ফিরে দেখা

পর্ব - ৩১

🟢

আজ খান বাড়ি যেন উৎসবের আলোয় ভেসে যাচ্ছে। চারদিক থেকে ভেসে আসছে ঢাকঢোলের শব্দ, আলোয় ঝলমল করছে বিশাল অট্টালিকা। মুফতি ও মারুফের বিয়ে উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে এমন এক মহোৎসব, যেন পুরো শহরই খান বাড়ির ছাদের দিকে চেয়ে আছে।

খান বাড়ির বিস্তৃত ছাদে সাজানো হয়েছে রাজকীয় আসর। ঝাড়বাতির আলোয় আলোকিত সেই আসর যেন স্বপ্নের প্রাসাদ। আত্মীয়স্বজন, ব্যবসায়িক অংশীদার, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী, সবাই এসেছে একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে। কোথাও গম্ভীর আলাপ, কোথাও হাসি-ঠাট্টা, আবার কোথাও কেবল খাবারের আসরে ব্যস্ত মানুষজন, পুরো পরিবেশটাই যেন উচ্ছ্বাসের ঢেউয়ে ভাসছে।

স্টেজে সগৌরবে বসে আছে মুফতি ও মারুফ। আলোকছটার নিচে তারা যেন একসাথে দাঁড়ানো দুই রাজপুত্র, যাদের চারপাশে সাজানো হয়েছে আনন্দের মঞ্চ। অন্যদিকে, ঘরের ভেতরে বসানো হয়েছে কেয়া ও পায়েলকে। চার বছর আগে তারা পরিবারসহ বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল, আর এবার শুধুমাত্র এই বিয়ের আনন্দে এসেছে দেশে। তাদের উপস্থিতিই যেন খান পরিবারের প্রাণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সেই কারণেই ওমর খান নিজ বাড়িতেই সব অনুষ্ঠান করার জেদ ধরেছিলেন, কারণ তিনি চেয়েছিলেন, পরিবারের প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি হাসি, প্রতিটি মুহূর্ত হোক এই বাড়ির স্মৃতির সঙ্গে বাঁধা।

ঘরের ভেতর নারীদের কোলাহল, হাসি, গল্প আর সাজগোজের ধ্বনি যেন আলাদা এক পৃথিবী গড়ে তুলেছে। এদিকে ওরহান ও ওসমান বিয়ের প্রতিটি কাজে এতটাই ব্যস্ত যে তাদের ছায়াও অন্য কোথাও নেই। গায়ে হলুদের রাতেই ওরহান অফিসের দায়িত্ব শেষ করে বাড়ি ফিরেছিল। বাড়ি ফিরেই যেন সে কাজের ঘূর্ণিতে ঢুকে গেছে। তার চোখে-মুখে ক্লান্তির রেখা থাকলেও, হৃদয়ের ভেতর জ্বলছে উৎসবের উত্তাপ। আজ খান বাড়ির প্রতিটি দেয়াল যেন সাক্ষী, আনন্দ, আবেগ আর মিলনের এই মহামুহূর্তের।

মানুষের ভিড় জমেছে খান বাড়ির বিশাল ছাদ জুড়ে। কোলাহলের ভেতর এক অদ্ভুত গুঞ্জন বয়ে চলেছে। কারো চোখে প্রশংসার ঝিলিক, কারো মুখে ঈর্ষার আঁচড়। যেন আনন্দের আবরণ ছিঁড়ে বেরিয়ে আসছে কৌতূহল আর কুত্সার ফিসফিসানি। কেউ মুগ্ধ হয়ে বলছে—

-"খান পরিবার বলে কথা! আয়োজন দেখলেই বোঝা যায় কেমন ঐশ্বর্য!"

আরেকজন হেসে ফিসফিস করে—

-"যমজ ছেলের জন্য যমজ বউ নিয়ে আসছে খান পরিবার! কেমন মিল কপালে জুটেছে দেখো!"

তবে সবার মুখে যে একরকম কথা, তা নয়। কারো কারো কণ্ঠে সন্দেহের সুর—

-"এরা একে অন্যকে চিনবে কিভাবে? যমজ আর যমজ, মিশে যাবে না তো সম্পর্কের টানাপোড়েনে?"

এদিকে ভিড়ের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ আবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে প্রশ্ন ছুঁড়ছে—

-"সবার বিয়ে হচ্ছে, এত ধুমধাম করেই দিচ্ছে খান পরিবার... কিন্তু ওরহানের বিয়ে দিচ্ছে না কেন?"

-"হ্যাঁ, ওরহানের তো বয়স আর কম হলো না।"

তারপর ধীরে ধীরে ভেসে আসে চাপা স্বরে বলা নিষিদ্ধ গল্প—

-"শুনেছিস? ছেলেটা এক্সিডেন্ট করেছিল... কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি?"

-"ওই যে চৌধুরী বাড়ির মেয়ের সঙ্গে বিয়েটা ঠিক হয়েছিল... মেয়েটা তো মারা গেলো!"

-"হুঁ... চৌধুরীরা যে খান পরিবারকে ধ্বংস করতে এসেছিল, শেষমেশ নিজেরাই ধ্বংস হয়ে গেল।"

আলো আর সঙ্গীতের ঝলমলে আবরণে ঢাকা এই গুঞ্জনগুলো যেন রাতের বাতাসে ছুরি হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। আনন্দের আসরেও একটা অদৃশ্য ছায়া ভেসে বেড়াচ্ছে, যেন খান পরিবারের আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর কোনো রহস্য।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো অবশেষে। ১০ই জুলাই ২০২৫, রাত ঠিক আটটা বাজে। খান বাড়ির ছাদে জমকালো সাজের ভেতরে শুরু হলো কেয়া-মুফতির আর পায়েল-মারুফের বিয়ে পড়ানো। মুহূর্তেই বাতাস ভরে গেল আনন্দধ্বনিতে। চারদিক থেকে শোনা যাচ্ছে উল্লাস, অভিনন্দন আর খুশির হাসি।

বিয়ে পড়ানো শেষ হতেই সবাই ছুটে গেল ছাদের দিকে। আলো ঝলমলে মঞ্চে ছবি তোলা, ভিডিও করা, সবকিছুতে যেন উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়লো আরও গভীরভাবে। মুরুব্বীরা নিজেদের মধ্যে গম্ভীর মুখে আলোচনা করছেন, আবার কোথাও ছোটদের হাসিঠাট্টা ভেসে আসছে।

ওসমান সাবাকে আলতো হাতে ধরে নিয়ে এসে একটি আরামদায়ক সোফায় বসিয়ে দিল। চোখে-মুখে ছিল যত্ন আর সতর্কতা। অন্যদিকে বড় ভাই ওরহান, তার দায়িত্ব যেন অন্তহীন। ছুটোছুটি করতে করতে ক্লান্ত শরীরও থামতে জানে না। কোথাও আলো নিভে গেলে সে ছুটে যায়, কোথাও অতিথিদের আপ্যায়ন কম পড়লে সে পৌঁছে যায়।

কিন্তু হঠাৎই সেই ছুটে চলা থেমে গেল। ওরহানের পা যেন মাটিতে গেঁথে গেলো। বুকের ভেতর দমকা হাওয়ার মতো স্পন্দন, হৃদয় যেন হঠাৎই দ্রুত ছুটে চলেছে। সেই একই অনুভূতি, যেদিন প্রথম সোহাকে দেখেছিল। হ্যাঁ, ভুল হবার উপায় নেই, সোহা এখানে!

চঞ্চল চোখে ওরহান এদিক-ওদিক খুঁজতে লাগল। কোলাহলের ভিড় ভেদ করে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত মুখ দেখা গেল। সোহা! মঞ্চে দাঁড়িয়ে সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলছে। আলোর ঝলকে তার হাসি যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

এক মুহূর্ত দেরি না করে ওরহান ছুটে গেল সেখানে। দৌড়াতে দৌড়াতে শ্বাস ভারী হয়ে এল, বুকের ভেতর কেবল নামটা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, সোহা।

ওরহানকে দেখে সাবা দ্রুত উঠে দাঁড়াল। উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে বলল—

-"দাদাভাই, আমার আপু সোহা। আর উনি আমার আম্মু!"

সাবার কথাগুলো বজ্রপাতের মতো আঘাত হানল ওরহানের অন্তরে। এক মুহূর্তে সে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল সাবার দিকে, সোহা তার বোন!

ওসমান এগিয়ে এসে কাঁধে হাত রাখল।

-"দাদাভাই, ঠিক আছো? তোমার শরীর খারাপ লাগছে নাকি?"

ওরহান কেবল গভীর এক লম্বা শ্বাস নিল। তারপর সোজা নিলুফার বেগমের দিকে তাকিয়ে সশ্রদ্ধ সালাম জানাল। মুখে কোনো কথা নেই, চোখে যেন অদ্ভুত এক ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এরপর ওসমানের দিকে ফিরেই ধীর কণ্ঠে বলল—

-"আমি ঠিক আছি! তোরা থাক, আমি একটু আসছি।"

ওরহানের এই হঠাৎ আচরণে সবাই চমকে গেল। সোহা স্থির চোখে তাকিয়ে রইল তার দিকে। দৃষ্টিতে কৌতূহল, অথচ ভেতরে লুকোনো এক অজানা টান।

দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেল ওরহান। ভিড় ঠেলে, আলো-আওয়াজের মধ্যেও তার হাঁটা যেন এক ধরণের দৌড়ে পরিণত হলো। শেষমেশ এসে দাঁড়াল ওমর খান, সুরাইয়া বেগম, ওয়াহিদ খান আর আয়রা বেগমের সামনে। বুক ওঠানামা করছে দ্রুত, নিঃশ্বাস ভারী, যেন ভিতরে লুকানো বহু বছরের দমবন্ধ অপেক্ষা হঠাৎই ফেটে বেরিয়ে আসছে। তার চোখে সেই আতঙ্ক, আর দেরি করলে হয়তো সব আবার হারিয়ে যাবে।

ওমর খান ছেলের এই অস্থিরতা লক্ষ্য করছিলেন অনেকক্ষণ ধরে। মুখে কড়া অথচ চিন্তিত দৃষ্টি নিয়ে ধীরে বললেন—

-"ওরহান, কী হয়েছে তোমার? তুমি এমন আচরণ করছো কেন?"

ওমর খান আবারও উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললেন—

-"শরীর খারাপ করছে ওরহান? মাথা ব্যথা করছে? তোমাকে কতবার বলেছি, জোর করে কিছু মনে করার চেষ্টা করবে না!"

ওরহান মাথা নাড়ল ধীরে। কণ্ঠে দৃঢ়তা—

-"ঠিক আছি বাবা। তবে তোমরা একটু এসো আমার সঙ্গে। জরুরি কথা আছে তোমাদের সাথে!"

সবাই একে অন্যের দিকে তাকালো। চোখেমুখে অদ্ভুত এক আশঙ্কা। কারো কপালে ভাঁজ, কারো চোখে কৌতূহল। অবশেষে সবাই নিঃশব্দে ওরহানের পিছু নিল।

সবাই বসে আছে ওমর খানের কক্ষে। ভারী কাঠের দরজা বন্ধ হতেই ঘরটা আরও নীরব হয়ে গেল। সোফার কিনারায় বসে আছে ওরহান, হাঁটুর ওপর দুই হাত, মাথা একটু নিচু। তার শ্বাসপ্রশ্বাস যেন কানে বাজছে। ঘরের ভেতরে কেবল ফ্যানের ঘূর্ণি আর সবার দমবন্ধ নিস্তব্ধতা।

সেই নীরবতা ভেঙে হঠাৎ ওরহানের কণ্ঠ শোনা গেল—

-"সাবার বোন সোহা কি বিবাহিত?"

প্রশ্নটা যেন ঘরের দেয়ালে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে এলো। এক মুহূর্তের জন্য সবাই স্তব্ধ। তারপর হঠাৎই কারো ঠোঁটে মৃদু হাসি, কারো চোখে আনন্দের ঝিলিক। মুখ লুকিয়ে হাসি দমন করল আয়রা, সুরাইয়ার চোখে জ্বলজ্বল করল চঞ্চল দীপ্তি।

ওমর খান ঠোঁটের কোণে স্নিগ্ধ হাসি টেনে ধীরে বললেন—

-"না! কেন?"

ওরহান আর কোনো দ্বিধা বা ভণিতা না করে সোজা বলল—

-"আমি ওকে বিয়ে করতে চাই।"

কথাগুলো যেন বজ্রপাতের মতো আঘাত হানল ঘরের নিস্তব্ধতায়। এক মুহূর্তের জন্য সবাই থমকে গেল, তারপর আনন্দের জোয়ার বয়ে গেল চারদিকে। সুরাইয়া বেগমের ঠোঁটে হাসি ফুটল, আয়রা খিলখিল করে হেসে ফেলল। ওমর খানও একটু শব্দ করে হেসে উঠলেন।

কিন্তু ওরহান চোখ তুলে তাকাতেই তার সেই হাসি থেমে গেল। মুখ গম্ভীর করে গভীর স্বরে তিনি বললেন—

-"আচ্ছা! আমি কথা বলে দেখব, ওরা রাজি হন কিনা।"

ওরহান মাথা নাড়ল, তারপর দৃঢ় কণ্ঠে বলল—

-"না, আজ, এই মুহূর্তেই আমি ওকে বিয়ে করব। তোমরা কিভাবে ম্যানেজ করবে সেটা আমি জানি না। আমি আমার ঘরে যাচ্ছি, সময়মতো আমাকে ডেকে দিও।"

কথাগুলো এত দৃঢ়, এত তীব্র যে কেউই সাথে সাথে কোনো উত্তর খুঁজে পেল না। যে বিয়ে নিয়ে এত মাস ধরে পরিকল্পনা, আয়োজন, সাজসজ্জা, সেটা কি এভাবে মুহূর্তেই ভেঙে দিয়ে নতুন এক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব? ওমর খান কিছু বলতে যাবেন, ঠিক তখনই ওরহান উঠে দাঁড়াল। ভারী পদক্ষেপে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল সে। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে আবারও নীরবতা নেমে এলো। সবাই চিন্তিত চোখে একে অন্যের দিকে তাকাল। কেউ কিছু বলল না, তবুও বোঝা যাচ্ছিল প্রত্যেকের ভেতরে চাপা আলোড়ন চলছে।

শেষমেশ ওমর খান দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিলেন। কণ্ঠে কর্তৃত্ব, অথচ চোখে মমতা নিয়ে বললেন—

-"সোহাকে ডাকো, আর তার মাকেও। ওদের এখানে আনো।"

সবাই উপস্থিত হতেই ওমর খান গম্ভীর কণ্ঠে বললেন—

-"ওরহান আজই বিয়ে করতে চাইছে। অথচ ওর বিয়ে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন ছিল... কত পরিকল্পনা, কত আশা-আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সবকিছুই যেন ভেঙে যাচ্ছে মুহূর্তেই। এখন আপা, আপনি কি বলেন? আপনি যা বলবেন, আমি তাই করব!"

ঘরে নীরবতা নেমে এলো। সবার চোখ নিলুফার বেগমের দিকে স্থির। কিন্তু তার কিছু বলার আগেই ওসমান আর সাবা ভদ্রতা একপাশে সরিয়ে রেখে বলে উঠল—

-"সব সখ-আল্লাদ তখনই করা যাবে যদি সবাই বেঁচে থাকি, সুস্থ থাকি। এত বছর ধরে কষ্ট পাচ্ছে সে। এবার তার মন যা চায়, সেটা পূরণ হোক। আজ যদি সে বিয়ে করতে চায়, তবে এখনই বিয়ে দিন!"

তাদের কণ্ঠে ছিল আন্তরিকতা, তীব্র ভালোবাসা। মুহূর্তেই ঘরের ভারী বাতাস কেঁপে উঠল। নিলুফার বেগম গভীর দৃষ্টিতে সবার দিকে তাকালেন। তারপর ধীরে ওমর খানের চোখে চোখ রেখে বললেন—

-"ওরহান ভালোবাসার যে পরীক্ষা দিয়েছে, তা এ যুগে আর কেউ দেয় না। ওরহান আমার মেয়েকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছে। এমনকি স্মৃতি হারিয়েও নিজের অজান্তেই সে খুঁজে বেরিয়েছে আমার মেয়েকে। সোহার প্রতিটি ইচ্ছার প্রতি সে দিয়েছে অগাধ সম্মান, করেছে পূর্ণ মর্যাদা। তাই আমি আর সোহার মতামত নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করিনি। আজ থেকে ওরহানের ইচ্ছাই হবে নিয়তি। সুতরাং, আপনি বিয়ের ব্যবস্থা করুন। আজই সম্পন্ন হবে ওদের বিয়ে।

এই ঘোষণা উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথেই যেনো বজ্রাঘাতের মতো আনন্দের রোল উঠল ওমর খানের কক্ষে। দমবন্ধ করা নীরবতা মুহূর্তেই ভাঙল উল্লাসের ঢেউয়ে। সোহাকে ঘিরে সকলে ঝাঁপিয়ে পড়ল, কারো চোখে অশ্রুর ঝিলিক, কারো ঠোঁটে হাসির জোয়ার। কেউ হাততালি দিচ্ছে, কেউ উৎফুল্ল কণ্ঠে আশীর্বাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে।

সোহা নিথর দাঁড়িয়ে রইল সবার মাঝখানে। তার গাল রাঙা গোলাপের মতো লাল, লজ্জায় চোখ নিচু, কাঁপতে থাকা হাতের আঙুলে সে আঁকড়ে ধরেছে শাড়ির আঁচলের কিনারা। চারদিকের উল্লাসের মাঝেও তার বুক ধুকপুক করছে অজানা স্পন্দনে।

ঘর যেনো আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠল, আনন্দের আলোয়, আশার আলোয়। বাতাসে মিশে গেল অচেনা কাঁপুনি, স্নিগ্ধ সুবাস, আর দমবন্ধ করা এক নাটকীয় আবেশ। মনে হচ্ছিল, এই মুহূর্তটি শুধু সোহা আর ওরহানের নয়, বরং উপস্থিত সকলের জীবনের এক অনন্য সাক্ষ্য হয়ে রইল।

১১ জুলাই ২০২৫, রাত ১টা ৩০ মিনিট। খান বাড়ির ড্রয়িং রুমে এক উৎসবমুখর আবহ। চারপাশে আনন্দের আলো ছড়িয়ে আছে। মাঝখানে বসে আছে ওরহান, কালো পাঞ্জাবি, মাথায় সাদা টুপি, হাত দুটো পরপর রাখা। তার চোখে স্পষ্ট এক তৃপ্তি, এক অপরিসীম প্রাপ্তির দীপ্তি। পাশে বসে আছে ওসমান, মুফতি ও মারুফ, তাদের মুখে হাসি, চোখেমুখে উৎসাহের ঝিলিক। অন্য পাশে ওমর খান ও ওয়াহিদ খানও খুশির আবেশে ভরে উঠেছেন। মনে হচ্ছে, বহু প্রতীক্ষিত এই মুহূর্তের জন্য তারা সবাই বহুদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন।

ওসমানের ঘরে একেবারে অন্য রকম কোলাহল। নিলফুয়ার বেগম, সুরাইয়া বেগম, আয়রা বেগম, শিফা, সাবা, কেয়া ও পায়েল সবাই মিলে ঘিরে রেখেছে সোহাকে। হাসি-ঠাট্টা, খুনসুটি, আর সাজগোজ নিয়ে চলছে ব্যস্ততা। খাটের মাঝে বসে আছে সোহা, লাল জামদানি শাড়িতে যেনো দীপ্ত এক আলোকরেখা। হাতে সোনার চুড়ি, গলায় এক হার, কানে দুল, কপালে টিকলি আর লাল টিপ। ঠোঁটে লাল লিপস্টিকের আভা। সাজ সাদামাটা হলেও তাকে করে তুলেছে আরও মোহনীয়, আরও অতুলনীয়।

শ্যামলা গায়ে লালের আভা যেন জ্বেলে দিয়েছে নতুন রূপ। লাজুক চোখ নামানো, হাতে আঙুল কচলানো, আর বুকের ভেতর অচেনা এক কাঁপুনি, সব মিলিয়ে সে যেনো নিজের নতুন জীবনের পথে দাঁড়িয়ে আছে। তার চারপাশে হাসি-আড্ডা, মজার খুনসুটি চলছেই, তবুও তার ভেতরে বাজছে এক অজানা আবেগের সুর।

ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করলেন কাজী সাহেব। কাবিননামা হাতে নিয়ে তিনি এগিয়ে এলেন ওরহানের সামনে। ঘরের সবাই আনন্দে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। মুহূর্তটিকে আরও উজ্জ্বল করে তুলল তাঁর কণ্ঠস্বর—

-"কত কাবিন দেবো?"

প্রশ্ন শোনা মাত্রই চারপাশে চাপা হাসির ঝিলিক ছড়িয়ে পড়ল। কারো চোখে অশ্রুসিক্ত আনন্দ, কারো ঠোঁটে উজ্জ্বল হাসি। রাতের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে খান বাড়ি ভরে উঠল এক উৎসবের আবহে।

ওরহান গম্ভীর স্বরে বলল—

-"কোণে কে জিজ্ঞাসা করুন। সে যা বলবে তাই লিখবেন!"

কাজী সাহেব ধীরে ধীরে তাকালেন ওমর খানের দিকে। ওমর খান নীরবে চোখের ইশারায় সম্মতি জানালেন। এরপর কাজী সাহেব ভেতরের ঘরে প্রবেশ করলেন। সোহাকে সঙ্গে সঙ্গেই একটি ওড়না টেনে আড়াল করে দেওয়া হলো। ঘরের কোলাহল মুহূর্তেই থেমে গেল। নিস্তব্ধতার ভেতর কেবল সোহার দ্রুত স্পন্দিত শ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

কাজী সাহেব কোমল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন—

-"কত টাকা কাবিন বাঁধবো? পাত্র বলেছেন, আপনি যা চান তাই দেবেন।"

প্রশ্নে ঘর নিস্তব্ধ হয়ে উঠল। সবাই তাকিয়ে রইল সোহার দিকে। সে দীর্ঘক্ষণ কোনো উত্তর দিল না। চোখ নামিয়ে বসে রইল, হাতের আঙুল কচলাতে লাগল বারবার। অবশেষে নিস্তব্ধতা ভাঙল, আস্তে ধীরে, যেন বুকের ভেতর জমে থাকা সাহস একত্র করে—

-"১০১ টাকা!"

শব্দটি উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে যেন এক তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ল। উপস্থিত সকলে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সোহার দিকে। বিস্ময়ের রেশ ছড়িয়ে পড়ল মুখে মুখে।

কাজী সাহেব ভরকে গেলেন। তার চোখে ভেসে উঠল এক ধরনের উৎকণ্ঠা। কণ্ঠে শঙ্কার সুর টেনে তিনি বললেন—

-"এত কম কেনো মা? আপনার হবু স্বামীর তো যথেষ্ট অর্থসম্পদ রয়েছে!"

সোহা আস্তে ধীরে বলল—

-"সেগুলো দিয়ে আমি কি করবো? কাবিন বাঁধতে হয় তাই বললাম। নাহলে এই টাকারও প্রয়োজন ছিল না। কাবিন তো নাম মাত্র, যে নিজের জীবন আমার নামে উৎসর্গ করে দিয়েছে, তার কাছে আর কি কাবিন চাইবো আমি?"

শব্দগুলো ঘরে উপস্থিত সকলের হৃদয় স্পর্শ করল। নিস্তব্ধতা ভেঙে ছড়িয়ে পড়ল সন্তুষ্টির হাসি। কেউ চোখ মুছে নিলেন, কেউ নিঃশব্দে মাথা নাড়লেন। কাজী সাহেবও আবেগে আপ্লুত হয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মতি জানালেন।

এরপর তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন, ফিরে এলেন ওরহানের কাছে। ওরহান অবাক দৃষ্টিতে তাকালেন কাজীর মুখের দিকে। ১০১ টাকা কাবিনের কথা শোনামাত্রই স্তব্ধ হয়ে গেল ওরহান। ভেবে পাচ্ছিল না, কেউ এত সহজে, এত নির্মল হৃদয়ে বিয়েতে সম্মতি দেয় কিভাবে? আবার সেই কাবিন, যা এক নিছক প্রতীক মাত্র! তার চোখে ভেসে উঠল বিস্ময়ের সাথে সাথে অপার কৃতজ্ঞতার ছাপ।

অবশেষে, সব আয়োজনের অবসান ঘটিয়ে রাত দু’টার দিকে সম্পন্ন হলো সেই প্রতীক্ষিত মিলন। খান বাড়ির উঠোন জুড়ে যেন এক অদৃশ্য আনন্দধ্বনি বেজে উঠল।

সোহাকে এনে বসানো হলো ওরহানের পাশে। লাজুক চোখ নামানো মুখ, কাঁপতে থাকা হাত, তবুও চোখেমুখে অদ্ভুত দীপ্তি। ওরহান তাকিয়ে রইলেন পাশে বসা তার স্বপ্নের মানুষটির দিকে, বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল, আজকের রাত সত্যিই তার জীবনের বাস্তবতা।

কাজী সাহেব মৃদু গলায় ঘোষণা করলেন, উপস্থিত সকলের উদ্দেশে—

-"আজ থেকে নেসলিহান সোহা ও ওরহান খান শাহির স্বামী-স্ত্রী!"

মুহূর্তেই ঘরে উল্লাসের ঢেউ উঠল। কেউ হাততালি দিলেন, কেউ আল্লাহর নাম জপলেন, কেউবা নিঃশব্দে চোখ মুছে নিলেন আনন্দাশ্রুতে। ঘরের বাতাস ভরে উঠল সুখের সুবাসে, আর রাতের আকাশ যেন নীরবে সাক্ষী হয়ে থাকল এই পবিত্র বন্ধনের।

ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সবাই একসাথে করতালি দিয়ে উঠল। ঘর ভরে গেল হাসি-উল্লাসে। ওসমান, মুফতি আর মারুফ তো আর স্থির থাকতে পারল না, তারা সিটি বাজিয়ে আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তুলল। চারপাশে যেন উৎসবের আবেশ ছড়িয়ে গেল, প্রত্যেকের চোখে ঝিলিক খেলল অশ্রু আর আনন্দের মিশেলে।

এরপর আচার অনুযায়ী আয়নায় দুজনের মুখ দেখানো হলো। মুহূর্তটির গাম্ভীর্যের ভেতরও এক অদ্ভুত মধুরতা লুকিয়ে ছিল। আয়নায় মুখোমুখি হলো সোহা ও ওরহান। সোহা লজ্জায় বারবার চোখ নামিয়ে নিচ্ছে, ঠোঁট কেঁপে উঠছে অচেনা অনুভূতিতে। তার গাল লাল হয়ে উঠেছে রক্তিম গোলাপের মতো।

অন্যদিকে ওরহান যেন সময়ের হিসেব ভুলে গেছে। মুগ্ধ নয়নে নির্লজ্জের মতো তাকিয়ে আছে সোহার দিকে। একবারও সে চোখের পলক ফেলল না, যেন সেই দৃষ্টি দিয়ে সোহাকে মনের ভেতরে আঁকড়ে রাখতে চাইছে সারাজীবনের জন্য।

ঘরজুড়ে হাসি-ঠাট্টা, করতালি আর মৃদু খুনসুটি চলতে লাগল, অথচ তাদের দুজনের চোখের ভাষায় লেখা হলো এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

নতুন তিন দম্পতিকে যথাক্রমে বাসর ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। রাত অনেক গড়িয়ে যাওয়ায় আর কেউ বাসর ধরল না। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়ে সবার শরীর ও মনে ক্লান্তি এনে দিয়েছে। তবুও ওরহান কাউকেই বঞ্চিত করল না, সবার প্রতি তার দায়িত্ববোধ যেন আরও গভীর হয়ে উঠল।

খান বাড়ির তিন নববধূকে যথাস্থানে রেখে আসা হলো। শিফা শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে ওরহানের ঘর সাজিয়েছে, তাজা ফুলের গন্ধে, হালকা আলোয় ঘর যেন এক নতুন জীবনের জন্য প্রস্তুত।

এদিকে ওরহান দাঁড়িয়ে আছে তার দুই ভাই, মুফতি ও মারুফকে পাশে নিয়ে। সোহাকে ঘরে রেখে শিফা সিঁড়ি বেয়ে নামছিল, তখনই ওরহান তাকে ডাক দিলো। শিফা থমকে দাঁড়াল তিন ভাইয়ের সামনে। ওরহান, মুফতি ও মারুফ একসাথে তার হাতে তুলে দিলো এক হাজার টাকার তিনটি ব্যান্ডেল। অবাক বিস্ময়ে শিফা বড় বড় চোখে তাকিয়ে রইল। তখনই ওরহান স্নেহভরা হাতে তার মাথায় আলতো করে স্পর্শ করল এবং মৃদু কণ্ঠে বলল—

-"অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছিস। এটা সেই কষ্টের ফল। অনেক রাত হয়ে যাওয়ায় আনন্দ করতে পারলি না, তাই বলে নিজের প্রাপ্য পাবি না, সেটা কখনো হবে না।"

ওরহানের কথায় শিফার মুখ ঝলমল করে উঠল। আনন্দে আত্মহারা হয়ে সে তিন ভাইকে একসাথে জড়িয়ে ধরল। মুহূর্তটি যেন আপন ভ্রাতৃত্বের উষ্ণতায় ভরে উঠল। তারপর মুফতি, মারুফ ও ওরহান ধীরে ধীরে নিজেদের ঘরের পথে পা বাড়াল।

ওরহানের ঘরে প্রবেশ করতেই যেন অন্য এক জগতের আবির্ভাব হলো। চারপাশে কাঁচা ফুলের গন্ধ, দেয়াল থেকে ঝরে পড়া পাপড়ির মায়া, আর ঘর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোমল সুগন্ধে ঘর ভরে গেছে। ছোট ছোট মোমবাতির আলোতে ঘরকে করে তুলেছে স্বপ্নময়, কোনো বৈদ্যুতিক আলো নেই, শুধু মোমবাতির কাঁপা শিখা আর ফুলের সুবাস মিলে গড়ে তুলেছে এক অদ্ভুত মোহনীয় পরিবেশ।

ঘরের মাঝখানে বসে আছে সোহা, ওরহানের ব্যক্তিগত ফুল, তার চিরকাঙ্ক্ষিত নারী। লাল শাড়ির আবরণে, ছোট ছোট মোমের আলোয় সে যেন আসমানী পরির মতো লাগছে। লজ্জায় তার চোখ নামানো, তবুও মুখমণ্ডলে দীপ্তি খেলা করছে।

দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ওরহান স্থির নয়নে তাকিয়ে রইল। মুগ্ধতা তার দৃষ্টিতে এমনভাবে ফুটে উঠল, যেন মুহূর্তটিকে চিরদিনের জন্য বুকের ভেতর আঁকড়ে রাখতে চায়। একবারও সে পলক ফেলল না, তার হালাল নারীকে প্রথমবারের মতো নিজের ঘরে দেখে সে যেন নতুন পৃথিবীর জন্ম অনুভব করল।

ধীরে ধীরে, নিঃশব্দ পদক্ষেপে ওরহান এগিয়ে গেল সামনে। প্রতিটি পদক্ষেপে বাতাস আরও ভারী হলো আবেগে, মোমবাতির আলো আরও দুলে উঠল উচ্ছ্বাসে। মনে হচ্ছিল, পুরো ঘরটাই তাদের দুজনের প্রেমকাব্যের প্রথম অধ্যায় হয়ে উঠছে।

ধীর পায়ে এসে সোহার পাশে বসলো ওরহান। তার সমগ্র দেহ কাঁপছে প্রবল কম্পনে, ওরহান স্পর্শ না করেও সেই স্পন্দন টের পেলো। অধরে ফুটে উঠল এক চিলতে রহস্যময় মৃদু হাসি। হঠাৎই, যেন বিদ্যুৎ চমকের ঝলকানির মতো এক ঝটকায় সোহাকে বিছানায় শুইয়ে দিলো সে। সোহার মাথা এসে থামল নরম বালিশে। বিস্ময়ে বিস্ফারিত নয়নে চেয়ে রইল সোহা, বুকের গভীরে অদ্ভুত এক আকর্ষণ জাগিয়ে তুলছে।

ওরহান ধীরে ধীরে ঝুঁকে এলো। মুহূর্তের ভেতর তার সমগ্র দেহ ছায়ার মতো ঢেকে দিল সোহাকে। মুখের কাছে মুখ এনে থমকে দাঁড়াল, তার উষ্ণ নিঃশ্বাস ছুঁয়ে যাচ্ছে সোহারের কাঁপতে থাকা ঠোঁট, বুকের অন্তঃস্থলে উন্মত্ত ঝড় তুলছে।

লজ্জার আবরণে সোহা চোখ মুড়ে নিলো শক্ত করে। হৃদপিণ্ড যেন উন্মত্ত ঢাকের মতো বাজছে। দু’হাতে আঁকড়ে ধরল শাড়ির আঁচল, যেন নিজেকেই আঁকড়ে বাঁচাতে চাইছে।

ঠিক তখনই, ওরহান ধীরে ধীরে তার কানের কাছে মুখ নিয়ে এলো। মোমবাতির কাঁপা আলোয় বাতাস ভারী হয়ে উঠল অব্যক্ত প্রত্যাশায়। চারপাশের স্তব্ধতা যেন নিঃশ্বাস আটকে অপেক্ষা করছে। আর সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে, ওরহানের ঠোঁট থেকে নিঃশব্দে ফিসফিসিয়ে বেরিয়ে এলো—

-"অগ্নিপরীক্ষা সমাপ্ত হলো তবে। মাইরি, পূর্ণ ছয়টি বছর দগ্ধ করেছ আমায়, বিষরাণী। এবার ওরহানের প্রেমাগ্নিতে তোমাকেই দহন হতে হবে। সামলাতে পারবে তো তোমার বেসামাল, হালাল পুরুষটিকে?"

সোহা বিস্ফারিত নয়নে তাকালো ওরহানের দিকে। বিষরানী? সোহা অবাকের চরম পর্যায় পৌঁছে গেলো। এ নাম শুধু ওরহান ডাকতে পারে। তার মানে? তার মানে কি ওরহান স্মৃতিশক্তি ফিরে পেয়েছে? সোহা উৎকণ্ঠিত হয়ে বলল—

-"আপনার স্মৃতিশক্তি ফিরে এসেছে?"

ওরহানের অধরে খেলা করছে বাকা হাসি। সোহার চোখে মুখে বিষ্ময় দেখে সে হঠাৎ এক চোখ টিপ দিলো।

Story Cover