বিশ্বখ্যাত ব্যবসায়ী এবং মার্কিন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য ও তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ নিয়ে মানুষের কৌতূহল দীর্ঘদিনের। কিন্তু ২০০৫ সালে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী বইয়ের সূত্র ধরে তৈরি হয়েছিল আমেরিকার আইনি ইতিহাসের অন্যতম চাঞ্চল্যকর ও ব্যয়বহুল বিতর্ক। লেখক ও প্রথিতযশা সাংবাদিক টিমোথি এল. ও’ব্রায়েন তার ট্রাম্পনেশন নামের আলোচিত বইটিতে ভেতরের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেন যে, ট্রাম্প নিজেকে যতটা ধনী হিসেবে জনসমক্ষে তুলে ধরেন, বাস্তবে তার আর্থিক সম্পদের পরিমাণ তার চেয়ে অনেক কম। বইটিতে দাবি করা হয় যে, ট্রাম্পের প্রকৃত সম্পদের আর্থিক মূল্য ছিল মাত্র পনেরো থেকে পঁচিশ কোটি ডলারের কাছাকাছি, যেখানে ট্রাম্প নিজে প্রচার করতেন যে তিনি বহু শত কোটি বা বিলিয়ন ডলারের মালিক। এই প্রকাশনার পরই নিজের বাণিজ্যিক ভাবমূর্তি এবং ব্র্যান্ডের মর্যাদা রক্ষার কথা বলে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প লেখক ও প্রকাশনা সংস্থার বিরুদ্ধে আদালতে পাঁচশত কোটি ডলার বা পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বিশাল এক মানহানি মামলা দায়ের করেন। ট্রাম্পের উদ্দেশ্য ছিল এই মামলার মাধ্যমে তার সমালোচকদের মুখে তালা দেওয়া এবং নিজের বহু বিলিয়ন ডলারের ভাবমূর্তি অটুট রাখা। তবে আইন আদালতের লড়াই যখন শুরু হয়, তখন বিষয়টি পুরো ভিন্ন এক রূপ নেয় এবং ঘটনাটি নিজেই ট্রাম্পের জন্য তীব্র অস্বস্তি ও জটিল এক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়। আদালতের প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে নিজের দাবির সত্যতা প্রমাণ করতে গিয়ে ট্রাম্পকে মুখোমুখি হতে হয়েছিল প্রতিপক্ষের তুখোড় আইনজীবীদের একের পর এক অনুসন্ধানী প্রশ্নের। শেষ পর্যন্ত দুই দিনব্যাপী শপথবদ্ধ জবানবন্দি, দীর্ঘ কয়েক বছরের আইনি যুক্তিতর্ক এবং নিরপেক্ষ তদন্তের পর আদালতের স্পষ্ট রায়ে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়। এই ঐতিহাসিক বিচারিক লড়াই শুধু যে ট্রাম্পের বিপুল অঙ্কের মামলার পরাজয়ে শেষ হয়েছিল তা নয়, বরং এতে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল কীভাবে ব্যবসা জগতে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করা হয় এবং আইনের সামনে সত্য কতটা কঠোরভাবে যাচাই করা হয়।
একটি বই এবং পাঁচশত কোটি ডলারের নজিরবিহীন মানহানি মামলার সূচনা
পুরো ঘটনার গোড়াপত্তন হয়েছিল ২০০৫ সালের শেষভাগে, যখন সাংবাদিক টিমোথি ও’ব্রায়েনের অনুসন্ধানী বই বাজারে আসে। লেখক দীর্ঘদিন ধরে নিউ ইয়র্কের আবাসন খাত এবং নামীদামি ধনকুবেরদের ব্যবসা বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ট্রাম্পের কর্মজীবনের উত্থান পতন ও তার বিলাসবহুল লাইফস্টাইল বিশ্লেষণ করার সময় লেখক ট্রাম্পের আর্থিক নথিপত্র এবং তার সাথে সরাসরি কাজ করা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মূল্যায়ন জানতে পারেন। বইটিতে খুব স্পষ্ট করেই তুলে ধরা হয় যে, জনসম্মুখে ট্রাম্প যে বিলিয়নিয়ার বা শত কোটিপতি হিসেবে নিজের পরিচয় দিতেন, তার মূল অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাথে এর আকাশ পাতাল তফাত ছিল। ও’ব্রায়েনের হিসাব অনুযায়ী তার আসল নিট সম্পদ পনেরো থেকে পঁচিশ কোটি ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। এই তথ্য বাজারে আসার পরপরই ট্রাম্পের ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে এক ধরনের অস্বস্তিকর শোরগোল শুরু হয়। ট্রাম্প ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, ও’ব্রায়েনের এই অনুমান ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর ফলে বিভিন্ন নতুন আবাসন প্রকল্পের চুক্তি, আন্তর্জাতিক লাইসেন্সিং চুক্তি এবং ব্যাংকের সাথে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ট্রাম্প ব্র্যান্ডের বিরাট অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। সেই যুক্তি দেখিয়ে ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে নিউ জার্সির উচ্চ আদালতে ও’ব্রায়েন এবং বইটির প্রকাশক ওয়ার্নার বুকসের বিরুদ্ধে তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে বড় মানহানি মামলাগুলোর একটি দায়ের করা হয়, যার দাবি করা ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ছিল অবিশ্বাস্য পাঁচশত কোটি ডলার। ট্রাম্প প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন যে, কোনো লেখককে তার আর্থিক সততা এবং প্রতিষ্ঠিত সাফল্যের ভিত্তিকে এভাবে কালিমালিপ্ত করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে লেখকের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, তারা কোনো অসত্য তথ্য প্রকাশ করেননি, বরং যথাযথ দায়িত্বশীলতা এবং বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতেই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পরিচালনা করেছেন। ফলে একটি প্রকাশনা সংক্রান্ত বিরোধ শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ের এক বিশাল রূপ নিয়ে নিউ জার্সির আদালতের কাঠগড়ায় পৌঁছায়।
আদালতের কাঠগড়ায় দুই দিনের কঠিন জেরা এবং ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি
মানহানি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া যখন তথ্য প্রমাণের স্তরে পৌঁছায়, তখন ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রতিপক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে টানা দুই দিন দীর্ঘ সময় ধরে শপথবদ্ধ জবানবন্দি দিতে বাধ্য করা হয়। এই জবানবন্দিটি ট্রাম্পের দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবনের অন্যতম আলোচিত এবং তথ্যসমৃদ্ধ দস্তাবেজ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। কারণ আদালতের নিয়ম অনুযায়ী শপথ নিয়ে সত্য কথা বলতে বাধ্য থাকার কারণে সেখানে সাধারণ প্রচারণামূলক মনগড়া বক্তব্য দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। ও’ব্রায়েনের আইনজীবী মেরি জো হোয়াইট এবং তার দল ট্রাম্পের সম্পদ মূল্যায়ন, বিভিন্ন বিলাসবহুল ভবনের দাম নির্ধারণ, বক্তৃতার পারিশ্রমিক এবং ব্যাংকে জমাকৃত নগদ অর্থের প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে অত্যন্ত খুঁটিনাটি জেরা শুরু করেন। এই জেরার মুখেই ট্রাম্পের প্রচারিত বিপুল সম্পদের দাবির পেছনের হিসাবের ফাঁকফোকরগুলো স্পষ্টভাবে বেরিয়ে আসে। যখন ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয় যে তিনি কীভাবে তার সম্পদের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করেন, তখন তিনি অত্যন্ত সরলভাবে স্বীকার করেন যে তার নিট সম্পদের পরিমাপ কোনো নির্দিষ্ট অডিট বা লিখিত কাগজপত্রের হিসাব মেনে চলে না, বরং এটি অনেকাংশেই তার ব্যক্তিগত মেজাজ এবং অনুভূতির ওপর নির্ভর করে দিন দিন ওঠানামা করে। ট্রাম্প জানান, তিনি যখন নিজের ভবিষ্যৎ ও বিশ্ব অর্থনীতির গতিধারা নিয়ে ইতিবাচক এবং দারুণ অনুভূতি অনুভব করেন, তখন তিনি নিজের সম্পদের মূল্যায়ন এক ধাক্কায় অনেক গুণ বাড়িয়ে ধরেন, আবার খারাপ লাগলে বা পরিস্থিতি প্রতিকূল মনে হলে সেই মূল্যায়নে পরিবর্তন আসে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট প্রপার্টি বা গলফ কোর্সের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তিনি নিজের নাম বা ব্র্যান্ড ভ্যালুকে ইচ্ছেমতো বিপুল অঙ্কে যোগ করতেন। একটি সুনির্দিষ্ট বক্তৃতার প্রসঙ্গে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, যার জন্য তিনি জনসমক্ষে দশ লাখ ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছেন বলে প্রচার করেছিলেন, জেরার মুখে ট্রাম্প স্বীকার করতে বাধ্য হন যে তিনি সেখানে নগদ পেয়েছিলেন মাত্র চার লাখ ডলার, বাকি অংশটিকে তিনি ভবিষ্যত প্রচারণার বাণিজ্যিক মূল্য হিসেবে ধরে নিয়ে দশ লাখ বানিয়েছিলেন। এই ধরনের স্ববিরোধী এবং অনুভূতি নির্ভর হিসাব আদালতের নথিতে লিপিবদ্ধ হয়, যা ট্রাম্পের আইনি অবস্থানকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে ফেলেছিল।
আইনি লড়াইয়ে চূড়ান্ত পরাজয় এবং আদালতের কঠোর রায়
আদালতে ট্রাম্পের দেওয়া এই স্বীকারোক্তি এবং পেশাদার হিসাববিজ্ঞানের সাথে তার বক্তব্যের অমিল মামলার গতি পুরোপুরি পরিবর্তন করে দেয়। নিউ জার্সির বিচারিক আদালতের বিচারক উভয় পক্ষের সমস্ত প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং দীর্ঘ আইনি যুক্তি বিশ্লেষণ করার পর দেখতে পান যে, ট্রাম্পের মানহানির অভিযোগটির কোনো জোরালো আইনি ভিত্তি নেই। আমেরিকার মানহানি আইন অনুযায়ী কোনো সুপরিচিত বা পাবলিক ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে মানহানি প্রমাণ করতে হলে শুধু তথ্য ভুল হওয়া যথেষ্ট নয়, সেখানে এটিও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হয় যে লেখক বা সাংবাদিক ইচ্ছাকৃত বিদ্বেষ থেকে জেনেবুঝে সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছেন অথবা সত্যের প্রতি চরম অবহেলা দেখিয়েছেন। ২০০৯ সালে নিউ জার্সির নিম্ন আদালত ট্রাম্পের পাঁচশত কোটি ডলারের মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দেয়। রায়ে উল্লেখ করা হয় যে, লেখক ও’ব্রায়েন পেশাদার নীতি মেনেই বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন এবং ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে কোনো ইচ্ছাকৃত অসততা বা বিদ্বেষ প্রমাণ করতে পারেননি। নিম্ন আদালতের এই আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প হাল না ছেড়ে উচ্চতর আপিল আদালতে যান। কিন্তু ২০১১ সালে নিউ জার্সির উচ্চ আপিল বিভাগও ট্রাম্পের আপিল খারিজ করে দিয়ে নিম্ন আদালতের রায়কেই সম্পূর্ণ বহাল রাখে। উচ্চ আদালতের তিন বিচারপতির বেঞ্চ সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, লেখকের তথ্যসূত্রগুলো যুক্তিযুক্ত ছিল এবং ট্রাম্প নিজের সম্পদের যে অবাস্তব মূল্য দাবি করছিলেন, তা সাংবাদিকের সূত্রের তথ্যের মাধ্যমে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করার পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। ফলে পাঁচ বছরব্যাপী চলা এই সাড়া জাগানো পাঁচ বিলিয়ন ডলারের মামলার চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প আদালত থেকে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা প্রতিকার পেতে ব্যর্থ হন। উল্টো পুরো আইনি প্রক্রিয়াটি তার ব্যবসায়িক হিসাবের অসংগতিকে সর্বসমক্ষে উন্মুক্ত করে দিয়েছিল।
মামলার নেপথ্যের উদ্দেশ্য এবং আধুনিক বাণিজ্যে ভাবমূর্তির রাজনীতি
এই দীর্ঘ ও আলোচিত মামলার আপাত সমাপ্তির পর একটি বড় প্রশ্ন থেকে গিয়েছিল যে, নিজের হিসাব যেখানে দুর্বল ছিল, সেখানে কেন ট্রাম্প এত বিশাল অঙ্কের মামলায় জড়াতে গিয়েছিলেন। সেই প্রশ্নের উত্তর পরবর্তীতে নিজেই পরিষ্কার করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন যে, তিনি আগে থেকেই জানতেন আদালতে হয়তো এই মামলায় জয়লাভ করা কঠিন হতে পারে, কিন্তু মামলার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। ট্রাম্প জানান যে, তিনি মূলত চেয়েছিলেন ওই লেখক এবং প্রকাশককে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক ব্যয়বহুল আইনি লড়াইয়ের জটিলতায় ফেলে দিতে, যাতে তাদের বিশাল অঙ্কের অর্থ আইনজীবীদের পেছনে খরচ হয় এবং ভবিষ্যতে কেউ যাতে সহজে তার ব্যবসায়িক সাফল্য নিয়ে প্রকাশ্যে এমন প্রশ্ন তোলার সাহস না পায়। অর্থাৎ আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার চেয়েও প্রতিপক্ষকে মানসিক ও আর্থিকভাবে চাপে রাখাই ছিল এই মামলার এক অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য। এই পুরো ঘটনাটি আধুনিক বাণিজ্য জগতে ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং ব্যক্তিগত সুনামের মনস্তাত্ত্বিক রাজনীতিকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলে। রিয়েল এস্টেট ও করপোরেট জগতে কোনো ব্যক্তির তথাকথিত সম্পদের অতিরঞ্জিত পরিসংখ্যান অনেক সময় কেবল ব্যক্তিগত অহংকার নয়, বরং ব্যাংক থেকে বিপুল ঋণ পাওয়া, ব্যবসায়িক অংশীদারদের আশ্বস্ত করা এবং বিশাল প্রকল্প বাগিয়ে নেওয়ার একটি কার্যকারী ব্যবসায়িক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ও’ব্রায়েনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই মামলাটি তাই প্রমাণ করে যে, আলো ঝলমলে প্রচারণার আড়ালে থাকা অর্থনৈতিক ভিত্তি সবসময় একই রকম থাকে না এবং তথ্যের স্বাধীন অনুসন্ধান ও আইনি বিচারব্যবস্থা সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালীদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পুরোপুরি সক্ষম।