চে গুয়েভারা ছিলেন একজন আর্জেন্টাইন মার্কসবাদী বিপ্লবী ও গেরিলা নেতা। তাঁর পুরো নাম ছিল এরনেস্তো গেভারা দে লা সের্না। তিনি ১৯২৮ সালের ১৪ জুন আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি অ্যাজমায় ভুগতেন। তবুও তিনি চিকিৎসাবিদ্যা পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। ১৯৫১ থেকে ১৯৫২ সালে তিনি বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলে লাতিন আমেরিকা ভ্রমণ করেন। এই ভ্রমণ তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি সেখানে চরম দারিদ্র্য ও শোষণ দেখতে পান। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তোলে। পরে তিনি ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে পরিচিত হন। ১৯৫৬ সালে তিনি কিউবান বিপ্লবে যোগ দেন। তিনি গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে দক্ষতা দেখান। ১৯৫৮ সালে তিনি সান্তা ক্লারা শহর দখলে নেতৃত্ব দেন। এই বিজয় কিউবান বিপ্লবের পতন ত্বরান্বিত করে। ১৯৫৯ সালে বিপ্লব সফল হলে তিনি সরকারি দায়িত্ব নেন। তিনি জাতীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হন। পরে তিনি শিল্প মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি "নতুন মানুষ" ধারণা প্রচার করেন। তিনি গেরিলা যুদ্ধের উপর বিখ্যাত বই লেখেন। ১৯৬৫ সালে তিনি কিউবা ত্যাগ করে বিপ্লব ছড়াতে যান। প্রথমে তিনি কঙ্গোতে যান কিন্তু সেখানে ব্যর্থ হন। পরে তিনি বলিভিয়ায় গেরিলা যুদ্ধ শুরু করেন। ১৯৬৭ সালের ৮ অক্টোবর তিনি বন্দী হন। পরের দিন তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর মৃত্যু বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তাঁর বিখ্যাত ছবি বিপ্লবের প্রতীক হয়ে ওঠে। অনেকে তাঁকে নায়ক ও শহীদ মনে করেন। কেউ কেউ তাঁর সহিংসতা ও ব্যর্থতার সমালোচনা করেন। তাঁর ডায়েরি ও বই আজও পঠিত হয়। তিনি দুইবার বিয়ে করেছিলেন এবং পাঁচ সন্তানের জনক ছিলেন। তাঁর জীবন ছিল ত্যাগ ও সংগ্রামে ভরা। তিনি আন্তর্জাতিকতাবাদ ও সমতার আদর্শে বিশ্বাস করতেন। আজও তাঁর প্রতিকৃতি সারা বিশ্বে দেখা যায়। কিউবায় তিনি জাতীয় বীর হিসেবে সম্মানিত। অন্যান্য দেশে তাঁর মূল্যায়ন ভিন্ন ভিন্ন। তাঁর উত্তরাধিকার এখনও বিতর্কিত। তিনি সশস্ত্র বিপ্লবকে সমর্থন করতেন। তাঁর আদর্শ অনেক যুবককে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর গল্প ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
আসুন তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানি...
চে গুয়েভারা কে ছিলেন?
চে গুয়েভারা ছিলেন একজন আর্জেন্টাইন মার্কসবাদী বিপ্লবী। তিনি কিউবার বিপ্লবে ফিদেল কাস্ত্রোর ডান হাত হিসেবে কাজ করেন। তিনি গেরিলা যুদ্ধের একজন দক্ষ নেতা ও তাত্ত্বিক ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি কিউবার সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন। তিনি লেখক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর লেখা বইগুলো বিপ্লবীদের অনুপ্রাণিত করে। তিনি আন্তর্জাতিকতাবাদী বিপ্লব ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। ১৯৬৭ সালে বোলিভিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর প্রতিকৃতি বিশ্বজুড়ে বিপ্লবের প্রতীক হয়ে আছে।
চে গুয়েভারার পুরো নাম কী ছিল এবং "চে" নামটি কোথা থেকে এসেছে?
চে গুয়েভারার পুরো নাম ছিল এরনেস্তো গেভারা দে লা সের্না। "চে" নামটি আর্জেন্টাইন স্ল্যাং "চে" থেকে এসেছে। এই শব্দের অর্থ "হে" বা "বন্ধু"। তিনি কথা বলার সময় প্রায়ই এটি ব্যবহার করতেন। তাঁর সহযোদ্ধারা তাঁকে এই নামে ডাকতে শুরু করে। পরে এটি তাঁর স্থায়ী ডাকনাম হয়ে যায়। আজও তিনি চে গেভারা নামেই সবার কাছে পরিচিত।
চে গুয়েভারার জন্ম কবে, কোথায় এবং কোন পরিবারে হয়েছিল?
চে গেভারা ১৯২৮ সালের ১৪ জুন জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর জন্ম হয় আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরে। তিনি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেন। তাঁর পিতার নাম এরনেস্তো গেভারা লিঞ্চ। মাতার নাম সেলিয়া দে লা সের্না ই লোসা। পরিবারটি বামপন্থী রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী ছিল। তাঁর বাবা স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধে রিপাবলিকান পক্ষ সমর্থন করেছিলেন। পরিবারে প্রচুর বই ছিল যা তাঁকে পড়তে উৎসাহ দিত। এই পারিবারিক পরিবেশ তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে সাহায্য করে।
তাঁর শৈশব কেমন ছিল?
তাঁর শৈশব কেটেছে আর্জেন্টিনার বিভিন্ন অঞ্চলে। শৈশব থেকেই তিনি গুরুতর অ্যাজমায় ভুগতেন। এই অসুস্থতা তাঁকে অনেক শারীরিক কষ্ট দিয়েছে। তবুও তিনি খেলাধুলা ও শারীরিক চর্চায় সক্রিয় ছিলেন। তিনি ফুটবল, রাগবি ও সাইকেল চালানো পছন্দ করতেন। পরিবারের সাথে তিনি প্রায়ই প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতেন। সেখানে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাপন দেখতেন। বাবা-মা তাঁকে স্বাধীন চিন্তা করতে শিখিয়েছেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই ইতিহাস ও দর্শনের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। এসব অভিজ্ঞতা তাঁর পরবর্তী বিপ্লবী চেতনা গড়ে তোলে।
তিনি কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছিলেন?
তিনি প্রাথমিক শিক্ষা আলতা গ্রাসিয়া শহরে লাভ করেন। মাধ্যমিক শিক্ষা তিনি কর্ডোবার ডিন ফিউনেস কলেজে সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি বুয়েনোস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়ন করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি চিকিৎসকের ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি অনেক বন্ধু ও রাজনৈতিক সহযোগী পান। এই শিক্ষা তাঁকে মানুষের সেবার পথে পরিচালিত করে।
কেন তিনি চিকিৎসাবিদ্যা (মেডিসিন) পড়েছিলেন?
তিনি চিকিৎসাবিদ্যা পড়েছিলেন মানুষের সেবা করার আকাঙ্ক্ষা থেকে। শৈশবের অ্যাজমা তাঁকে চিকিৎসার গুরুত্ব বুঝিয়েছিল। তিনি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা করতে চেয়েছিলেন। এই পেশা তাঁকে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সুযোগ করে দেয়। চিকিৎসক হিসেবে তিনি সমাজের বাস্তবতা দেখতে পান। পরে এই জ্ঞান তাঁর বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে কাজে লাগে। তিনি গেরিলা যুদ্ধেও চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর দীর্ঘ মোটরসাইকেল ভ্রমণ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
তাঁর মোটরসাইকেল ভ্রমণ ছিল জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। ১৯৫১ থেকে ১৯৫২ সালে তিনি বন্ধুর সাথে এই যাত্রা শুরু করেন। ভ্রমণের পথে তিনি লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ অতিক্রম করেন। সেখানে তিনি চরম দারিদ্র্য ও অসমতা দেখতে পান। খনি অঞ্চলে শ্রমিকদের শোষণ তাঁকে হতবাক করে। কুষ্ঠ রোগীদের সাথে কাটানো সময় তাঁর মানবতাবোধ জাগায়। তিনি বুঝতে পারেন যে এই সমস্যার মূলে রয়েছে শোষণমূলক ব্যবস্থা। এই যাত্রা তাঁকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তোলে। ভ্রমণের ডায়েরি পরে বিশ্ব বিখ্যাত বই হয়ে ওঠে। এটি তাঁর চিন্তাধারার ভিত্তি স্থাপন করে। পরবর্তীতে এই অভিজ্ঞতা তাঁকে বিপ্লবের পথে নিয়ে যায়।
সেই ভ্রমণ তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারায় কী পরিবর্তন আনে?
এই ভ্রমণ তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারায় গভীর পরিবর্তন আনে। তিনি দেখেন যে দারিদ্র্য কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এটি পুঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শোষণের ফল। তিনি সমাজতান্ত্রিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ভ্রমণ তাঁকে মার্কসবাদী আদর্শের প্রতি আকৃষ্ট করে। তিনি বুঝতে পারেন সশস্ত্র সংগ্রাম ছাড়া পরিবর্তন সম্ভব নয়। এই অভিজ্ঞতা তাঁর আন্তর্জাতিকতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে। পরে তিনি এই চিন্তাকে বাস্তবে প্রয়োগ করেন। ভ্রমণ তাঁকে একজন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিপ্লবীতে রূপান্তরিত করে।
মার্কসবাদ সম্পর্কে তিনি কীভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন?
তিনি মার্কসবাদ সম্পর্কে আগ্রহী হন ভ্রমণের সময়কার অভিজ্ঞতা থেকে। লাতিন আমেরিকার দুর্দশা তাঁকে মার্কসের তত্ত্ব পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি কার্ল মার্কস এবং ভ্লাদিমির লেনিনের রচনা অধ্যয়ন করেন। গুয়াতেমালায় আমেরিকার হস্তক্ষেপ দেখে তাঁর আগ্রহ আরও বাড়ে। সেখানে তিনি কমিউনিস্ট চিন্তাবিদদের সাথে মেলামেশা করেন। মার্কসবাদ তাঁকে শ্রেণী সংগ্রামের গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করে। তিনি বিশ্বাস করেন যে বিপ্লবের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এই আদর্শ তাঁর সারা জীবনের কর্মকাণ্ডের ভিত্তি হয়। পরে তিনি মার্কসবাদকে গেরিলা যুদ্ধের সাথে যুক্ত করেন।
ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় কীভাবে হয়?
ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে তাঁর প্রথম পরিচয় হয় ১৯৫৫ সালে মেক্সিকোতে। তিনি তখন মেক্সিকো সিটিতে অবস্থান করছিলেন। সেখানে তিনি রাউল কাস্ত্রোর সাথে সাক্ষাৎ করেন। রাউল তাঁকে ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। ফিদেল তখন কিউবায় বিপ্লব সংগঠিত করার পরিকল্পনা করছিলেন। চে তাঁদের সাহস ও আদর্শ দেখে প্রভাবিত হন। তিনি তাদের সাথে যোগ দিতে সম্মত হন। এই পরিচয় কিউবান বিপ্লবের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। পরবর্তীতে তারা একসাথে বিপ্লবী অভিযান শুরু করেন।
কিউবান বিপ্লব কী ছিল?
কিউবান বিপ্লব ছিল ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত চলা একটি সশস্ত্র সংগ্রাম। এর লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারী ফুলহেনসিও বাতিস্তা সরকারকে উৎখাত করা। ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে ২৬ জুলাই আন্দোলন এই বিপ্লব শুরু করে। ১৯৫৩ সালে মনকাদা ব্যারাকে আক্রমণ ছিল এর শুরু। ১৯৫৬ সালে গ্রানমা নৌযানে অবতরণের মাধ্যমে গেরিলা যুদ্ধ শুরু হয়। সিয়েরা মায়েস্ত্রা পর্বতে গেরিলারা ঘাঁটি গাড়ে। চে গেভারা সহ অনেক নেতা এতে যোগ দেন। ১৯৫৮ সালে সান্তা ক্লারা দখল বিপ্লবের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি বাতিস্তা পালিয়ে যান। বিপ্লবের ফলে কিউবায় সমাজতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি লাতিন আমেরিকায় বড় প্রভাব ফেলে।
কিউবান বিপ্লবে চে গুয়েভারার ভূমিকা কী ছিল?
চে গেভারা কিউবান বিপ্লবে ফিদেল কাস্ত্রোর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তিনি প্রথমে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি গেরিলা কমান্ডার হিসেবে উন্নীত হন। তিনি সিয়েরা মায়েস্ত্রায় ঘাঁটি স্থাপনে সাহায্য করেন। তিনি রেডিও রেবেলদে সম্প্রচারে অংশ নেন। ১৯৫৮ সালে তিনি পশ্চিমে অভিযানের নেতৃত্ব দেন। সান্তা ক্লারা শহর দখল তাঁর নেতৃত্বের শ্রেষ্ঠত্ব দেখায়। এই বিজয় বাতিস্তার পতন ত্বরান্বিত করে। বিপ্লবের পর তিনি হাভানায় প্রবেশ করেন। তিনি বিপ্লবী আদর্শ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর সাহস ও কৌশল বিপ্লবকে সফল করতে সাহায্য করে।
বিপ্লবের সময় তাঁর নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো কী ছিল?
চে গেভারা ১৯৫৭ সালে আলেগ্রিয়া দে পিও যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি লাস মেরসেদেস যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি গেরিলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও সংগঠনে নেতৃত্ব দেন। তিনি স্কুল ও ক্লিনিক স্থাপন করে স্থানীয় সমর্থন অর্জন করেন। ১৯৫৮ সালের শেষে তাঁর কলাম পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়। সান্তা ক্লারা দখলের যুদ্ধে তিনি অসাধারণ কৌশল দেখান। ট্রেন আক্রমণ করে শত্রুর সরবরাহ বন্ধ করেন। এই বিজয়ের পর বাতিস্তা সরকার ভেঙে পড়ে। তিনি হাভানায় বিপ্লবী বাহিনীর প্রবেশের সময় উপস্থিত ছিলেন। বিপ্লবের সময় তিনি অনেক তরুণকে অনুপ্রাণিত করেন। তাঁর নেতৃত্ব বিপ্লবকে জনপ্রিয় করে তোলে।
কিউবান বিপ্লব সফল হওয়ার পর তিনি কোন কোন দায়িত্ব পালন করেন?
বিপ্লবের পর চে গেভারা লা কাবানা দুর্গের কমান্ডার হন। সেখানে তিনি বিপ্লবী ট্রাইব্যুনাল পরিচালনা করেন। পরে তিনি জাতীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। তিনি মুদ্রায় "চে" স্বাক্ষর করতেন। ১৯৬১ সালে তিনি শিল্প মন্ত্রী হন। তিনি কৃষি সংস্কার ও জাতীয়করণে অংশ নেন। তিনি সাক্ষরতা অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি "নতুন মানুষ" ধারণা প্রচার করেন। এসব দায়িত্ব তাঁকে কিউবার অর্থনীতি গঠনে সাহায্য করে।
কিউবার অর্থনৈতিক নীতিতে তাঁর অবদান কী ছিল?
চে গেভারা কিউবার অর্থনীতিতে সমাজতান্ত্রিক নীতি প্রয়োগ করেন। তিনি বড় জমি দখল করে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন। শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনীতি বৈচিত্র্যময় করতে চেয়েছিলেন। তিনি নৈতিক উদ্দীপনার ওপর জোর দেন। স্বেচ্ছাশ্রম ও স্বেচ্ছাসেবক কাজের প্রচলন করেন। সাক্ষরতা অভিযানের মাধ্যমে শিক্ষার হার বাড়ান। তিনি বিদেশি কোম্পানির সম্পত্তি জাতীয়করণ করেন। অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় সোভিয়েত মডেল অনুসরণ করেন। তাঁর নীতি কিউবাকে সমাজতান্ত্রিক পথে পরিচালিত করে।
তিনি কেন শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছিলেন?
চে গেভারা শিল্পায়নের ওপর জোর দেন অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার জন্য। তিনি চিনি উৎপাদনের একক নির্ভরতা কমাতে চেয়েছিলেন। শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করতেন। তিনি "নতুন মানুষ" তৈরি করতে চেয়েছিলেন। এই নীতি সমাজতান্ত্রিক আদর্শের সাথে মিলে যায়। তিনি বিদেশি নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন। শিল্পায়ন কিউবাকে আধুনিক অর্থনীতিতে পরিণত করবে বলে বিশ্বাস করতেন। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য ছিল। এটি বিপ্লবের সাফল্য নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাঁর ভূমিকা কী ছিল?
চে গেভারা কিউবার আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯৬৪ সালে জাতিসংঘে বক্তৃতা দেন। সেখানে তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন। তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীন সফর করেন। আফ্রিকা ও এশিয়ায় কূটনৈতিক মিশনে যান। তিনি তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর সাথে সংহতি গড়ে তোলেন। বিপ্লব রপ্তানির নীতি প্রচার করেন। তাঁর বক্তৃতা বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলে। এটি কিউবার অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
তিনি কেন কিউবা ছেড়ে অন্য দেশে যান?
চে গেভারা কিউবা ছেড়ে যান বিপ্লব ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। তিনি সোভিয়েত প্রভাবে অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েন। ফোকো তত্ত্ব অনুসারে অন্য দেশে বিপ্লব শুরু করতে চেয়েছিলেন। তিনি কিউবার অর্থনৈতিক সমস্যায় হতাশ হন। বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি গোপনে কিউবা ত্যাগ করেন ১৯৬৫ সালে। নাগরিকত্ব ত্যাগ করে আন্তর্জাতিক বিপ্লবী হিসেবে কাজ করেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকায় বিপ্লব ছড়ানো। এটি তাঁর আদর্শগত প্রতিশ্রুতির প্রকাশ ছিল।
কঙ্গোতে তাঁর মিশন কেন ব্যর্থ হয়েছিল?
কঙ্গোতে চে গেভারার মিশন ব্যর্থ হয় স্থানীয় সমর্থনের অভাবে। ভাষাগত বাধা যোগাযোগ কঠিন করে তোলে। সিম্বা বিদ্রোহীরা সংগঠিত ছিল না। সিআইএ সমর্থিত মোবুতু বাহিনী শক্তিশালী ছিল। কিউবান সৈন্যদের সাথে সমন্বয়ের অভাব ছিল। ভূখণ্ড ও আবহাওয়া প্রতিকূল ছিল। তিনি স্থানীয় নেতাদের সাথে মতবিরোধে জড়ান। ১৯৬৫ সালের শেষে তিনি কঙ্গো ত্যাগ করেন। এই ব্যর্থতা তাঁকে পরবর্তী মিশনে আরও সতর্ক করে।
তিনি কেন বলিভিয়াকে পরবর্তী বিপ্লবের জন্য বেছে নিয়েছিলেন?
চে গেভারা বলিভিয়াকে বেছে নেন কারণ এটি দক্ষিণ আমেরিকার কেন্দ্রে অবস্থিত। তিনি মনে করতেন এখান থেকে মহাদেশীয় বিপ্লব ছড়ানো সম্ভব। বলিভিয়ার সরকার দুর্বল ও অস্থিতিশীল ছিল। সেখানে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। তিনি ফোকো তত্ত্ব পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন। বলিভিয়া অন্যান্য দেশের সাথে সংযোগ স্থাপনে সুবিধাজনক ছিল। তিনি স্থানীয় গেরিলা গ্রুপ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। এটি তাঁর শেষ বড় অভিযান হিসেবে পরিণত হয়। বলিভিয়া তাঁর আন্তর্জাতিক বিপ্লবের স্বপ্নের অংশ ছিল।
বলিভিয়ায় তাঁর কার্যক্রম কী ছিল?
চে গেভারা ১৯৬৬ সালে গোপনে বলিভিয়ায় প্রবেশ করেন। তিনি ইউরো রেভিন এলাকায় ঘাঁটি স্থাপন করেন। তিনি ছোট একটি গেরিলা দল গঠন করেন। স্থানীয় কৃষকদের সমর্থন পাওয়া কঠিন হয়। তিনি ফোকো তত্ত্ব অনুসারে বিপ্লব শুরু করতে চেয়েছিলেন। গেরিলারা কয়েকটি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়। বলিভিয়ান সেনাবাহিনী তাঁদের ঘিরে ফেলে। তিনি যুদ্ধে আহত হন। তাঁর দল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এই অভিযান তাঁর শেষ বড় প্রচেষ্টা ছিল।
কীভাবে তিনি বন্দী হন?
১৯৬৭ সালের ৮ অক্টোবর তিনি বন্দী হন। বলিভিয়ান স্পেশাল ফোর্স তাঁদের ঘিরে ফেলে। তিনি পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। তিনি আত্মসমর্পণ করেন। তাঁকে লা হিগুয়েরা স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি রাত কাটান। সেনারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তিনি নিজের পরিচয় দেন। এরপর তাঁর মৃত্যুর আদেশ আসে।
চে গুয়েভারার মৃত্যুর ঘটনা কীভাবে ঘটেছিল?
চে গেভারাকে ৯ অক্টোবর সকালে হত্যা করা হয়। বলিভিয়ান প্রেসিডেন্টের নির্দেশে তাঁকে গুলি করা হয়। সার্জেন্ট মারিও তেরান তাঁকে গুলি করেন। তিনি শেষ কথা বলেন "গুলি করো, কাপুরুষ! তুমি শুধু একজন মানুষকে হত্যা করবে।" তিনি পায়ে, বুকে ও গলায় গুলিবিদ্ধ হন। তাঁর মৃত্যু ১:১০ মিনিটে ঘোষণা করা হয়। দেহ প্রদর্শন করা হয় সাংবাদিকদের সামনে। হাত কেটে রাখা হয় পরিচয়ের জন্য। দেহ অচিহ্নিত কবরে রাখা হয়। এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। তাঁর মৃত্যু তাঁকে শহীদে পরিণত করে।
তাঁর মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে কী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়?
তাঁর মৃত্যুর খবরে বিশ্বজুড়ে শোক প্রকাশ করা হয়। বামপন্থীরা তাঁকে শহীদ হিসেবে শ্রদ্ধা জানায়। অনেক দেশে প্রতিবাদ ও শোকসভা হয়। কিউবায় জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়। পশ্চিমা সরকারগুলো স্বস্তি প্রকাশ করে। তাঁর ছবি বিপ্লবের প্রতীক হয়ে ওঠে। ছাত্র ও যুবকরা তাঁকে অনুসরণ করতে শুরু করে। তাঁর মৃত্যু বিপ্লবী আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করে। এটি তাঁর কিংবদন্তি স্থায়ী করে।
তাঁর দেহাবশেষ কীভাবে খুঁজে পাওয়া হয়েছিল?
তাঁর দেহাবশেষ ১৯৯৭ সালে খুঁজে পাওয়া যায়। একটি ফরেনসিক দল ভ্যালেগ্রান্দে এলাকায় খনন করে। তারা অচিহ্নিত কবর খুঁজে পায়। দাঁতের গঠন ও অন্যান্য প্রমাণ দিয়ে শনাক্ত করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়। দেহাবশেষ কিউবায় ফেরত পাঠানো হয়। ১৯৯৭ সালের অক্টোবরে জাতীয় শ্রদ্ধা জানানো হয়। সান্তা ক্লারায় সমাধি স্থাপন করা হয়। এটি তাঁর পরিবার ও অনুসারীদের জন্য স্বস্তির।
চে গুয়েভারার রাজনৈতিক আদর্শ কী ছিল?
চে গেভারার রাজনৈতিক আদর্শ ছিল মার্কসবাদ-লেনিনবাদ। তিনি সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের বিরোধী ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিকতাবাদে বিশ্বাস করতেন। ফোকো তত্ত্ব তাঁর মূল অবদান। তিনি সশস্ত্র সংগ্রামকে প্রয়োজনীয় মনে করতেন। তিনি তৃতীয় বিশ্বের মুক্তির জন্য লড়াই করেন। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নৈতিক উদ্দীপনার ওপর জোর দেন। তিনি আমলাতন্ত্রের বিরোধী ছিলেন। বিপ্লবকে স্থায়ী করতে "নতুন মানুষ" তৈরির কথা বলেন। তাঁর আদর্শ বিশ্বব্যাপী বিপ্লবীদের অনুপ্রাণিত করে। এটি গুয়েভারিজম নামে পরিচিত।
তিনি সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদকে কীভাবে ব্যাখ্যা করতেন?
তিনি সমাজতন্ত্রকে শোষণমুক্ত সমাজ হিসেবে দেখতেন। সাম্যবাদকে চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে বর্ণনা করতেন। তিনি নৈতিক উদ্দীপনাকে বস্তুগত উদ্দীপনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। সমাজতন্ত্রে সবাই সমান অধিকার পাবে বলে বিশ্বাস করতেন। তিনি বিপ্লবী চেতনা জাগানোর ওপর জোর দেন। সাম্যবাদে রাষ্ট্রের অবলুপ্তি ঘটবে বলে মনে করতেন। তিনি আমলাতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের সমালোচনা করেন। তাঁর ব্যাখ্যা ছিল বাস্তববাদী ও আদর্শবাদী। এটি কিউবার নীতিকে প্রভাবিত করে।
তাঁর "নিউ ম্যান" (New Man) ধারণা কী ছিল?
তাঁর "নিউ ম্যান" ধারণা ছিল বিপ্লবী চেতনাসম্পন্ন মানুষ। এই মানুষ স্বার্থপরতা ত্যাগ করে সমাজের জন্য কাজ করবে। তিনি নৈতিক উদ্দীপনার মাধ্যমে এটি গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। স্বেচ্ছাশ্রম ও আত্মত্যাগ এর মূল বৈশিষ্ট্য। তিনি বস্তুগত পুরস্কারের বিরোধী ছিলেন। নতুন মানুষ সমাজতন্ত্রের ভিত্তি হবে বলে বিশ্বাস করতেন। এটি শিক্ষা ও প্রচারের মাধ্যমে তৈরি করা যাবে। তাঁর এই ধারণা কিউবার সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলে। এটি আজও আলোচিত হয়।
তিনি সশস্ত্র বিপ্লবকে কেন সমর্থন করতেন?
তিনি সশস্ত্র বিপ্লবকে সমর্থন করতেন কারণ শান্তিপূর্ণ পথ ব্যর্থ হয়। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন দিতে চায় না। তিনি ফোকো তত্ত্বে বিশ্বাস করতেন। ছোট গেরিলা দল জনগণকে জাগাতে পারে। তিনি দেখেছেন শোষণ শুধু সশস্ত্র লড়াইয়ে শেষ হয়। তিনি কিউবার অভিজ্ঞতা থেকে এটি শিখেছিলেন। সশস্ত্র সংগ্রাম তাঁর কাছে ন্যায়সঙ্গত ছিল। এটি তৃতীয় বিশ্বের মুক্তির পথ বলে মনে করতেন। তাঁর এই মতবাদ অনেককে অনুপ্রাণিত করে।
তাঁর অর্থনৈতিক দর্শনের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
তাঁর অর্থনৈতিক দর্শনের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা। তিনি নৈতিক উদ্দীপনাকে অগ্রাধিকার দেন। শিল্পায়ন ও বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি তাঁর লক্ষ্য ছিল। তিনি ভোগবাদ ও বস্তুবাদের বিরোধী ছিলেন। সমবায় ও জাতীয়করণকে সমর্থন করতেন। তিনি আমলাতন্ত্র কমিয়ে বিপ্লবী চেতনা বাড়াতে চেয়েছিলেন। অর্থনীতিকে সমাজতান্ত্রিক আদর্শের সাথে যুক্ত করতেন। তাঁর দর্শন কিউবার প্রাথমিক নীতিকে প্রভাবিত করে। এটি গুয়েভারিজমের অংশ।
চে গুয়েভারার উল্লেখযোগ্য বইগুলো কী কী?
চে গুয়েভারার সবচেয়ে বিখ্যাত বইগুলোর মধ্যে "গেরিলা ওয়ারফেয়ার" অন্যতম। এই বইতে তিনি গেরিলা যুদ্ধের কৌশল বর্ণনা করেছেন। "দ্য মোটরসাইকেল ডায়েরিজ" তাঁর প্রথম যৌবনের ভ্রমণের বিবরণ। "রেমিনিসেন্সেস অব দ্য কিউবান রেভোলিউশনারি ওয়ার" বিপ্লবের স্মৃতিকথা। "সোশ্যালিজম অ্যান্ড ম্যান ইন কিউবা" তাঁর আদর্শগত প্রবন্ধ। কঙ্গো ও বলিভিয়ার ডায়েরি পরবর্তীকালে প্রকাশিত হয়। এই বইগুলো তাঁর চিন্তাধারা ও অভিজ্ঞতার দলিল। তাঁর লেখা বিপ্লবীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে পঠিত হয়। এগুলো ইতিহাস ও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
"The Motorcycle Diaries" বইটির গুরুত্ব কী?
"দ্য মোটরসাইকেল ডায়েরিজ" চে গুয়েভারার রাজনৈতিক রূপান্তরের দলিল। এই বইতে তিনি লাতিন আমেরিকার দারিদ্র্য ও শোষণের চিত্র তুলে ধরেছেন। ভ্রমণ তাঁকে মার্কসবাদের দিকে ঝুঁকতে সাহায্য করে। বইটি তাঁর মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। এটি পরবর্তীতে বিপ্লবী আদর্শের ভিত্তি হয়ে ওঠে। ২০০৪ সালে এই বই অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পায়। বইটি যুবকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচিত হয়। এটি তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষ্য।
তাঁর ডায়েরিগুলো ইতিহাসে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
চে গুয়েভারার ডায়েরিগুলো প্রাথমিক ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো তাঁর ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা ও অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে। কঙ্গো ও বলিভিয়ার ডায়েরি তাঁর শেষ দিনের সাক্ষ্য। এগুলো থেকে তাঁর রাজনৈতিক বিবর্তন বোঝা যায়। ডায়েরিগুলো তাঁর আদর্শগত দ্বন্দ্ব ও সংকট দেখায়। ঐতিহাসিকরা এগুলোকে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে ব্যবহার করেন। এগুলো বিপ্লবী আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ দিক তুলে ধরে। ডায়েরিগুলো তাঁর মানবিক দুর্বলতাও প্রকাশ করে। এগুলো ইতিহাস রচনায় অমূল্য সম্পদ।
তাঁর বিখ্যাত উক্তিগুলোর অর্থ কী?
চে গুয়েভারার একটি বিখ্যাত উক্তি "হাস্তা লা ভিক্তোরিয়া সিয়েম্প্রে"। এর অর্থ সবসময় বিজয় পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া। তাঁর শেষ কথা "শুট, কাওয়ার্ড! ইউ আর অনলি গোয়িং টু কিল আ ম্যান"। এটি তাঁর সাহস ও মর্যাদাবোধ প্রকাশ করে। তিনি বলেছিলেন বিপ্লব পাকা আপেলের মতো নিজে থেকে পড়ে না। এর অর্থ বিপ্লব সক্রিয়ভাবে তৈরি করতে হয়। তাঁর উক্তি সমাজতান্ত্রিক আদর্শ ও আত্মত্যাগের কথা বলে। এগুলো যুবকদের অনুপ্রাণিত করে। উক্তিগুলো তাঁর আদর্শগত দৃঢ়তা দেখায়। এগুলো আজও রাজনৈতিক আলোচনায় উদ্ধৃত হয়। তাঁর কথা বিপ্লবী চেতনার প্রতীক হয়ে আছে।
তাঁর ভাষণগুলো কেন আলোচিত?
চে গুয়েভারার ভাষণগুলো তাঁর আবেগপূর্ণ ও যুক্তিপূর্ণ বক্তৃতার জন্য আলোচিত। ১৯৬৪ সালের জাতিসংঘের ভাষণ বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলে। সেখানে তিনি সাম্রাজ্যবাদের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষণে তৃতীয় বিশ্বের মুক্তির কথা উঠে আসে। তিনি বিপ্লব রপ্তানির আহ্বান জানাতেন। ভাষণগুলো তাঁর আন্তর্জাতিকতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। এগুলো কিউবার পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন। ভাষণগুলো তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। এগুলো আজও রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।
চে গুয়েভারাকে কেন অনেক মানুষ নায়ক মনে করেন?
চে গুয়েভারাকে অনেকে নায়ক মনে করেন তাঁর আত্মত্যাগের জন্য। তিনি স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে বিপ্লবের জন্য লড়াই করেছেন। তাঁর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী অবস্থান অনেককে অনুপ্রাণিত করে। তিনি দরিদ্র ও শোষিতদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর আইকনিক ছবি বিপ্লবের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তিনি "নতুন মানুষ" তৈরির আদর্শ প্রচার করেছেন। তাঁর সাহস ও নিষ্ঠা অনেকের কাছে আদর্শ। তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগ করে আন্তর্জাতিকতাবাদ গ্রহণ করেছেন। তাঁর মৃত্যু তাঁকে শহীদের মর্যাদা দিয়েছে। অনেকে তাঁকে ন্যায়ের লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে দেখেন। তাঁর জীবন অনেককে সামাজিক পরিবর্তনের পথে অনুপ্রাণিত করে।
তাঁকে নিয়ে সবচেয়ে বড় সমালোচনাগুলো কী?
চে গুয়েভারার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সমালোচনা লা কাবানায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের। সমালোচকরা বলেন তিনি সারাংশ বিচার ছাড়াই অনেককে হত্যা করেছেন। তাঁর প্রাথমিক ডায়েরিতে জাতিগত কুসংস্কারের অভিযোগ আছে। তাঁর অর্থনৈতিক নীতি কিউবার অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে বলে অনেকে মনে করেন। ফোকো তত্ত্ব অন্য দেশে ব্যর্থ হয়েছে। সমালোচকরা তাঁকে কর্তৃত্ববাদী ও সহিংস বলে অভিহিত করেন। তাঁর শ্রমশিবির সমর্থনের সমালোচনা আছে। কেউ কেউ তাঁকে সন্ত্রাসী হিসেবে দেখেন। এসব সমালোচনা তাঁর উত্তরাধিকারকে বিতর্কিত করে। তবুও তাঁর সমর্থকরা এগুলোকে প্রসঙ্গগত বলে দাবি করেন।
ইতিহাসবিদদের মধ্যে তাঁকে নিয়ে কী ধরনের মতভেদ রয়েছে?
ইতিহাসবিদদের মধ্যে চে গুয়েভারা নিয়ে গভীর মতভেদ রয়েছে। কেউ তাঁকে আদর্শবাদী নায়ক হিসেবে দেখেন। অন্যরা তাঁকে নির্মম হত্যাকারী বলে অভিহিত করেন। কেউ তাঁর ফোকো তত্ত্বকে বাস্তবসম্মত মনে করেন। অনেকে এটিকে অবাস্তব ও ক্ষতিকর বলে সমালোচনা করেন। কেউ তাঁর অর্থনৈতিক দর্শনকে উদ্ভাবনী বলে প্রশংসা করেন। অন্যরা এটিকে ব্যর্থ ও ক্ষতিকর বলে মনে করেন। কেউ তাঁর আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা করেন। অনেকে তাঁর ব্যক্তিগত কুসংস্কারকে তুলে ধরেন। এই মতভেদ তাঁর উত্তরাধিকারকে জটিল করে রেখেছে। ইতিহাসবিদরা তাঁকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেন। এটি তাঁর জীবনকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে।
তাঁর মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে বিতর্ক কেন রয়েছে?
চে গুয়েভারার মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে বিতর্ক রয়েছে কারণ লা কাবানায় তাঁর ভূমিকা। সমালোচকরা বলেন তিনি ন্যায্য বিচার ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছেন। তাঁর ডায়েরিতে জাতিগত ও যৌনপ্রবণতার প্রতি কুসংস্কারের প্রমাণ আছে। তিনি শ্রমশিবির সমর্থন করেছেন বলে অভিযোগ আছে। সমর্থকরা বলেন এগুলো বিপ্লবের প্রয়োজনে ছিল। তাঁরা দাবি করেন বাতিস্তা সরকারের অত্যাচারের প্রতিক্রিয়া ছিল। বিতর্ক তাঁর ব্যক্তিগত দুর্বলতা ও আদর্শের দ্বন্দ্ব তুলে ধরে। ইতিহাসবিদরা এই রেকর্ডকে প্রসঙ্গে বিশ্লেষণ করেন। এটি তাঁর উত্তরাধিকারকে জটিল ও বিতর্কিত করে রেখেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই বিষয়ে বিভক্ত।
তাঁর সমর্থক ও সমালোচকদের প্রধান যুক্তিগুলো কী?
চে গুয়েভারার সমর্থকরা বলেন তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তাঁরা তাঁর আত্মত্যাগ ও সাহসের প্রশংসা করেন। সমর্থকরা তাঁর "নতুন মানুষ" ধারণাকে অনুপ্রেরণামূলক মনে করেন। তাঁরা দাবি করেন তিনি দরিদ্রদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। সমালোচকরা বলেন তিনি সহিংসতা ও হত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁরা তাঁর অর্থনৈতিক নীতিকে ব্যর্থ বলে সমালোচনা করেন। সমালোচকরা তাঁর ডায়েরির কুসংস্কার তুলে ধরেন। তাঁরা তাঁকে কর্তৃত্ববাদী ও অমানবিক বলে অভিহিত করেন। সমর্থকরা এগুলোকে প্রসঙ্গগত ও বিপ্লবের প্রয়োজন বলে দাবি করেন। সমালোচকরা বলেন তাঁর পদ্ধতি আরও নিপীড়ন তৈরি করেছে। সমর্থকরা তাঁকে শহীদ ও আদর্শ হিসেবে দেখেন। সমালোচকরা তাঁকে সতর্কবার্তা হিসেবে উপস্থাপন করেন। এই দ্বন্দ্ব তাঁর উত্তরাধিকারকে জীবন্ত রেখেছে।
চে গুয়েভারার বিখ্যাত ছবিটি কে তুলেছিলেন?
চে গুয়েভারার বিখ্যাত ছবিটি তুলেছিলেন আলবার্তো কোর্দা। এটি ১৯৬০ সালের ৫ মার্চ তোলা হয়। ছবিটি হাভানায় একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সমাবেশে তোলা। কোর্দা তখন কিউবার সরকারি ফটোগ্রাফার ছিলেন। তিনি দ্রুত একটি ছবি তুলে নেন। এটি পরে "গেরিলেরো হিরোইকো" নামে পরিচিত হয়। ছবিটি চে-র চোখের দৃষ্টি ও বেরেটের জন্য বিখ্যাত। কোর্দা এই ছবির কোনো কপিরাইট নেননি। এটি বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিলিপিকৃত ছবিগুলোর একটি।
তাঁর প্রতিকৃতি কীভাবে বিশ্বজুড়ে বিপ্লবের প্রতীকে পরিণত হয়?
চে গুয়েভারার প্রতিকৃতি আলবার্তো কোর্দার ছবি থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬০-এর দশকে বামপন্থী আন্দোলনগুলো এটি ব্যবহার শুরু করে। ছবিটি পোস্টার, ব্যানার ও টি-শার্টে ছাপা হয়। এটি যুবকদের মধ্যে বিদ্রোহ ও আদর্শের প্রতীক হয়ে ওঠে। ১৯৬৭ সালে তাঁর মৃত্যুর পর এর জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে। ছবিটি বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহৃত হয়, যা আদর্শের সাথে বিরোধ তৈরি করে। সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে এটি শ্রদ্ধার প্রতীক। পশ্চিমে এটি কাউন্টার-কালচারের প্রতীক হয়। আজও এটি বিপ্লব ও প্রতিরোধের সর্বজনীন প্রতীক হিসেবে টিকে আছে। ছবিটির সরলতা ও শক্তি এর প্রভাব বাড়িয়েছে।
জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে (চলচ্চিত্র, বই, গান, শিল্প) তাঁর প্রভাব কী?
চে গুয়েভারা জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছেন। ২০০৪ সালের "দ্য মোটরসাইকেল ডায়েরিজ" চলচ্চিত্র তাঁর যৌবনকে তুলে ধরে। অনেক গানে তাঁর নাম ও আদর্শ উল্লেখ আছে। শিল্পীরা তাঁর ছবি ব্যবহার করে পোস্টার ও ম্যুরাল তৈরি করেন। বইয়ে তাঁর জীবন নিয়ে অসংখ্য জীবনী লেখা হয়েছে। তাঁর প্রতিকৃতি ফ্যাশন ও শিল্পে ব্যবহৃত হয়। অনেক নাটক ও ডকুমেন্টারিতে তাঁকে দেখানো হয়। তাঁর উক্তি গান ও কবিতায় উদ্ধৃত হয়। এই প্রভাব তাঁকে সাংস্কৃতিক আইকনে পরিণত করেছে। তবে কেউ কেউ এটিকে বাণিজ্যিকীকরণ বলে সমালোচনা করেন।
বর্তমান রাজনীতিতে তাঁর আদর্শ কতটা প্রভাবশালী?
চে গুয়েভারার আদর্শ বর্তমান রাজনীতিতে প্রতীকীভাবে প্রভাবশালী। অনেক বামপন্থী দল ও আন্দোলন তাঁকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখে। লাতিন আমেরিকার কিছু নেতা তাঁর নাম উল্লেখ করেন। তবে সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতায় তাঁর প্রভাব কম। তাঁর ফোকো তত্ত্ব আজকের গেরিলা আন্দোলনে কম ব্যবহৃত হয়। তাঁর ছবি প্রতিবাদ ও সামাজিক আন্দোলনে ব্যবহৃত হয়। যুবকদের মধ্যে তিনি এখনও আদর্শবাদের প্রতীক। তবে বাস্তব রাজনীতিতে তাঁর পদ্ধতি বিতর্কিত। আজকের বিশ্বে তিনি বেশি প্রতীকী চরিত্র। তাঁর আদর্শ সমতা ও ন্যায়ের লড়াইয়ে অনুপ্রাণিত করে।
বিভিন্ন দেশে তাঁকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়?
কিউবায় চে গুয়েভারাকে জাতীয় নায়ক হিসেবে শ্রদ্ধা করা হয়। সেখানে তাঁর সমাধি ও স্মৃতিস্তম্ভ আছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেকে তাঁকে সন্ত্রাসী বা বিতর্কিত চরিত্র মনে করে। লাতিন আমেরিকার কিছু দেশে তিনি বিপ্লবের প্রতীক। ইউরোপে তিনি বামপন্থী আদর্শের প্রতীক হিসেবে জনপ্রিয়। আফ্রিকায় তাঁর কঙ্গো অভিযানের কারণে মিশ্র মতামত আছে। বলিভিয়ায় তাঁর মৃত্যুর স্থান স্মৃতিস্তম্ভে পরিণত হয়েছে। কিছু দেশে তাঁকে শহীদ বলা হয়। অন্য দেশে তাঁকে সহিংসতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এই মূল্যায়ন দেশভেদে ব্যাপকভাবে ভিন্ন।
চে গুয়েভারার ব্যক্তিগত জীবন কেমন ছিল?
চে গুয়েভারার ব্যক্তিগত জীবন ছিল সরল ও কঠোর। তিনি শৈশব থেকে অ্যাজমায় ভুগতেন। তিনি দুইবার বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী হিলদা গাদেয়া, দ্বিতীয় আলেইদা মার্চ। তিনি পাঁচ সন্তানের জনক। তিনি বিলাসিতা এড়িয়ে চলতেন। তাঁর জীবনযাপন ছিল তপস্বীসুলভ। তিনি প্রচুর বই পড়তেন ও লিখতেন। তিনি পরিবারের চেয়ে বিপ্লবকে অগ্রাধিকার দিতেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল চিন্তাশীল ও সাহসী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের সম্পর্কে কী জানা যায়?
চে গুয়েভারার প্রথম স্ত্রী ছিলেন হিলদা গাদেয়া। তাঁদের এক কন্যা সন্তান ছিল। দ্বিতীয় স্ত্রী আলেইদা মার্চের সাথে তাঁর পাঁচ সন্তান। সন্তানরা হলেন আলেইদা, কামিলো, সেলিয়া, এরনেস্তো ও আনা মারিয়া। আলেইদা মার্চ পরবর্তীকালে কিউবার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। সন্তানরা বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত আছেন। কেউ কেউ তাঁর আদর্শ অনুসরণ করেন। পরিবার তাঁর মৃত্যুর পর অনেক কষ্ট সহ্য করেছে। আজও তাঁর সন্তানরা তাঁর উত্তরাধিকার রক্ষা করেন।
তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়রেখা (Timeline) কী?
১৯২৮ সালে আর্জেন্টিনায় চে গুয়েভারার জন্ম। ১৯৫১-৫২ সালে মোটরসাইকেল ভ্রমণ। ১৯৫৩ সালে চিকিৎসকের ডিগ্রি। ১৯৫৫ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে পরিচয়। ১৯৫৬ সালে গ্রানমা অবতরণ। ১৯৫৮ সালে সান্তা ক্লারা দখল। ১৯৫৯ সালে কিউবান বিপ্লবের বিজয়। ১৯৫৯-৬৫ সালে কিউবার সরকারে দায়িত্ব। ১৯৬৫ সালে কিউবা ত্যাগ। ১৯৬৫ সালে কঙ্গো অভিযান। ১৯৬৬-৬৭ সালে বলিভিয়া অভিযান। ১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর মৃত্যু। ১৯৯৭ সালে দেহাবশেষ উদ্ধার।
চে গুয়েভারা সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো কী কী?
অনেকে মনে করেন চে গুয়েভারা কিউবান ছিলেন, কিন্তু তিনি আর্জেন্টাইন। কেউ কেউ তাঁকে বিপ্লবের একমাত্র নেতা মনে করেন, যদিও ফিদেল কাস্ত্রো প্রধান ছিলেন। অনেকে তাঁর অর্থনৈতিক ভূমিকাকে অতিরঞ্জিত করেন। কেউ কেউ তাঁকে শুধু রোমান্টিক চরিত্র হিসেবে দেখেন। তাঁর ডায়েরির কুসংস্কার অনেকে অজানা রাখেন। কেউ কেউ তাঁর মৃত্যুকে শুধু শহীদত্ব হিসেবে দেখেন। অনেকে তাঁর ফোকো তত্ত্বকে সফল মনে করেন, যদিও ব্যর্থ হয়েছে। তাঁকে শুধু টি-শার্টের আইকন হিসেবে দেখা একটি ভুল ধারণা। এসব ভুল ধারণা তাঁর জটিল চরিত্রকে সরল করে ফেলে।
আজকের বিশ্বে চে গুয়েভারার উত্তরাধিকার (Legacy) কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়?
আজকের বিশ্বে চে গুয়েভারার উত্তরাধিকার অত্যন্ত বিতর্কিত ও জটিল। অনেকে তাঁকে সমতা ও ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে দেখেন। তাঁর ছবি এখনও প্রতিবাদ ও বিদ্রোহের প্রতীক। সমালোচকরা তাঁর সহিংসতা ও ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর আদর্শ আজকের বামপন্থী আন্দোলনে প্রতীকীভাবে ব্যবহৃত হয়। বাণিজ্যিকীকরণ তাঁর আদর্শকে দুর্বল করেছে বলে অনেকে মনে করেন। কিউবায় তিনি এখনও আদর্শ হিসেবে শেখানো হয়। পশ্চিমে তিনি কাউন্টার-কালচারের প্রতীক। তাঁর উত্তরাধিকার নায়কত্ব ও সমালোচনার মধ্যে দোদুল্যমান। আজকের বিশ্বে তিনি প্রতীকী চরিত্র হিসেবে বেঁচে আছেন। তাঁর জীবন ন্যায় ও সংগ্রামের চিরন্তন প্রশ্ন তুলে ধরে।