তোমার নিমন্ত্রনে

পর্ব - ৬

🟢

বাবা গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরে এলেন মঙ্গলবার। জমি জমা সংক্রান্ত ঝামেলা এখনো শেষ হয়নি তিনি সামনে আবার যাবেন এক সপ্তাহ পরে।

দীপ্তর একা একা বাবাকে ছাড়া বাসায় তেমন একটা ভালো লাগে না। ভীষণ মিস করেছে এই কয়দিন বাবাকে। আজ বেশ শান্তি পাচ্ছে।

“ভূতের বাড়ির ভূতদের আই মিন পেত্নীদের মধ্যে কাউকে বিয়ে করে নিয়েছিস নাকি?”

“মানে?”

“আসার পর থেকেই দেখছি কেমন হুতোম প্যাঁচার মতো মুখ করে আছিস। ভাবলাম আছড় করল কি-না।”

“উফ বাবা! তুমি না? তুমি কখনো সিরিয়াস হতে পারো না?”

“তোর মতো? তাহলে আমাকে এখনকার চাইতে বেশি ভালোবাসতি?”

দীপ্ত এবার মৃদু হেসে বলল, “বাবা, তুমি যেমন আছো তেমনই থেকো। তাতে আমার ভালোবাসায় কমতি হবে না কোনোদিন।”

মোহসীন সাহেব ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন৷ তার বড্ড আদরের ছেলে। তার একমাত্র বেঁচে থাকার স্পৃহা।

***

দীপ্তর এই কয়েকদিন কেটেছে নিত্য-নতুন মুভি আর সিরিজ দেখে। আজ ফেসবুকে ঢুকতেই মনে হলো শ্রেয়সীকে খুঁজে ওর প্রোফাইল ঘাটাঘাটি করলে কেমন হয়! তাতে ওকে আরও ভালোমতো জানা যাবে। একটা টোটকা সে ঠিকই বের করে ফেলবে ওকে পটানোর। ওর পুরো নাম ওর মনে আছে, জিডি করার সময় দেখেছিল।

পুরো নাম লিখে সার্চ করল, বেশকিছু প্রোফাইল দেখতে দেখতে পেয়ে গেল। ক্লিক করতেই হতাশ হলো। লকড প্রোফাইল। ধূর! কোনো মানে হয়। ভেবেছিল ওকে জানতে না দিয়ে সে কার্যসিদ্ধি করবে। এখন কীভাবে তা হবে। ভাবতেই ভাবতেই ‘এ্যাড ফ্রেন্ড’ বাটনে ক্লিক করল খানিকটা অন্যমনস্ক ভাবেই৷

এরপর ভাবল ক্যান্সেল করে দেবে, কিন্তু তখনই ইলেকট্রিসিটি চলে গেল। সবকিছুর একসাথে ওর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে হবে কেন!

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল, এরপর মনে হলো শ্রেয়সী কী না কী ভাববে? যদি সত্যি সত্যি ছ্যাচড়া ভাবে! সে রিচার্জ করল, এরপর ডাটা প্যাক কিনে আবার ফেসবুকে এলো। রিকুয়েস্ট পাঠানোর পরে ছত্রিশ মিনিট চলে গেছে। ক্যান্সেল বাটনে ক্লিক করতে যাবে তখনই নোটিফিকেশন এলো একটা।

শ্রেয়সী ওর ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট এক্সেপ্ট করেছে। দীপ্তর মুখে হাসি অনিন্দ্য সুন্দর এক হাসিতে উদ্ভাসিত হলো। যাক প্রথম ধাপ কমপ্লিট।

***

শ্রেয়সী নিজের নতুন জবটা বেশ এনজয় করছে। নতুন পরিবেশে সে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে। দুদিন আগে বাবা-মা এসে দেখা করে গেছেন ওর সাথে। মা এবারও দুটো বায়োডাটা ধরিয়ে দিয়ে গেছেন। শ্রেয়সী খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। ছয়টা মাস যাক৷

দীপ্তর প্রতি ওর ধারণা প্রথমদিকের চাইতে কিছুটা পাল্টেছে। বাসে ওকে সত্যিকার অর্থেই সে যথেষ্ট সাহায্য করেছে। সেদিন রেস্টুরেন্টে খানিকটা অন্য সুরেই কথা বলেছে। ছেলেটা হয়তো খানিকটা অনুতপ্ত। সবাই তো সবকিছু প্রকাশ করতে পারে না। সেদিনও ওর ওড়নায় কফি পড়ায় কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছে অসুবিধা হচ্ছে কিনা।

শেষে বন্ধুত্বের প্রস্তাবটাতেও আন্তরিকতা ছিল। তবে ওটা নিয়ে দীপ্ত অন্য গায়েপড়া ছেলেদের মতো আর ওকে বিরক্ত করেনি৷

এই কয়েকদিনে অবশ্য দীপ্তর কথা ওর মাথায় ছিল না। আজ হঠাৎ ফেসবুকে ঢুকতেই ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট দেখল দীপ্তর। সে সাথে সাথে এক্সেপ্ট করল না, খানিকটা সময় নিয়ে প্রোফাইল ঘাটল৷ সত্যিই তার এডমায়ারারের অভাব নেই। অল্প কিছু মেয়ে ছাড়া মেয়েদের কমেন্টে তেমন একটা রিপ্লাই করে না দীপ্ত।

মেমোরিজ থেকে কিছু শেয়ার পোস্ট আছে। ডিবেট করত, আবৃত্তিও। বেশ গুণ আছে তো, স্বীকার করল শ্রেয়সী।

ওর মনে হলো এক্সেপ্ট করাই যায়, অন্তত ডিস্টার্বিং হবে না ওর জন্য। সাত-পাঁচ ভেবে সে ফেসবুকের বন্ধু তালিকায় যোগ করে নিল দীপ্তকে।

Story Cover