ফিরে দেখা

পর্ব - ১৭

🟢

আকাশে আজ একটিও কালো মেঘ নেই। নীল আকাশের বুকে তুলোর মতো সাদা মেঘেরা ভেসে বেড়াচ্ছে। শীতল বাতাস ধীরে ধীরে ছুঁয়ে যাচ্ছে খোলা মাঠের ঘাসের ডগা। বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তরে ছড়িয়ে আছে ঘোড়ার খামারের সৌন্দর্য, দূরে সাদা কাঠের বেড়া, সারি সারি আস্তাবল, খড়ের গাদার পাশে অবসর ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি ঘোড়া, আর বাতাসে ভেসে আসা ঘোড়ার হালকা গন্ধ। খামারের চারপাশে কোলাহলহীন শান্তি, তবুও আজ ভিন্ন এক উত্তেজনা ঘিরে রেখেছে পরিবেশকে।

খোলা মাঠের ঠিক মাঝখানে, দু’টি ঘোড়া পাল্লা দিয়ে ছুটে চলেছে। একটি রাজকীয় সাদা, যেনো মেঘ থেকে নেমে এসেছে। অন্যটি গভীর কালো, যেনো কোনো রাজ্যের বিশ্বস্ত যোদ্ধা। কালো ঘোড়াটি খানিকটা এগিয়ে, কিন্তু তার পাশেই রাজসিক ভঙ্গিতে ছুটছে সাদা ঘোড়াটি। সাদা ঘোড়ার পিঠে বসে থাকা মানবটি, দৃঢ় অথচ স্থির চোখে সামনের কালো ঘোড়াকে দক্ষ হাতে নিয়ন্ত্রণ করা অশ্বারোহীর দিকে তাকিয়ে বলল—

-"আজ এই রেস জিততে পারলে, হেরে যাওয়া সেই ডিল পাবে তুমি।"

কালো ঘোড়ার অশ্বারোহী ঠোঁটে এক আত্মবিশ্বাসী হাসি ফুটিয়ে জবাব দিল—

-"চিন্তা করবেন না, মিস্টার রায় সিং। এই ওরহান খান শাহির জীবনে হারার পাঠ নেই।"

ওরহানের কথা শুনে রাজ রায় সিং মৃদু হেসে উঠল। ততক্ষণে তারা প্রায় তিনটি রাউন্ড শেষ করে ফেলেছে, আর তিনটিতেই বিজয়ী ওরহান। চতুর্থ বারও ব্যতিক্রম হলো না, বিজয়ের হাসি ওরহানের মুখে স্পষ্ট। রেস শেষ হতেই দুজনেই ঘোড়া থেকে নেমে পড়ল।

ওরহান এগিয়ে গেল তার আজীবনের বিশ্বস্ত সঙ্গী, রাজসিক কালো ঘোড়া শেহজাদা-র কাছে। কালো রেশমি লোমে হাত বুলিয়ে সে ঘোড়াটিকে আদর করছিল। রাজ কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে, নীরবে সেই দৃশ্য উপভোগ করছিল। সাদা ঘোড়াটি ইতিমধ্যে গৃহপথে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ওরহান নিজেই শেহজাদার লাগাম ধরে আস্তাবলের ভেতরে নিয়ে গেল। ভেতরে নীরবতার সঙ্গে মিশে ছিল ঘোড়ার খামারের গন্ধ, তাজা খড়, কাঠের খুঁটি, আর বাতাসে ভেসে থাকা চামড়ার আস্তরণের গন্ধ। ওরহান নিজের হাতে শেহজাদাকে খাওয়াল, তারপর ধীর পদক্ষেপে বাইরে বেরিয়ে এলো।

এটি কেবল একটি খামার নয়, এ ছিল ওরহানের অতি প্রিয়, প্রায় হৃদয়ের মতো আপন একটি জায়গা। অবসরে, কিংবা গভীর ভাবনায়, সে এখানে আসে সেহজাদাকে নিয়ে প্রশিক্ষণ করাতে। তার সখের কোনো সীমানা নেই। বাহিরে পা রাখতেই রাজ এগিয়ে এসে বলল—

-"ঘোড়াটাকে খুব ভালোবাসো, তাই না?"

ওরহান হালকা হাসল, চোখে স্নেহের ছায়া ভাসিয়ে উত্তর দিল—

-"হ্যাঁ। আমি যখন এসএসসি পাস করি, তখন বাবা আমাকে উপহার দিয়েছিলেন এটি। সেই থেকে শেহজাদা আমার সঙ্গী, আমার প্রতিটি দুঃখ, একাকিত্ব, সবই ওর সঙ্গে কেটে যায়।"

রাজ মৃদু কৌতূহলের সুরে জিজ্ঞেস করল—

-"বাহ, ভালো তো। তো জীবনে আর কী কী সখের জিনিস আছে তোমার?"

ওরহান খানিকটা হাসল, তারপর স্বাভাবিক ভঙ্গিতে উত্তর দিল—

-"বিজনেস, গলফ, গান, আর অনেক কিছুই আছে। মিস্টার রাজ, আমি কিন্তু গে নই। তো আমার শখের জিনিস সম্পর্কে জেনে আপনি কী করবেন?"

রাজ হঠাৎ উচ্চস্বরে হেসে উঠল। হাসি যেনো মুহূর্তেই সারা খামারের নীরবতা ভেঙে দিল। হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে গেল তার। কিছুক্ষণ পর হাসি থামিয়ে চোখে খেলা করা মৃদু রসিকতার ঝিলিক নিয়ে বলল—

-"আমার একটি কন্যা সন্তান আছে, যার বয়স মাত্র তিন বছর। সুতরাং, you can relax, I am not interested in boys."

ঠিক তখনই দূর থেকে ওসমান এগিয়ে এল। হাতে কিছু ডকুমেন্টস, যা সে সোজা ওরহানের দিকে বাড়িয়ে দিল। ওরহান তা নিল, চোখ বুলিয়ে নিল একবার, তারপর গম্ভীর মুখে রাজের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল—

-"আমার কোম্পানিতে একজন বেঈমান ছিল, যে মিহিরিমাকে আমাদের সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে দিয়েছে। সাথে চুরি করেছে সেই মূল্যবান নথিপত্র, যার কারণে এই ডিলটা শেষমেশ মিহিরিমার হাতে গেছে।"

রাজ কিছুটা গম্ভীর ভঙ্গিতে বলল—

-"হুম, বুঝতে পারলাম। তবে যতদূর জানি, তোমার আর মিহিরিমার বিয়ের কথা চলছিল। তাহলে সে এমন করল কেন?"

ওরহান শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে জবাব দিল—

-"আমি বিয়েটা ভেঙে দিয়েছি।"

রাজের কপাল কুঁচকে উঠল—

-"কেন?"

ওরহান দৃষ্টি সামান্য সরিয়ে, যেনো কোনো গভীর কারণ গোপন রাখছে, বলল—

-"সে কথা আপনি জানতে পারবেন। আপনাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।"

রাজ ঠোঁটে এক স্মিত হাসি ফুটিয়ে নিল। তারপর ধীরে ধীরে ডকুমেন্টগুলো খুলে দেখল। সেখানেই ছিল মিহিরিমার বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ, গোপন তথ্য ফাঁস, নথি চুরি, আর ব্যবসায়িক বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিটি খুঁটিনাটি। সব পড়ে রাজ দৃঢ় কণ্ঠে বলল—

-"ডিলটা তুমি-ই পাবে। চিন্তা কোরো না।"

ওরহান মাথা নাড়ল—

-"ডিলের সব কাজ আমার ভাই ওসমান দেখবে। আপনি তার ওপর ভরসা রাখতে পারেন।"

রাজ নিঃসন্দেহে বলল—

-"হ্যাঁ, অবশ্যই। আমি ওসমানকে চিনি। সে খুবই দক্ষ এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।"

মিটিং শেষ করে ওরহান ও ওসমান সরাসরি বাড়ি ফিরে এলো। কিছুক্ষণ পর ওসমান ফ্রেশ হয়ে এসে ওরহানকে জানাল, তীব্র আর সোহা একসাথে ঘুরতে যাওয়ার কথাটি। ওরহান এ খবর শুনেও তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না। তার চোখে সোহা অনেক দিন পর এসেছে, ঘুরে আসাটা প্রয়োজন। আর তীব্র? তাকে সন্দেহজনক মনে হওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পেল না ওরহান।

.

.

.

সবাই নিজেদের কাজে মগ্ন। অতীতের ক্ষত নিয়ে পড়ে থাকলে জীবন থেমে যায়, আর জীবন থেমে যাওয়ার অবকাশ কারো নেই। সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত ডিলটি শেষ পর্যন্ত ওরহানের হাতেই এসেছে। মিহিরিমা ও খান কোম্পানির এক ম্যানেজার প্রায় এক মাস ধরে পুলিশ হেফাজতে, আর মাত্র এক মাস পরেই তারা মুক্তি পাবে। চৌধুরী পরিবার ওরহানের ক্ষতি করার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে, তাদের একমাত্র মেয়ের সঙ্গে হওয়া এই অন্যায় তারা মেনে নিতে পারেনি। কিন্তু কৌশলী ওরহানের সামনে তাদের সব পরিকল্পনাই ব্যর্থ হয়েছে। এখনো তারা সুযোগের অপেক্ষায় আছে।

এদিকে, ওরহান বিদেশে, খান কোম্পানির একটি প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত। ঠিক এই সময়ে ভেলভেট ব্লুম আজ একটি জমকালো ফ্যাশন শো আয়োজন করেছে। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আছে তীব্র, বাহিরের সমস্ত অতিথি-সংবর্ধনা, মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট, আলো-ঝলমলের সাজসজ্জা, সব তার দায়িত্বে। অন্যদিকে, সোহা গত এক মাস ধরে দিন-রাত এক করে শো-এর জন্য প্রতিটি পোশাকের ডিজাইনে মন দিয়েছে। প্রতিটি শাড়ি-বেসড ডিজাইনকে বিদেশি ছোঁয়ায় রূপ দিয়েছে, গোল্ডেন জরি, সূক্ষ্ম সিকুইন, হাতে আঁকা মোটিফ, আর সমসাময়িক কাটিং স্টাইল।

ফ্যাশন শো-এর ভেন্যু যেনো রাজকীয় সৌন্দর্যে মোড়ানো। প্রবেশদ্বারে উজ্জ্বল লাল কার্পেট, দু’পাশে ক্রিস্টাল লণ্ঠন, সিলভার ফ্রেমে সাজানো ভেলভেট ব্লুমের লোগো। ভিতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে নরম সোনালি আলোয় আলোকিত ডেকোরেশন, উঁচু সিলিং থেকে ঝুলছে ঝাড়বাতি, দেয়ালে রুচিশীল ফ্লোরাল ইনস্টলেশন, আর প্রতিটি আসনের পাশে ছোট ছোট সেন্টেড ক্যান্ডেল। সামনের র‌্যাম্পটি চকচকে সাদা মার্বেল-টেক্সচার দিয়ে সাজানো, দু’পাশে মিডিয়া ক্যামেরা ফ্ল্যাশের জন্য প্রস্তুত।

দর্শকসারিতে বসে আছেন দেশি-বিদেশি সেলিব্রিটি, ফ্যাশন ক্রিটিক, ব্র্যান্ড মালিক, আর সাংবাদিকরা। সামনের কাতারে চেনা মুখের ঝলক, পেছনে ফ্যাশনপ্রেমী তরুণ-তরুণীরা। সবার চোখ এখন র‌্যাম্পের দিকে নিবদ্ধ, যেখানে মডেলরা ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছে সোহা ডিজাইন করা পোশাক পরে।

ব্যাকস্টেজে অন্য এক দৃশ্য—সোহা প্রতিটি পোশাক নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মডেলদের নির্দেশ দিচ্ছে, কোন পোশাকের সঙ্গে কেমন মেকআপ, কোন হেয়ারস্টাইল, কোন অ্যাক্সেসরিজ যাবে। বাতাসে মিশে আছে হেয়ারস্প্রে, তাজা ফুলের সুগন্ধ, আর হালকা নার্ভাস উত্তেজনার গন্ধ।

ঠিক তখনই সমস্যার সূত্রপাত—একজন মডেল, সানা, যার পোশাক হঠাৎ করেই অদ্ভুতভাবে কেটে ফেলা হয়েছে। ব্লেড দিয়ে কাটা স্পষ্ট চিহ্ন, যেন ইচ্ছে করেই নষ্ট করা হয়েছে ডিজাইনটি। অন্য মডেলরা ইতিমধ্যে র‌্যাম্পে পা রেখেছে, শুধু সানা এখনো আটকে আছে ব্যাকস্টেজে।

এমন সময় তীব্র সেখানে আসে, তার দৃষ্টি এক ঝলকে পুরো পরিস্থিতি স্ক্যান করে নিল। তারপর সোহাকে শান্ত অথচ তীক্ষ্ণ চোখে দেখে বলল—

-"আপনি কি ড্রেসটা ঠিক করতে পারবেন?"

সোহা এক মুহূর্তও দেরি না করে জবাব দিল—

-"হ্যাঁ, কিন্তু এমন কাজ করলো কে?"

তীব্রের চোখে তখন এক অদৃশ্য দৃঢ়তা—

-"সেসব আপনাকে ভাবতে হবে না। আপনি ড্রেসটা ঠিক করুন, বাকি সব আমি সামলাবো।"

সোহা নিঃশব্দে সম্মতি জানিয়ে পোশাকটি হাতে তুলে নিল, আর তাড়াহুড়ো করে সেটি মেরামতের কাজে লেগে গেল।

তীব্র তখনই আকাশকে আদেশ দিল—

-"সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে এসো। এখনই।"

কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশ ফিরল হাতে ছোট মনিটর নিয়ে। ব্যাকস্টেজের সবাই শ্বাসরুদ্ধ করে তাকিয়ে রইল স্ক্রিনের দিকে। ফুটেজে স্পষ্ট ধরা পড়ল, মডেল সানা চুপিসারে ব্লেড বের করে ড্রেসের কাপড়ে সূক্ষ্ম কিন্তু নিশ্চিত কাটা দিচ্ছে।

মুহূর্তেই পরিবেশ বদলে গেল। মিরহা ও সাবা একে অপরের দিকে তাকাল, তারপর সোজা এগিয়ে গিয়ে সানাকে শক্ত করে ধরে টেনে-হিঁচড়ে আনল তীব্রের সামনে। চারপাশে ফিসফিসানি, কিছু অবাক চোখ, কিছু অবিশ্বাসের দৃষ্টি।

তীব্র ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। তার পদক্ষেপে ছিল ওজন, আর চোখে সেই ঠান্ডা শীতলতা যা শব্দের থেকেও তীক্ষ্ণ। সানার সামনে দাঁড়িয়ে, এক নিম্ন অথচ কাঁপন ধরানো কণ্ঠে বলল—

-"কেন করেছ এই কাজ?"

সানা মুখ ফেরাতে চাইলো, কিন্তু পারল না। কণ্ঠে ভয় লুকানোর চেষ্টা করলেও, গলাটা কেঁপে উঠল—

-"আমি? আমি কেন করবো? আমি কিছুই করিনি!"

তীব্র সানার দিকে মনিটর এগিয়ে ধরল। ফুটেজে নিজের কৃতকর্ম স্পষ্ট দেখতে পেয়ে সানার মুখের রঙ পাল্টে গেল। সে হকচকিয়ে কিছু বলতে গিয়ে আমতা আমতা করল।

তীব্রের চোখে আগুন জ্বলে উঠল। কণ্ঠস্বর বজ্রের মতো গর্জে উঠল—

-"আনসার মি, damn it! নাহলে এখনই পুলিশের হাতে তুলে দেবো তোমাকে!"

চাপ সহ্য করতে না পেরে সানা ভেঙে পড়ল। কণ্ঠে ভয়ের কাঁপন, তবুও মুখ থেকে বেরিয়ে এল স্বীকারোক্তি—

-"আমি... আমি ইচ্ছে করেই করেছি। বদলা নেওয়ার জন্য। মিহিরিমাকে জেলে পাঠিয়েছে তোমাদের ওরহান। মিহিরিমা আমার কাজিন।"

তীব্রের মুখে আর কোনো সংযম রইল না। এক ঝটকায় সানার চুলের মুঠি ধরে টেনে কাছে আনল। ঠান্ডা অথচ কাঁপন ধরানো স্বরে বলল—

-"অ্যাই সালি! তোর বোনকে জেলে পাঠিয়েছে ওরহান, তার থেকে বদলা না নিয়ে তুই সোহার ওপর কেনো বদলা নিচ্ছিস? জানিস তো, আজকের এই শো যদি নষ্ট হতো, সব দোষ সোহার ঘাড়ে যেতো! স্পষ্ট করে বল, কি জন্য এইসব করেছিস?"

সানা থমকে দাঁড়াল, তারপর বিষাক্ত দৃষ্টি ছুঁড়ে দিল—

-"সোহার জন্যই সব হয়েছে। ওরহান বিয়ে ভেঙেছে, মিহিরিমাকে জেলে দিয়েছে, সব ওর কারণেই!"

ঠিক তখনই রাগান্বিত কণ্ঠস্বর ছাপিয়ে গেল ব্যাকস্টেজের উত্তেজনাময় পরিবেশ—

-"আমি তো ওরহানকে বলিনি বিয়ে ভাঙতে, আর না ওরহানের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক আছে। তাহলে আমার দোষটা কোথায়?"

সবার দৃষ্টি একসঙ্গে পেছনের দিকে ঘুরল। সেখানে সোহা দাঁড়িয়ে, হাতে মেরামত করা ড্রেস, চোখে দপদপ করা আগুনের শিখা। নিঃশব্দ দর্শকদের সামনে সে এগিয়ে এলো, তীব্রকে সামান্য সরিয়ে দিল। তারপর এক মুহূর্ত দ্বিধা না করে সানার গালে সজোরে চড় বসিয়ে দিল।

তার কণ্ঠস্বর তীক্ষ্ণ, কাঁপনময়, আর অব্যক্ত বেদনা-ভরা—

-"মানুষের ক্ষতি করা যেন তোদের স্বভাব হয়ে গেছে, তাই না? বিচার-বুদ্ধি বলে কিছু আর বাকি আছে তোদের? তোর বোনের বিয়ে ভেঙেছে, তার পুরো দোষ ওরই। খান গ্রুপে থেকে কি কি অপকর্ম করেছে, আমরা জানি না ভেবেছিস? কোম্পানির ফান্ড থেকে টাকা চুরি, তোর বোনের জন্য একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ডিল হাতছাড়া হওয়া, এসবই কি অজানা আমাদের কাছে? খান গ্রুপকে ধ্বংস করে চৌধুরী গ্রুপকে উপরে তোলার চেষ্টা, সবই ওরই কাজ। আজ নিজের কর্মফল ভোগ করছে ও। আর তুই? তুই এসেছিস আমার ক্ষতি করতে! বুঝেছি, তোরও, তোর বোনেরও কাছে যাওয়ার এক অদ্ভুত সখ জেগেছে।"

সোহা ধীরে ধীরে সোজা হয়ে দাঁড়াল। টেবিলের ওপর ড্রেসটি আস্তে রেখে ঘুরে দাঁড়িয়ে, শীতল অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলল—

-"ভেতরে আসুন, অফিসাররা।"

সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন পুলিশ অফিসার ভেতরে প্রবেশ করল। উপস্থিত সবাই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। সোহা সানার দিকে ইঙ্গিত করে বলল—

-"আমাদের আজকের শো নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছে ও। অ্যারেস্ট করুন ওকে। মি. তীব্র, সিসিটিভি ফুটেজগুলো পুলিশের হাতে তুলে দিন।"

সোহার কথা শুনে তীব্র দৃঢ় পদক্ষেপ নিল। এরপর পুলিশ এসে সানাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। বিষয়টি গোপন রাখা হয়, কারণ, বাইরে গেলে কোম্পানির বদনাম ছড়িয়ে পড়বে। তীব্রর দিকে তাকিয়ে সোহা প্রশ্ন করল—

-"এখন এই ড্রেস পরে কে র‌্যাম্পে হাঁটবে?"

তীব্র শান্ত স্বরে বলল—

-"কেনো? সাবা হাঁটবে।"

সোহা বিস্মিত—

-"মানে?"

-"মানে, আপনার বোন হাঁটবে।"

সাবা থমকে যায়। ভীত স্বরে বলে—

-"কি বলছেন ভাইয়া? আমি তো জীবনে এসব করিনি, আমি পারব না।"

তীব্র দৃঢ় কণ্ঠে আশ্বস্ত করল—

-"সমস্যা নেই। তুমি আমাদের মেইন মডেল নও, শুধু হাঁটবে। শোস্টপার অন্যজন, তাই টেনশনের কিছু নেই। যাও, দ্রুত তৈরি হয়ে নাও।"

সাবা না করতে চাইছিল, কিন্তু মিরহা জোর করে তাকে নিয়ে গিয়ে প্রস্তুত করে স্টেজে উঠিয়ে দেয়। দূর থেকে সোহা ও তীব্র পাশাপাশি দাঁড়িয়ে পুরো দৃশ্য দেখছিল। হঠাৎ তীব্র শান্ত অথচ গভীর কণ্ঠে বলল—

-"আমি তো ভেবেছিলাম, আপনি প্যানিক করবেন। কিন্তু আপনি আমাকে ভুল প্রমাণ করলেন, অত সুন্দর, নিখুঁত ও দক্ষ হাতে সবকিছুই সামলে নিলেন!"

তাঁর কণ্ঠে মিশে আছে অবাক হওয়ার সঙ্গে এক ধরনের প্রশংসা। সোহা উত্তর করলো—

-"প্যানিক করা? সেটা আমি পাঁচ বছর আগেই ছেড়ে দিয়েছি। তবে ধন্যবাদ, এটি আপনার প্রাপ্য। আপনার অবিচল সঙ্গেই আমি এত দ্রুত পরিস্থিতি সামলাতে পেরেছি।"

সেই সময় তীব্র সোহার সামনে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। হাওয়ার নরম ছোঁয়ায় উড়ে আসা কিছু নৈসর্গিক চুল সে সযত্নে তুলে নিয়ে কানের পিছনে গুঁজে দেয়। তার চোখ দুটো মোহনীয় দীপ্তিতে ঝলমল করে, যেন ভাসিয়ে নিয়ে যায় অন্য এক জগতে। নেশায় ভারাক্রান্ত কণ্ঠে সে বলে—

-"না, সুশ্রী, আপনি সত্যিই অন্যরকম। আপনার মতো নারী আমি বিরল দেখেছি। আপনি বারবার আমাকে মুগ্ধ করেন, আর প্রত্যেকবার ভাবনার থেকে অনেক বেশি। আপনি আমাকে ক্রমশ প্রমাণ করেন, কতটা শক্তিশালী ও অসাধারণ একজন মানুষ আপনি। প্রতিবার আপনি আমাকে আগের চেয়ে বেশি মুগ্ধ করেন, প্রেমের সেই গভীরতায় নিমজ্জিত করে।"

সোহা বিব্রতবোধ করল। তীব্রের হঠাৎ এত নেশাল কণ্ঠে, এত কাছ থেকে কথা বলা যেন শরীরে বিদ্ধ বুলেটে স্পন্দিত হলো তার। অতীতের গ্লানি মুহূর্তে ফিরে এলো, ওরহান ঠিক এরকমই কাছে এসে, এমন স্বরে কথা বলত। সোহা হাত দ্রুত সরিয়ে একটু দূরে সরল দাঁড়াল। ঠিক সেই মুহূর্তে মাইকে ঘোষণা হলো—

-"এবং এবার স্বাগতম জানাই আমাদের সর্বাধিক প্রতিভাবান ডিজাইনার, মিস নেসলিহান সোহাকে, এবং আমাদের সুদর্শন পরিচালক, মিস্টার তীব্র নীল চৌধুরীকে।"

সোহা ও তীব্র ধীরে ধীরে স্টেজের দিকে এগিয়ে এলো। সকলের দিকে তারা সৌজন্যপূর্ণ হাসি ছড়িয়ে দিল। র‌্যাম্পওয়াক করে স্টেজের শেষ প্রান্তে পৌঁছে দাঁড়াল দুজন। মাইকে সোহার বক্তব্যের সূচনা হলো—

-"আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ, আজ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য। আপনারা সবাই এই ক্ষণকে আরো বিশেষ করে তুলেছেন।

এরপর তীব্রের কণ্ঠে উঠে এলো গভীর শ্রদ্ধা ও প্রশংসার ভাষণ—

-"আজকের এই সফল আয়োজনের পেছনে মিস সোহার অক্লান্ত পরিশ্রম এবং নিষ্ঠা রয়েছে। আপনার অবদান ছাড়া আজকের এই মুহূর্ত সম্ভব হতো না। আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই, যদিও ধন্যবাদ জানানোর ভাষা যতই বলি, তা যথেষ্ট হবে না আপনার প্রতি। সত্যিই, আপনি না থাকলে আজকের এই সফলতা আমার জন্য ছিল অসম্ভব।"

সোহা হালকা এক সায়ময়ী হাসি দিতে চাইল, কিন্তু তা যেন গলানোর আগেই থমকে গেলো। দুজনের মন্তব্যের পর যখন তারা দুইজন ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়াল, সোহার পা হঠাৎই বেজে পড়তে লাগল, তার শাড়ির অঙ্গোনায় এক অদৃশ্য ভারসাম্য ভেঙে গেলো। মুহূর্তেই তীব্রের দুই হাত যেন বায়ু থেকে তাকে ধরে নিয়ে ফেলল, একটু বেশিই দৃঢ়, একদম কোমর ঘেঁষে বাঁধা।

সোহার কোমর হঠাৎ বেঁকে গেল, যেন তার শরীর নিজে থেকে স্বীকার করল সেই স্নিগ্ধ স্পর্শ। সোহা তীব্রের ব্লেজারের খামচে ধরলো নিঃসঙ্গতার বিরুদ্ধে রচিত এক অদম্য বন্ধন। এক হাতে সোহার পিঠ, অন্য হাতে কোমর, সে যেন তাকে রক্ষা করছিল, এক মুহূর্তের জন্যও ছাড়তে চাইল না।

তারা দুজন, মৃদু অপলক একে অপরের চোখে ডুবে। তাদের মাঝে বাতাস থেমে গেছে, সময় যেন খুঁজে পেয়েছে নিস্তব্ধতার এই মুহূর্তকে। চারপাশে অন্ধকার, অথচ যেন spotlight-এর নিচে তাদের জন্য এক ছোট্ট জগত তৈরি হয়েছে, যেখানে শুধু তারা দুজন। তখনই, হঠাৎ সাদা গোলাপের কোমল পাপড়িগুলো মৃদু বর্ষণে পড়তে লাগল, দুজনের ওপর মাখামাখি হয়ে।

এমন মনে হচ্ছিল, যেন বিশ্ব তাদের জন্য একটু থেমে আছে, হৃদয়ের ছন্দ যেন একফোঁটা স্পর্শের অপেক্ষায়। চারপাশে মানুষের চোখ, অবাক দৃষ্টিতে এই নীরব নাটকের সাক্ষী। ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের ঝলকানি যেন এক অদ্ভুত আলোর খেলা, এই রোমাঞ্চের দৃশ্যটাকে আরও জীবন্ত করে তুলছে।

হঠাৎ, হাততালির শব্দে সোহার যেন হুস ফিরলো। তার মনোবল ছুটে গেল। অপ্রস্তুত হয়ে দ্রুত তীব্রের হাত থেকে নিজেকে সরিয়ে নিল, যেন এই মুহূর্তের উপস্থিতি তাকে বিব্রত করেছে। দুজনে সরে দাঁড়াল, সোহার কণ্ঠে ঝড় ওঠে, আসলে সে ভালোবাসার রেশটুকু নিজের হৃদয়ে স্পর্শ করতে চায়নি, তার মনে ছিল শুধুই দ্বিধা, ভয়ে ভরা।

তীব্র, এই মুহূর্তে, নিজের সমস্ত ভালোবাসা নিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল, মুখে কোনো কথা না রেখে, শুধু চোখের গভীরে সোহার জন্য এক অমলিন ভালোবাসার আগুন জ্বলে উঠছিল। সে জানত, সোহার অপ্রস্তুতি একদিন কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবো, আর সেই সময় সে সোহার সবটা হৃদয়ে ভরে নিবে। তবে ততদিন দুরত্ব বজায় রাখতে হবে।

-"সরি, আসলে শাড়িতে পা বেজে গিয়েছিল।" সোহার কণ্ঠে ছিল অপ্রস্তুতির মিশ্রণ, যেন নিজের লজ্জা ভাষায় প্রকাশ করতে চায়।

-"ইটস ওকে, আমি বুঝতে পেরেছি।" তীব্রের কণ্ঠে ছিল মৃদু করে বোঝার কোমলতা, কোনো অভিযোগ নেই, শুধু সহানুভূতি।

দুজনেই কিছুক্ষণ অপ্রস্তুত চোখভরা নীরবতায় দাঁড়িয়ে ছিল। তারপর দ্রুত, একটু অস্বস্তিতে, তারা একসাথে স্টেজ থেকে নেমে গেলো, যেন মুহূর্তটা যত দ্রুত সম্ভব তাদের থেকে সরে যাক।

.

.

সোহা গভীর চিন্তায় ডুবে গেছে। নিজের কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে অবিচল দৃষ্টিতে তাকিয়ে, মনের মধ্যে একগাদা প্রশ্নের ঝড় উঠছে, এবার করব কী? কীভাবে সামলাব এই অবস্থা? এইসব কিছু তার ভাবনার নাগালের বাইরে ছিল, কখনোই সে ভাবতে পারেনি যে তার জীবনে এমন মুহূর্ত আসবে।

স্ক্রিনে ঝলমল করছে সেই মুহূর্তের ছবি—সোহা আর তীব্রর ঐ স্পর্শের আবেশ, যা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ডিং পেজে ঊর্ধ্বমুখী। সে কখনো চায়নি spotlight-এর আলো তার দিকে পড়ুক, বরং সবসময় নিজেকে ক্যামেরার পেছনে লুকিয়ে রেখেছে। হঠাৎ করেই এই অপ্রত্যাশিত নজর তাকে বিভ্রান্ত করেছে।

পাশেই বসা মিরহার চোখেও বিভ্রান্তির ছাপ স্পষ্ট। অন্য সময় হলে হয়তো সে এই পরিস্থিতি নিয়ে হাসাহাসি করত, কিন্তু অতীতের কষ্টের স্মৃতি তাকে আজ চুপ থাকতে বাধ্য করেছে। মিরহা ভালো করেই বুঝেছে, কেন সোহা তার জীবনে কোনো পুরুষকে সহজে প্রবেশ করতে দেয় না—এটা শুধুই রক্ষা, শুধুই আত্মরক্ষা।

মৃদু ভঙ্গিতে মিরহা বলল—

-"আপনি তীব্র স্যারের সাথে কথা বলুন। নিশ্চয়ই কোনো সমাধান বের হবে।"

সোহার চোখে যেন এক আশার দীপ জ্বললো, কিন্তু সেই সঙ্গে দুশ্চিন্তার ছায়াও গা ঘেঁষে দিলো। সোহা ধীরে ধীরে সম্মতি জানিয়ে উঠে দাঁড়াল। তার হৃদয়ে উত্তেজনা আর অস্থিরতার মিশ্রণ। সে দ্রুত তীব্রের কেবিনের দিকে ছুটে চলল।

তীব্র আগেই সব কিছু জানে, শুধু অপেক্ষায় ছিল, সোহা আসবে আর কিছু বলবে, না হলে নিজেই কোনো পদক্ষেপ নেবে না।

সোহা কেবিনের দরজায় নক করল, ভেতরে ঢুকল। তীব্র তাকে দেখে কোমল এক হাসি দিলো, আর সোহা বিনয় ছাড়া সরাসরি বলল—

-"আমাদের এই টপিকটা এখন ট্রেন্ডিং। নিশ্চয় আপনি দেখেছেন।"

তীব্র শান্ত কণ্ঠে বলল—

-"হ্যাঁ।"

-"এখন কী করা যায়? আমি এই ট্রেন্ডিংয়ের আলোতেই থাকতে চাই না। বরাবরই ক্যামেরার পেছনের মানুষ আমি। এইসব হাইলাইটে আসাটা কখনো পছন্দ করিনি।" সোহার কণ্ঠে ছিল এক ধরনের অস্থিরতা।

তীব্র গভীর দৃষ্টিতে তাকে দেখে বলল—

-"বেশ, আমি বুঝতে পারছি। সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। আপনি চিন্তা না করে আরাম করুন। আর হ্যাঁ, সবাইকে মিটিং রুমে আসতে বলুন।"

সোহা সম্মতি দিয়ে ধীরে ধীরে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। পরের মুহূর্তেই সবাই মিটিং রুমে একত্রিত হলো। তীব্র নিজের জন্য বরাদ্দ করা চেয়ারে আরাম করে বসলো, আর সিইওর চেয়ারটি ফাঁকা থেকে গেল। সবাইর চোখ ছিলো তার ওপর, অপেক্ষা করছিল তার কথার জন্য।

তীব্র ধীরে ধীরে মুখ খুললো—

-"আমাদের ফ্যাশন শোর সফলতা উদযাপন করতে, আমি আপনাদের সবাইকে একটি বিশেষ উপহার দিতে চাই।"

কেউ কৌতূহল মিশ্রিত স্বরে জিজ্ঞেস করল—

-"কি উপহার, স্যার?"

তীব্র হাসি ফুটিয়ে বলল—

-"আপনাদের সবাইকে নিয়ে আমরা সাজেক ট্যুরে যেতে যাচ্ছি। আগামী পরশু আমাদের ট্রেনে উঠতে হবে। সবার নামে টিকেট কাটা হয়েছে, শুধু নির্দিষ্ট সময়ে এসে নিজ নিজ আসন নিন। আর যদি চান, নিজের পার্টনার বা পরিবারের কেউকে সঙ্গে নিয়ে যেতে, তবে একাউন্টে জানাবেন, যাঁরা অতিরিক্ত টিকেটের ব্যবস্থা করে দিবেন।"

তার কথায় সবাই যেন আনন্দে মুখরিত হয়ে উঠল। তীব্র বললো—

-"এখন আপনারা যেতে পারেন। ধন্যবাদ সবাইকে।"

সবাই মিটিং রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তীব্র তার সহকারী আকাশকে ডেকেছিলো—

-"ট্রেন্ডিং থেকে সোহার নাম সরিয়ে দাও।" ফুরফুরে চোখে বলল সে।"

আকাশ কণ্ঠে শান্তি রেখে বলল—

-" কিন্তু স্যার, অলরেডি সব রিমুভ হয়ে গেছে!"

তীব্র হঠাৎ রেগে গেলো, কণ্ঠে ছিল এক চরম হতাশা ও রাগের স্ফুলিঙ্গ—

-"ওয়াট? তুমি কি বলছ? কি রিমুভ করেছে?"

-"জানি না স্যার।" আকাশ বিনয়ী কণ্ঠে জবাব দিলো।

-"আচ্ছা, ঠিক আছে। খোজ নাও। বের করো কে এই কাজ করেছে।" তীব্র চিৎকার করে বলল।

আকাশ ধীরে ধীরে চলে গেলো। ঠিক তখনই সোহা কেবিনে ঢুকলো। নম্রতা নিয়ে তীব্রর কাছে গিয়ে বলল—

-"ধন্যবাদ, মিস্টার তীব্র। আপনি এত দ্রুত কাজটা করে দিবেন, আমি ভাবতেই পারিনি।"

তীব্র হালকা এক হাসি দিলো, ঠোঁটে খেলানো সেই হাসি—

-"ধন্যবাদ দেওয়ার দরকার নেই। আমরা তো বন্ধু, রাইট? বন্ধু তো একে অন্যের পাশে থাকে, সাহায্য করে।"

Story Cover