকড়ে ধরলো সোহার অধর। এবার তার হাতের অবাধ বিচরণ ছড়িয়ে পড়লো সোহার সর্বাঙ্গে। সোহার শরীর কেঁপে উঠলো সেই নির্লজ্জ অথচ আপন স্পর্শে। বেসামাল হয়ে উঠলো সে, অথচ ওরহানকে থামানো যেনো অসম্ভব। ছয় বছরের বাঁধভাঙা ভালোবাসা আজ যেনো নদীর স্রোতের মতো উজাড় হয়ে বেরিয়ে আসছে ওরহানের ভেতর থেকে।
সোহা ওরহানের বুকে মুখ লুকিয়ে ফেলতেই ওরহানের হৃদস্পন্দন যেনো আরও তীব্র হয়ে উঠলো। দু’হাত দিয়ে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে সে সোহার অস্তিত্বকে নিজের ভেতরে মিশিয়ে নিতে চাইলো। গলায় মুখ ডুবিয়ে দিলো, সোহার কাঁধ জুড়ে ছড়িয়ে পড়লো তার গরম নিশ্বাস। সোহা শিউরে উঠলো, চোখ বুজে যেনো সমর্পণ করলো নিজেকে।
ওরহানের ঠোঁট ছুঁয়ে ছুঁয়ে নামলো সোহার গলার রেখায়, নিশ্বাসের স্রোত তোলপাড় করে দিলো তার রক্তস্রোত। সোহার কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এলো চাপা আর্তনাদ, যা ছিলো ভালোবাসার নিখাদ সুর। এই মুহূর্তে চারপাশে কোনো শব্দ নেই, নেই কোনো আলাদা সত্তা, শুধু একাকার হয়ে যাওয়া দুটি প্রাণের উন্মত্ত ভালোবাসার প্রতিধ্বনি।
সারারাত ওরহান মুড়িয়ে রেখেছিলো সোহাকে নিজের ভালোবাসার চাদরে। একবারও সোহা তাকে বাধা দেয়নি। স্বামী–স্ত্রীর ভালোবাসার সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তে, তারা দুজনই যেনো হারিয়ে গেলো একে অপরের ভেতরে। ভালোবাসার প্রতিটি ছোঁয়া, প্রতিটি নিঃশ্বাস একাকার হয়ে মিশে যাচ্ছিলো।
রাতের নিস্তব্ধতায় বাইরে হয়তো হালকা বাতাস বইছিলো, কিন্তু ঘরের ভেতরে শুধু তাদের হৃদস্পন্দনের প্রতিধ্বনি। সোহা ক্লান্ত অথচ তৃপ্ত এক হাসি মুখে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। ঘুমন্ত সোহাকে দেখে মনে হচ্ছিলো, সে শুধু ওরহানের বুকে নয়, তার হৃদয়ের গভীরতম আশ্রয়ে নিরাপদে ঘুমিয়ে আছে।
ওরহান দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে রইলো তার দিকে। মনে হচ্ছিলো, এই নারীই তার জীবনের পূর্ণতা, তার প্রতিটি দুঃখ–কষ্টের ওষুধ। ভোরের প্রথম আলো জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই ওরহান আস্তে করে সোহার কপালে চুমু খেলো, যেনো সেই আলোকে সাক্ষী রেখে প্রতিজ্ঞা করলো, এই নারীকে সারাজীবন আগলে রাখবে।
.
.
.
সকাল ঠিক ১০টা। খান বাড়িতে আজ এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ। যেনো দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আনন্দের অমৃতধারা নেমে এসেছে। ওরহানের জীবনে সোহা এসেছে, এই একটুকুই যেন সবার জীবনের চরম প্রাপ্তি। বহুদিনের নিঃসঙ্গতা শেষে আজ ওরহান সুখের ছায়ায় আশ্রয় পেয়েছে, আর সেই সুখের আভা ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র খান বাড়ির অন্দরে-বাহিরে।
ভোর থেকে নাস্তার তোড়জোড়ে ব্যস্ত সবাই। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে গরম পরোটা ভাজার শব্দ, চায়ের মৃদু সুগন্ধ, আর মিষ্টির টুকরো টুকরো সুবাস। বাড়ি বেড়েছে তিনজন নতুন বউয়ে, তাদের পছন্দ-অপছন্দকে ঘিরেই টেবিল সাজানো হয়েছে পরিপাটি করে। যেন প্রতিটি খাবারের সাথে মিশে আছে ভালোবাসা আর আতিথ্যের অর্ঘ্য।
ড্রয়িং রুমের একপাশে বসে গল্প করছে শিফা ও সাবা। তাদের হাসির শব্দ মিলেমিশে যাচ্ছে উৎসবের আবহে। বাড়ির বাকি নারীরা ব্যস্ত রান্নাঘরে। এদিকে ওসমান বেরিয়ে গেছে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র আনতে, আর ওমর খান বসে গল্প জমিয়েছেন নতুন বেয়াইয়ের সাথে।
তবে তিন বউ এখনো নিচে নামে নি। রাত গভীর পর্যন্ত ক্লান্তি আর হাসি-আনন্দে মেতে থাকার কারণে তাদের আর ডাকা হয় নি। বাড়ির সবার চোখে-শুনশান সেই প্রত্যাশা, কখন তারা সেজেগুজে নামবে আর মিলিয়ে যাবে সকালবেলার এই মহোৎসবে।
অবশেষে ধীর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নামল মুফতি-কেয়া ও মারুফ-পায়েল। নবদম্পতিদের রূপ যেন সকালবেলার আলোয় আরও দীপ্তিময় হয়ে উঠল। কেয়া শাড়ির আঁচলে নিজেকে ঢেকে রেখেছে, পায়েলও স্নিগ্ধ আভায় জড়ানো। তারা নেমেই শ্বশুরদের সালাম জানাল, তারপর সোজা রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। এদিকে মুফতি ও মারুফ গিয়ে বসলেন বাবা-চাচাদের সঙ্গে, হাসিমুখে চলছে কথোপকথন, নতুন সম্পর্কের উষ্ণতার সেতুবন্ধন।
তবুও এই প্রাণোচ্ছল পরিবেশে যেন এক অনুচ্চারিত প্রতীক্ষার ঢেউ বইছে, সবাই এখন অপেক্ষা করছে ওরহান আর সোহার জন্য। যেন এই দুজনের আগমনেই সম্পূর্ণ হবে সকালের আনন্দ, পরিপূর্ণ হবে উৎসবের টেবিল। সবার চোখ এক অদৃশ্য সিঁড়ির দিকে নিবদ্ধ, কখন নেমে আসবে ওরা, আর মিলিত হবে একসাথে সেই প্রাতঃভোজে, যা শুধু খাবার নয়, বরং পরিবারের ঐক্যের এক স্মরণীয় অধ্যায়।
.
.
.
সোহার ঘুম ভেঙেছিল অনেকক্ষণ আগেই। অথচ, ওরহান তখনও তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছিল। তার বুকে মুখ গুঁজে যেন এক অদৃশ্য কারাগারে আবদ্ধ হয়ে ছিল সোহা। ঘণ্টা খানেক চেষ্টার পর অবশেষে নিজেকে মুক্ত করতে পারল সে। ওরহান তখনও গভীর নিদ্রার জগতে তলিয়ে, নিশ্চিন্ত শিশুর মতো ঘুমোচ্ছে।
সোহা নিঃশব্দে উঠে সোজা ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল। কিন্তু হাতের কাছে নিজের পোশাক না পেয়ে ওরহানের একটি শার্ট হাতে পেয়ে গেল, সেটাই আঁকড়ে নিয়ে দৌড়ে ঢুকে পড়ল ভেতরে।
কিছুক্ষণ পর সোহা বেরিয়ে এলো। সদ্যস্নাত দেহে ভেজা চুল থেকে টুপটাপ করে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে পড়ছে মেঝেতে। সে চোখ তুলে তাকাতেই দেখল, বিছানায় উপুর হয়ে এখনও ঘুমিয়ে আছে ওরহান। প্রশান্তির গভীর ছায়া লেপ্টে আছে তার মুখে।
ধীরে ধীরে সোহা এগিয়ে গেল ড্রেসিং টেবিলের সামনে। ওরহানের ঢিলেঢালা শার্ট গিয়ে তার হাঁটুর কাছে এসে ঠেকেছে। আয়নায় ভেসে উঠল এক অনাবিল দৃশ্য, সোহা যেন নিজেই নিজের অপরূপ রূপে বিস্মিত। ভেজা চুল, লাজুক মুখশ্রী আর চঞ্চল চোখে এক অন্যরকম নূর ছড়াচ্ছে। নিজেকে এভাবে দেখে সে এক মুহূর্তের জন্য লজ্জায় লাল হয়ে গেল।
কিন্তু পরক্ষণেই চোখে পড়ল তার গলা ও কাঁধজুড়ে ছড়িয়ে থাকা গভীর কালশিটের দাগ। সেই দাগ যেন আগের রাতের অব্যক্ত গল্প বলছে। সোহা ধীর ভঙ্গিতে চোখ ঘুরিয়ে তাকাল ওরহানের দিকে। ওরহানের পিঠজুড়ে ছড়িয়ে আছে নখের আঁচড়ের রেখা, যেন যুদ্ধের ময়দানে বেঁচে ফেরা কোনো সৈনিকের স্মৃতি। একটি ইঞ্চিও বাদ রাখেনি সে।
সোহা মুচকি হেসে ধীরে ধীরে ওরহানের মাথার কাছে গিয়ে বসল। তার কপালের ওপর নরম হাতে চুল সরিয়ে দিল। তারপর সোহা এক মায়াবী কোমলতায় ঝুঁকে পড়ে ওরহানের কপালে চুমু খেল। মুহূর্তটি যেন থমকে দাঁড়াল। তারপর ফিসফিস স্বরে, ভোরের আলো আর নিস্তব্ধতার ভেতর দিয়ে সে ধীরে ধীরে বলল—
-"হীর... শুনছেন? উঠুন!"
কিন্তু ওরহানের কোনো সাড়া নেই। নিস্তব্ধ ঘরটিতে শুধু তার ঘুমের প্রশান্ত নিশ্বাস মিলেমিশে বাজছে। সোহা আবারও নরম কণ্ঠে উচ্চারণ করল—
-"হীর, উঠুন।"
এইবার ওরহান অনুভব করল আঙুলের ডগায় সোহার ঠান্ডা স্পর্শ। দেহ একটু নড়েচড়ে উঠল, তবু চোখ বন্ধ রেখেই নিদ্রালু কণ্ঠে বিড়বিড় করল—
-"উম... কি হয়েছে? ঘুমোতে দাও না!"
সোহা এবার আর ধৈর্য ধরতে পারল না। দু’হাত দিয়ে তাকে আলতো ধাক্কা দিয়ে জোরে বলল—
-"আরে উঠুন! আমার জামা-কাপড় নেই। নিচে নামতে হবে... সবাই অপেক্ষা করছে।"
ধীরে ধীরে ওরহান চোখ মেলল। আধো ঘুমে ভিজে থাকা চোখের দৃষ্টি গিয়ে আটকে গেল সোহার রূপে। ভেজা চুল কাঁধ বেয়ে ঝরে পড়ছে, গায়ে জড়ানো ওরহানের ঢিলেঢালা শার্ট হাঁটু থেকে পা পর্যন্ত উন্মুক্ত রেখেছে। সদ্যস্নাত দেহে এক অপার্থিব আভা, যেন ভোরের আলোয় খোলা প্রভাতী ফুল।
ওরহানের ঠোঁটে ম্লান অথচ মুগ্ধ হাসি খেলে গেল। ঘোরলাগা কণ্ঠে সে বলল—
-"অসাধারণ লাগছে তোমায়, জান। সকাল সকাল কি রূপ দেখালে তুমি!"
তার চোখে তখন আবারও দাউদাউ করে জ্বলে উঠল রাতের অবশিষ্ট নেশা। স্বপ্নঘোরে ভরা স্বরে ফিসফিস করে যোগ করল সে—
-"চলো, কাল রাতের মুহূর্তে ফিরে যাই। আরেকবার হোক...!"
ঘরজুড়ে যেন বাতাস থেমে গেল। সকালবেলার আলো, ভেজা চুলের গন্ধ আর ওরহানের কণ্ঠে মিশে তৈরি হলো এক অপার নাটকীয় আবহ, যেখানে সময়ও থেমে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে, এই দুজনের হৃদস্পন্দনের সাথে তাল মিলিয়ে।
শেষ বাক্য উচ্চারণ করে ওরহানের ঠোঁটে খেলে গেল এক দুষ্টুমিভরা হাসি। মুহূর্তেই সোহা লজ্জায় পেয়ে লাল হয়ে উঠল। তার ছোট্ট হাতটা দপ করে এসে পড়ল ওরহানের পিঠে।
-"বেহায়া, নির্লজ্জ পুরুষ! উঠুন। আমার জামা-কাপড়ের ব্যবস্থা করুন।"
ওরহান হো হো করে হেসে উঠল। সেই হাসি যেন ঘর ভরিয়ে তুলল দুষ্টুমির অদ্ভুত সুরে। চোখ আবারও আধবোজা করে সে মগ্ন কণ্ঠে বলল—
-"সোহা জান আমার... এটা তোমার ঘর। আর তোমার ঘরে তোমার জিনিস থাকবে না, বিষয়টা কেমন বেমানান শোনায় না?"
সোহার কপালের ভাঁজ আরও গভীর হলো। বিস্মিত চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল—
-"মানে?"
এইবার আর ঘুমন্ত ভান রইল না। ওরহান হঠাৎ উঠে বসলো। শক্ত হাতে সোহার হাত ধরে টান দিল, আর মুহূর্তেই সোহা মেঝে থেকে উঠে এসে পড়ল তার কোলে। ওরহান ঝুঁকে গিয়ে সোহার গলায় মুখ ডুবিয়ে দিল। মৃদু স্বরে ফিসফিস করে বলল—
-"তোমার প্রয়োজনীয় সবকিছু এই ঘরেই আছে। খুঁজে দেখলেই পাবে।"
সোহা হালকা ধমক দিয়ে বলল—
-"আচ্ছা, বেশ! ছাড়ুন তবে। দেখি কি আছে।"
ওরহান মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে নেশাভরা স্বরে বলল—
-"থাক না, জান। আমার শার্টেই তোমাকে বড্ড মানিয়েছে। এভাবেই থাকো..."
সোহার চোখ বিস্ফারিত। কণ্ঠে উৎকণ্ঠা, লজ্জা আর বিরক্তির মিশ্র সুর—
-"পাগল নাকি আপনি? শুধু একটা শার্ট পরে কি সবার সামনে যাব আমি? ছাড়ুন, অসভ্য পুরুষ!"
ওরহান ঠোঁটে আরও চওড়া হাসি ফুটিয়ে বলল—
-"না ছাড়লে হবে না জান?"
সোহা ধপাস করে জবাব দিল—
-"না, হবে না! ছাড়ুন!"
অবশেষে সোহার ধস্তাধস্তিতে হার মানল ওরহান। বালিশে হেলান দিয়ে গিয়ে বসলো সে। সোহা ছাড়া পেয়েই এক নিঃশ্বাসে উঠে গেল কাবার্ডের কাছে।
ওরহানের বিশাল ছয় পাল্লার কাবার্ড সামনে দাঁড়িয়ে প্রথমে এক এক করে তিন পাল্লা খুলল সোহা। সবগুলোই ওরহানের জামা-কাপড়ে ঠেসে রাখা। কিন্তু যখন পরের তিন পাল্লা খুলল, তার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল বিস্ময়ে। শাড়ি, থ্রিপিস, নানারকম পোশাক, আর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সাজসজ্জার প্রতিটি জিনিস, সব কিছুতেই ঠাসা। যেন আগেভাগেই সাজানো এক নারীর স্বপ্নের আলমারি।
সোহা বিমূঢ় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। এ দৃশ্য দেখে তার চোখে জল আসার উপক্রম। ঠিক তখনই ওরহান ধীর পায়ে উঠে এসে তার নিকটে দাঁড়াল। পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরল, সোহার কাধে মুখ রাখল। কানের পাশে মুখ নিয়ে মোলায়েম স্বরে বলল—
-"এখনও বুঝতে পারোনি? এই ঘরটা যেমন আমার, তেমনি তোমারও। তোমার প্রতিটি প্রয়োজন, প্রতিটি ইচ্ছে, আমি আগেই জেনে রেখেছি, জান।"
ওরহান ঠোঁটে সেই দুষ্টুমি ভরা হাসি রেখে কোমল স্বরে বলল—
-"তুমি আসবে বলে আমি সব আগে থেকেই জোগাড় করে রেখেছি, বেবি!"
সোহা কিছু বলল না। নিঃশব্দে শাড়ির স্তূপ থেকে একটি শাড়ি বেছে নিল। আঙুলে ধরে কাপড়টা মাপতে মাপতে হালকা ভঙ্গিতে ওরহানের দিকে ঘুরে বলল—
-"ফ্রেশ হয়ে আসুন, সবাই অপেক্ষা করছে।"
ওরহান হঠাৎ রাজকীয় ভঙ্গিতে মাথা নুইয়ে হাতজোড় করে উত্তর দিল—
-"যথা আজ্ঞা, মহারানী!"
সোহার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই ফুটে উঠল হাসি। ওরহানের এই শিশুসুলভ কাণ্ডে যেন সকালটা আরও রঙিন হয়ে উঠল। কিছুক্ষণ পর ওরহান বাথরুমের দিকে রওনা হলো।
সুযোগ বুঝে সোহা তাড়াহুড়ো করে শাড়ি পরে নিল। পায়ের নূপুরের মৃদু ঝংকারে, ভেজা চুল কাঁধে ছড়িয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে নেমে এলো সিঁড়ি বেয়ে।
নিচে নামতেই যেন চারপাশ আলোয় ভরে উঠল। সোহাকে ঘিরে ধরল সবাই, সাবা, শিফা, পায়েল আর কেয়া। দুষ্টুমির হাসি, খুনসুটি আর ঠাট্টায় মুহূর্তেই জমে উঠল পরিবেশ। একসাথে এতজনের উচ্ছ্বাসে সোহার মুখ রাঙা হয়ে উঠল, অথচ তার লাজুক রূপ যেন আরও দীপ্তিময় হলো।
সোহা লজ্জায় মাথা নিচু করে শুধু হালকা করে চোখ রাঙাল সবাইকে। কিন্তু দুষ্টুমিবাজরা কে-ই বা সে চোখকে ভয় করে? বরং তারা আরও মজা নিতে শুরু করল।
সাবার ঠোঁট থেকে ছিটকে এলো এক খুনসুটি ভরা প্রশ্ন—
-"কি আপু, দাদাভাইয়ের ভালোবাসার ডোজ কেমন ছিল?"
সোহার মুখ লাল হয়ে উঠল। উত্তর দেবার আগেই পাশ থেকে পায়েল যোগ করল—
-"আহারে বেচারী! এক রাতেই চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে। আমার ভাসুর বোধ হয় সারারাত ঘুমোতে দেয়নি ওকে।"
পায়েলের কথায় সবাই মুখ চেপে হাসল। সোহা এবার কটমট করে তাকিয়ে বলল—
-"বাসর কি শুধু আমার একার ছিল? আর দুজনেরও তো কাল বিয়ে হয়েছে। কই, তোমরা কি তবে স্বামীসোহাগ পাওনি?"
কেয়া মুখটা দুখী দুখী করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল—
-"সোহাগ নাকি! তোমার দেবর ঘরে গিয়ে শুধু আমাকে একটা আংটি পরিয়ে দিল। আমি মুগ্ধ নয়নে সেই আংটি দেখছিলাম, পাশ ফিরে তাকাতেই দেখি, মশাই ঘুমে কুপোকাত!"
সবাই হো হো করে হেসে উঠল। পায়েল এইবার সুর মেলাল—
-"তোকে তাও আংটি দিয়েছে। আমার জন তো ঘরে ঢুকেই বলল—
:লাইট নিভিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। আজ অনেক ক্লান্ত, চোখ খুলে রাখাই মুশকিল।' এই বলে বিছানায় গিয়ে এমন ঘুমাল, সেকেন্ডের মধ্যেই খরগোশের মতো নাক ডাকতে শুরু করল! বল তো বাবা, প্রথম রাত তাও বাসর, এভাবে কি চলে?"
পায়েলের দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে আবারও এক দফা হইচই আর অট্টহাসি ছড়িয়ে পড়ল ঘরে। হাসির মাঝেই শিফা নাক ছিটকে ফিসফিস করল—
-"আহা! একমাত্র ননদের সামনে নিজেদের বাসরের রাগ নিয়ে কথা বলতে লজ্জা করে না তোমাদের?"
তার কথায় সবার হাসি আরও জোরে ফেটে পড়ল। সাবা চতুর ভঙ্গিতে শিফার দিকে তাকিয়ে বলল—
-" বাসরঘরের দরজায় আড়ি পাতার বুদ্ধিটা কে দিয়েছিল, শিফা?"
শিফা তখন লজ্জায় কুঁকড়ে গিয়ে মুখ ঢাকল। মুহূর্তেই হাসির ঢেউ আরও তীব্র হলো। যেন পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল সেই খিলখিল শব্দে।
ঠিক তখনই বাড়ির পুরুষরা ড্রয়িং রুমে এসে পড়ল। মহিলারা হেসে গুছিয়ে সরে দাঁড়াল, স্থান করে দিল তাদের জন্য। পুরুষরা গম্ভীর অথচ স্নিগ্ধ ভঙ্গিতে বসে পড়ল। চারপাশে নীরবতা নেমে এলো। চোখ ঘুরে এসে থামল নতুন বউদের দিকে। তারপর খানদানি ভঙ্গিতে, মমতামাখা কণ্ঠে বলা হলো—
-"তোমরাও বসে পড়ো। আমাদের খাবার পরিবেশন করার দরকার নেই। তোমাদের শাশুড়ি আছেন, নিশ্চিন্তে বসো।"
শ্বশুরের কণ্ঠে ছিল এমন এক দৃঢ়তা, যা মুহূর্তেই ঘরে নীরব সম্মতি নামিয়ে আনল। কারও ভেতরে দ্বিমত জাগল না। সবাই যার যার স্বামীর পাশে গিয়ে বসল। সোহা নিঃশব্দে এক কোণে গিয়ে বসল, তার পাশে একটি চেয়ার ফাঁকা রয়ে গেল। ঠিক তখনই ওরহান শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে ধীরপদে এগিয়ে এসে সেই ফাঁকা চেয়ার দখল করল। এক পলকের জন্য সোহার চোখে-মুখে অনির্বচনীয় আলো ঝলকে উঠল।
চারদিকে আনন্দ-আলোচনার হইচই। হাসি-ঠাট্টার মধ্যেই সকালের নাস্তা শেষ হলো। তারপর সবাই ড্রয়িং রুমে গিয়ে জমে বসল, যেন উৎসবের পর আরেক উৎসব। আজ মেয়ের বাড়ির সবাই খান বাড়িতেই থাকছে, তাই বিয়ের পর ফিরানীর বাড়তি আয়োজনের প্রয়োজন পড়ল না।
কথোপকথনের ভিড়ে হঠাৎ ওরহান উঠে এসে সোফায় বসলো। তার হাতে ঝকঝকে দুটি ফ্লাইট টিকিট। দৃষ্টি গম্ভীর, অথচ ঠোঁটে খেলছে রহস্যময় হাসি। মুফতি ও মারুফের দিকে টিকিট বাড়িয়ে দিয়ে বলল—
-"আজ রাতেই তোমাদের ফ্লাইট। সুইজারল্যান্ডে হানিমুনে যাচ্ছ তোরা।"
শুনেই মুফতি আর মারুফ খুশিতে ফেটে পড়ল। শিশুসম উচ্ছ্বাসে বউদের কোলের উপর তুলে নিয়ে ঘুরতে লাগল। ঘর ভরে গেল হাসি আর উল্লাসে।
কিন্তু ভাসুরদের সামনে এই অকপট উল্লাস কেয়া আর পায়েলের মুখে লজ্জার লাল আভা ছড়িয়ে দিল। তারা তাড়াতাড়ি শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল। ঠিক তখনই ওরহান ও ওসমান গলা খাঁকারি দিল, গভীর ও কড়া স্বরে। কাশির সেই শব্দে দুই ভাইয়ের হুঁশ ফিরল। তড়িঘড়ি করে নামিয়ে দিল নববধূদের, অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে মাথা নিচু করে মাথা চুলকাতে লাগল।
দৃশ্যটা দেখে সাবা, শিফা আর সোহা হাসি সামলাতে পারল না। তাদের খিলখিল হাসিতে ড্রয়িং রুমে জমে উঠল নতুন প্রাণ, যেন পুরো বাড়িই আনন্দে শ্বাস নিচ্ছে।
ওসমান হঠাৎ কথার মোড় ঘুরিয়ে ওরহানের দিকে তাকাল।
-"তোমরা কোথাও যাবে না?"
ওরহান মৃদু হাসি মুখে উত্তর দিল—
-"যাবো!"
ওসমান ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করল—
-"কোথায়?"
-"জাপান!" এক কথাতেই উত্তর এল।
-"কবে যাবে?"
ওরহান শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল—
-"আমাদেরও আজ রাতেই ফ্লাইট।"
এই সময় রান্নাঘরের ভেতর থেকে হঠাৎ তীব্র শব্দে পা ফেলার আওয়াজ। ছুটে এলেন নিলুফার বেগম। হাতে আঁকড়ে ধরা মোবাইল ফোন, চোখ-মুখ ভয়ে আর অস্থিরতায় কাঁপছে। হাঁপাতে হাঁপাতে তিনি ড্রয়িং রুমে এসে দাঁড়ালেন। তারপর যেন বজ্রপাতের মতো চিৎকার করে উঠলেন—
-"সোহা! তোর বাবা..."